ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০০ এএম
হ্যাকিং গুরু’ ওহিদুল। ছবি: সংগৃহীত

রাজমিস্ত্রির সহকারী থেকে রিকশাচালক। এরপর হঠাৎ রিকশা ছেড়ে হ্যাকিংয়ে জড়িয়ে পড়া। মাত্র পাঁচ বছরে বদলে যায় নাটোরের লালপুরের ওহিদুল মোল্লার জীবনযাত্রা। পুলিশের দাবি, হ্যাকিংয়ের পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন তিনি। এলাকায় পরিচিতি পান ‘হ্যাকিং গুরু’ হিসেবে।

ওহিদুল মোল্লা (৩২) লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের মৃত রাব্বেল মোল্লার ছেলে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হ্যাকিং কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালাতে নিজের বাড়ি ও আশপাশে অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন তিনি। কবুতরের খামারের আড়ালে তৈরি করেছিলেন গোপন আস্তানা। সেখানেই বসে চলত হ্যাকিং কার্যক্রম।

ওহিদুলের চাচাতো ভাই সেন্টু মোল্লা জানান, বাবার মৃত্যুর পর লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেননি ওহিদুল। মাদ্রাসার পড়াশোনা ছেড়ে দিনমজুরি এবং পরে রিকশা চালানো শুরু করেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে হঠাৎ রিকশা চালানো ছেড়ে স্থানীয় হ্যাকারদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন তিনি।

অল্প সময়ের মধ্যেই হ্যাকিংয়ে দক্ষতা অর্জন করেন ওহিদুল। পরে তার তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠে একটি বড় হ্যাকিং চক্র। হ্যাকিং ও মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মোহরকয়া গ্রামের পৈতৃক বাড়ির পাশাপাশি বিলমাড়িয়ায় পদ্মা নদীর তীরে আরেকটি পাকা বাড়ি করেন ওহিদুল। তার রয়েছে মহিষ ও কবুতরের বড় খামার। বাড়িটি উঁচু ইটের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। প্রবেশের জন্য রয়েছে একটি মাত্র ফটক। স্থানীয়দের তেমন যাতায়াত না থাকলেও গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে তরুণদের আনাগোনা দেখা যেত।

পুলিশ জানায়, কবুতরের খামারের একটি ঘরকে হ্যাকিংয়ের গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতেন ওহিদুল। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ওই কক্ষে ছিল স্মার্ট মনিটর, ওয়াইফাই ও খাট। বাইরে থেকে দেখলে সেখানে মানুষের বসবাসের বিষয়টি বোঝার উপায় ছিল না।

পুলিশের ওপর নজরদারি করতেই বাড়ি থেকে গ্রামের প্রধান সড়ক পর্যন্ত অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। হ্যাকিংয়ের কাজে সাতটি মোবাইল ফোনে অদলবদল করে ব্যবহার করা হতো ৬৮টি সিম কার্ড। সিমগুলোর নম্বর সাদা কাগজে ছকের মাধ্যমে লেখা ছিল। বিকাশ, নগদ ও রকেটের হিসাব রাখতেও ব্যবহার করা হতো সাংকেতিক চিহ্ন।

স্থানীয়দের দাবি, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কারণ জানতে চাইলে ওহিদুল বলতেন, কবুতর ও মহিষ চুরি ঠেকাতে এগুলো লাগানো হয়েছে। পরে তারা জানতে পারেন, পুলিশের গতিবিধি নজরদারির জন্যও ক্যামেরাগুলো ব্যবহার করা হতো।

পুলিশের দাবি, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অন্যের মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং মাদক ব্যবসা পরিচালনায় ওই গোপন কক্ষটি ব্যবহার করতেন ওহিদুল। যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করতেন দামি মোটরসাইকেল। অল্প সময়ে বিপুল অর্থের মালিক হয়ে দামি গাড়ি ভাড়া করে রাজশাহী ও পাবনায় যাতায়াতও করতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক প্রাইভেটকার চালক।

তবে ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি এবং নানা কৌশল অবলম্বনের পরও পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পাননি ওহিদুল।

