
রাজধানীর দারুস সালামের গাবতলী এলাকায় রিকশাচালককে ঘিরে ধরে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, প্রথমে হাসি-ঠাট্টা ও কথাবার্তার মধ্যেই ওই রিকশাচালককে ঘিরে ধরে তারা। পরে তর্কাতর্কি থেকে শুরু হয় মারধর। একপর্যায়ে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় তিনজন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দারুস সালামের বাগবাড়ি এলাকার একটি চায়ের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ফারফিন, জিহাদ ও সাঈদ নামে তিন কিশোর চায়ের দোকানে আসে। কিছুক্ষণ পর সেখানে খেতে আসেন রিকশাচালক ইমন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হয়। পরে তা গড়ায় কথা-কাটাকাটিতে।
হঠাৎ ইমনকে ঘিরে ধরে তিন কিশোর। শুরু হয় চড়-থাপ্পড় ও মারধর। কয়েক মিনিট ধরে তাকে মারধর করা হলেও আশপাশে থাকা কেউ তাদের থামাতে এগিয়ে আসেননি। একপর্যায়ে ইমনকে ছুরিকাঘাত করে দৌড়ে পালিয়ে যায় তারা। গুরুতর আহত অবস্থায় রিকশার ওপরই মারা যান ইমন।
পরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে অজ্ঞাত হিসেবে রাখা হয় তার মরদেহ। ইন্টারনেটে ছবি দেখে ছেলেকে শনাক্ত করেন ইমনের মা মোছাম্মদ কাকলী।
তিনি বলেন, দারুস সালাম থানা থেকে ঠিকানা দিয়ে জানানো হয়, ইমন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আছে। ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
নিহতের চাচা মোহাম্মদ স্বপন জানান, ইমনের সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। কারও সঙ্গে কোনো লেনদেনের বিরোধও ছিল না। তিনি ব্যবসা ও বিভিন্ন কাজ করতেন।
ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে ডিবি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তিন কিশোরকে শনাক্ত করা হয়। পরে ঢাকা, ভোলা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবির তদন্তে বেরিয়ে আসে, ঘটনার দিন পার্টি শেষে ফারফিন ও জিহাদ রাস্তায় ইমনকে দাঁড় করিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকে। তার দেওয়া উত্তর পছন্দ না হওয়ায় একপর্যায়ে তার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে তারা। এরপরই ঘটে হত্যাকাণ্ড।
ডিএমপির মিরপুর বিভাগের ডিসি রাকিব খান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সাঈদের সেদিন জন্মদিন ছিল। জন্মদিনের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর আবার তিনজন একসঙ্গে দেখা করে। তখন অন্য দুজন সাঈদকে ঘটনাটি জানায়।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার দুই দিন আগে সাঈদ ফুটপাত থেকে ৬৫০ টাকা দিয়ে একটি সুইচগিয়ার ছুরি কিনেছিল। সেই ছুরি কেনা এবং নিজেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ভাবার মানসিকতা কিশোরদের এমন নির্মম আচরণের পেছনে ভূমিকা রেখেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, কোনো বড় ধরনের বিরোধ বা পূর্বশত্রুতা ছাড়াই সামান্য কথাকাটাকাটি থেকে একজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, কিশোরদের মধ্যে সহিংসতার প্রতি ভয় কমে যাওয়া, অস্ত্র বহনের প্রবণতা এবং অপরাধকে ‘অ্যাডভেঞ্চার’ হিসেবে দেখার মানসিকতা এমন ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
একজন রিকশাচালকের প্রাণ গেল কয়েক মিনিটের উচ্ছৃঙ্খলতায় আর এই হত্যাকাণ্ড নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, কিশোরদের হাতে অস্ত্র পৌঁছাচ্ছে কীভাবে, আর সামান্য বিরোধেই কেন জীবন কেড়ে নেওয়ার মতো নির্মমতা তৈরি হচ্ছে?
আরটিভি/এসকে