লালপুর থানা সূত্র জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে মোহরকয়া গ্রামে ওহিদুলের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় কবুতরের খামারের ওই গোপন কক্ষ থেকে হ্যাকিং কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে ওহিদুলসহ ছয় সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে আলামিন (২৩) নামে রাজশাহী রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) এক পুলিশ কনস্টেবলও রয়েছেন।

আলামিন লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের পানসিপাড়া গ্রামের আতাহার প্রামাণিকের ছেলে। তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আরআরএফ রাজশাহীর কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত ডিআইজি) দীন মোহাম্মদ।

অভিযানে গ্রেফতারদের কাছ থেকে ১০৬টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হ্যাকিং কার্যক্রম ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা করা হয়েছে।

মামলায় ওহিদুলসহ ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে লালপুর আমলি আদালতের বিচারক সাদ্দাম হোসেন তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে রাত ৯টার দিকে তাদের নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ওহিদুলের কাছ থেকে আশপাশের অনেক মানুষ হ্যাকিং শিখে এই কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছেন। গ্রেফতার এড়াতে নানা কৌশল অবলম্বন করলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন তিনি। অপরাধীরা যত কৌশলই অবলম্বন করুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।


আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বগুড়ায় মাইক্রোবাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু, আহত ৭
বগুড়ার শাজাহানপুরে মাইক্রোবাস ও ভুট্টাবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন।
বগুড়ায় মাইক্রোবাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু, আহত ৭
মিষ্টি খেয়ে যে কারণে হাজতে যেতে হলো কিশোরকে
পকেটে টাকা নেই, অথচ পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা। যশোর রেলস্টেশনে এক পথচারীর খাবারের প্যাকেট দেখে ক্ষুধার তাড়নায় সেটি কেড়ে নেয় কিশোর নূর মোহাম্মদ। প্যাকেট খুলে ভাতের বদলে মিষ্টি পেয়ে কয়েকটি খেয়েও ফেলে সে। এরপর সেই কয়েকটি মিষ্টিই তাকে নিয়ে যায় মারধর, পুলিশ, আদালত হয়ে এক রাতের হাজতবাসের পথে।
মিষ্টি খেয়ে যে কারণে হাজতে যেতে হলো কিশোরকে
অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ বানাতেন এই এনসিপি নেতা
ফরিদপুরে অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ, শিশুদের বেবি জেলসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদ (৪০) এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় বসবাস করেন। ওই এলাকায় তার মালিকানাধীন মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ কারখানা রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো জানান, মঙ্গলবার রাতে কারখানাটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অবৈধভাবে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও সামগ্রী উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়ায় বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কারখানাটি অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। সেখানে শিশুদের বেবি জেল, বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধসহ বিপুল পরিমাণ আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করা হতো। অভিযানের সময় কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ বিষয়ে এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব সাইফ হাসান খাঁন বলেন, অন্যায়ের সঙ্গে আমাদের আপস নেই। দলের কোনো সদস্য অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে কেন্দ্রকে জানানো হবে। আরটিভি/এসকে
অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ বানাতেন এই এনসিপি নেতা
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবার পাবে দেড় কোটি টাকা
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সহায়তার অর্থ বিতরণ করা হবে। 
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবার পাবে দেড় কোটি টাকা
হজের স্বপ্নে পায়ে হেঁটে যাত্রা, বেনাপোলে থেমে গেল দুলালের পথ
পায়ে হেঁটে সৌদি আরবের মক্কায় গিয়ে পবিত্র হজ পালনের স্বপ্ন নিয়ে নাটোরের সিংড়া থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন দুলাল হোসেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বেনাপোল সীমান্তে পৌঁছালেও ভারতীয় ভিসা না থাকায় আপাতত থেমে গেছে তার যাত্রা। সীমান্ত পার হতে না পেরে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিজ গ্রামে ফিরে এসেছেন তিনি।
হজের স্বপ্নে পায়ে হেঁটে যাত্রা, বেনাপোলে থেমে গেল দুলালের পথ
আরও পড়ুন
ভারতের ‘ক্রাইম পেট্রোল’ দেখে সিরিয়াল কিলার কুমিল্লার ছেলে মানিক
অটোরিকশাচালকদের টার্গেট করতেন ‘সিরিয়াল কিলার’ মানিক
রাজধানীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে অটোরিকশাচালকের মৃত্যু
ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশারচালকসহ নিহত ২