ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০০ এএম
হ্যাকিং গুরু’ ওহিদুল। ছবি: সংগৃহীত

রাজমিস্ত্রির সহকারী থেকে রিকশাচালক। এরপর হঠাৎ রিকশা ছেড়ে হ্যাকিংয়ে জড়িয়ে পড়া। মাত্র পাঁচ বছরে বদলে যায় নাটোরের লালপুরের ওহিদুল মোল্লার জীবনযাত্রা। পুলিশের দাবি, হ্যাকিংয়ের পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন তিনি। এলাকায় পরিচিতি পান ‘হ্যাকিং গুরু’ হিসেবে।

ওহিদুল মোল্লা (৩২) লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের মৃত রাব্বেল মোল্লার ছেলে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হ্যাকিং কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালাতে নিজের বাড়ি ও আশপাশে অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন তিনি। কবুতরের খামারের আড়ালে তৈরি করেছিলেন গোপন আস্তানা। সেখানেই বসে চলত হ্যাকিং কার্যক্রম।

ওহিদুলের চাচাতো ভাই সেন্টু মোল্লা জানান, বাবার মৃত্যুর পর লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেননি ওহিদুল। মাদ্রাসার পড়াশোনা ছেড়ে দিনমজুরি এবং পরে রিকশা চালানো শুরু করেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে হঠাৎ রিকশা চালানো ছেড়ে স্থানীয় হ্যাকারদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন তিনি।

অল্প সময়ের মধ্যেই হ্যাকিংয়ে দক্ষতা অর্জন করেন ওহিদুল। পরে তার তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠে একটি বড় হ্যাকিং চক্র। হ্যাকিং ও মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মোহরকয়া গ্রামের পৈতৃক বাড়ির পাশাপাশি বিলমাড়িয়ায় পদ্মা নদীর তীরে আরেকটি পাকা বাড়ি করেন ওহিদুল। তার রয়েছে মহিষ ও কবুতরের বড় খামার। বাড়িটি উঁচু ইটের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। প্রবেশের জন্য রয়েছে একটি মাত্র ফটক। স্থানীয়দের তেমন যাতায়াত না থাকলেও গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে তরুণদের আনাগোনা দেখা যেত।

পুলিশ জানায়, কবুতরের খামারের একটি ঘরকে হ্যাকিংয়ের গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতেন ওহিদুল। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ওই কক্ষে ছিল স্মার্ট মনিটর, ওয়াইফাই ও খাট। বাইরে থেকে দেখলে সেখানে মানুষের বসবাসের বিষয়টি বোঝার উপায় ছিল না।

পুলিশের ওপর নজরদারি করতেই বাড়ি থেকে গ্রামের প্রধান সড়ক পর্যন্ত অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। হ্যাকিংয়ের কাজে সাতটি মোবাইল ফোনে অদলবদল করে ব্যবহার করা হতো ৬৮টি সিম কার্ড। সিমগুলোর নম্বর সাদা কাগজে ছকের মাধ্যমে লেখা ছিল। বিকাশ, নগদ ও রকেটের হিসাব রাখতেও ব্যবহার করা হতো সাংকেতিক চিহ্ন।

স্থানীয়দের দাবি, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কারণ জানতে চাইলে ওহিদুল বলতেন, কবুতর ও মহিষ চুরি ঠেকাতে এগুলো লাগানো হয়েছে। পরে তারা জানতে পারেন, পুলিশের গতিবিধি নজরদারির জন্যও ক্যামেরাগুলো ব্যবহার করা হতো।

পুলিশের দাবি, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অন্যের মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং মাদক ব্যবসা পরিচালনায় ওই গোপন কক্ষটি ব্যবহার করতেন ওহিদুল। যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করতেন দামি মোটরসাইকেল। অল্প সময়ে বিপুল অর্থের মালিক হয়ে দামি গাড়ি ভাড়া করে রাজশাহী ও পাবনায় যাতায়াতও করতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক প্রাইভেটকার চালক।

তবে ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি এবং নানা কৌশল অবলম্বনের পরও পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পাননি ওহিদুল।

লালপুর থানা সূত্র জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে মোহরকয়া গ্রামে ওহিদুলের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় কবুতরের খামারের ওই গোপন কক্ষ থেকে হ্যাকিং কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে ওহিদুলসহ ছয় সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে আলামিন (২৩) নামে রাজশাহী রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) এক পুলিশ কনস্টেবলও রয়েছেন।

আলামিন লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের পানসিপাড়া গ্রামের আতাহার প্রামাণিকের ছেলে। তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আরআরএফ রাজশাহীর কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত ডিআইজি) দীন মোহাম্মদ।

অভিযানে গ্রেফতারদের কাছ থেকে ১০৬টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হ্যাকিং কার্যক্রম ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা করা হয়েছে।

মামলায় ওহিদুলসহ ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে লালপুর আমলি আদালতের বিচারক সাদ্দাম হোসেন তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে রাত ৯টার দিকে তাদের নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ওহিদুলের কাছ থেকে আশপাশের অনেক মানুষ হ্যাকিং শিখে এই কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছেন। গ্রেফতার এড়াতে নানা কৌশল অবলম্বন করলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন তিনি। অপরাধীরা যত কৌশলই অবলম্বন করুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।


আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রিহ্যাব সেন্টার থেকে ফিরে যে কাণ্ড ঘটালেন শোভন
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের পলাশবাড়ী এলাকায় ছেলের ছুরিকাঘাতে মা পারুল বেগমের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্বামী ও অভিযুক্ত ছেলের বাবা সরদার আলী। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে মুত্তাকীন আলম শোভন পালিয়ে গেলেও পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুরের দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের আরাজি পলাশবাড়ী এলাকা থেকে অভিযুক্ত শোভনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুত্তাকীন আলম শোভন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। ছেলেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে তার বাবা-মা বগুড়ার একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব সেন্টার) রাখার ব্যবস্থা করেন। সেখানে প্রায় দুই বছর থাকার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। তবে বাড়িতে ফেরার পর তিনি আবারও মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন সময় মাদক গ্রহণ করতে থাকেন। এ অবস্থায় গত মঙ্গলবার রাতে ওই পুনর্বাসন কেন্দ্রের লোকজন শোভনকে নিতে তাদের বাড়িতে আসেন। বিষয়টি টের পেয়ে শোভন ঘরের ভেতর থেকে ছুরি বের করেন। এরপর তিনি প্রথমে তার মাকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই পারুল বেগমের মৃত্যু হয়। এ সময় শোভনের মাকে রক্ষা করতে তার বাবা সরদার আলীকে এগিয়ে যান। এতে তিনিও হামলার শিকার হন। পর শোভন দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত সরদার আলীকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, ছুরিকাঘাতের পর অভিযুক্ত ছেলে পালিয়ে যান। পরে অনুসন্ধান ও সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলার হলোখানা এলাকার আরাজি পলাশবাড়ী থেকে মুত্তাকীন আলম শোভনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিকে, নিহত পারুল বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। আরটিভি/টিআর
রিহ্যাব সেন্টার থেকে ফিরে যে কাণ্ড ঘটালেন শোভন
ইরানে গিয়ে কিডনি বিক্রি করে দেশে ফেরেন ছামছুল, অতঃপর...
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ছামছুল ইসলাম (৩০) অভাবের তাড়নায় প্রায় এক মাস আগে নিজের একটি কিডনি বিক্রি করেছেন। তবে তাতেও ঘোচেনি তার অভাব। ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি।
ইরানে গিয়ে কিডনি বিক্রি করে দেশে ফেরেন ছামছুল, অতঃপর...
বৃহস্পতিবার যেসব এলাকায় টানা ৮ ঘণ্টা থাকবে না বিদ্যুৎ
বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের কারণে সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার যেসব এলাকায় টানা ৮ ঘণ্টা থাকবে না বিদ্যুৎ
বারেক ব্যাপারীর বাদ্যযন্ত্রে তল্লাশি, লুকানো ছিল বিদেশি পিস্তল
যাত্রীবাহী বাসে একটি পুরোনো ভাঙা হারমোনিয়াম নিয়ে যাচ্ছিলেন মো. বারেক ব্যাপারী। হারমোনিয়ামের ভেতরে কৌশলে লুকানো ছিল দুটি বিদেশি পিস্তল ও সাতটি গুলি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত দুইটার দিকে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানার পূর্ব গোলচত্বর এলাকায় তল্লাশিচৌকি বসিয়ে ওই ব্যক্তিকে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। পরে বারেক ব্যাপারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুন্সিগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি গুলি এবং অস্ত্র বিক্রির ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।  বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে ময়মনসিংহে এসআরবি-১৪-এর সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীটির অধিনায়ক মাসুদ রানা। এসআরবি জানায়, ৪৯ বছর বয়সী বারেক ব্যাপারীর বাড়ি পাবনা জেলায়, থাকেন ঈশ্বরদীতে। কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা রিয়াজ পরিবহনের একটি বাসে করে যাচ্ছিলেন। যমুনা সেতুর পূর্ব থানার পূর্ব গোলচত্বর এলাকায় বাসটিতে তল্লাশি চালানোর সময় তার কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা পুরোনো হারমোনিয়ামের ভেতর থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, সাতটি গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। বারেককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এসআরবি জানায়, অস্ত্র দুটি মুন্সিগঞ্জের সুজন ব্যাপারী নামের এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল বারেকের। সুজন কুষ্টিয়া থেকে পিস্তল দুটি কিনেছেন বলে তিনি জানান। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এসআরবি-১৪-এর টাঙ্গাইল ক্যাম্পের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-১১-এর নারায়ণগঞ্জের একটি দল আজ সকাল সাতটার দিকে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার শিরোলই এলাকায় সুজন ব্যাপারীর বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে সুজন ব্যাপারী (৩২) ও তার বড় ভাই মনির হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, তিনটি মুঠোফোনসহ নগদ ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযানে তিনটি বিদেশি পিস্তল, ১১টি গুলি, ৪টি ম্যাগাজিন, ৩টি মুঠোফোন ও ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি। এসআরবি অধিনায়ক মাসুদ রানা বলেন, এ ঘটনায় টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানা ও মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। অস্ত্রগুলো কোথা থেকে এসেছে, কত দিন ধরে এ কাজে আটক ব্যক্তিরা জড়িত, সেসব বিষয় তদন্তে বেরিয়ে আসবে। আরটিভি/এসএস
বারেক ব্যাপারীর বাদ্যযন্ত্রে তল্লাশি, লুকানো ছিল বিদেশি পিস্তল
টঙ্গীর পর এবার সাভারে আগুন
গাজীপুরের টঙ্গীর পর এবার সাভারের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মাদানী সুপার মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
টঙ্গীর পর এবার সাভারে আগুন
আরও পড়ুন
তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে সেই অটোরিকশাচালকই, বিস্তারিত জানাল পুলিশ
রিকশাচালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা, তিন কিশোরের নির্মমতার নেপথ্যে কী?
‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালককে হত্যা, অতঃপর...
ভারতের ‘ক্রাইম পেট্রোল’ দেখে সিরিয়াল কিলার কুমিল্লার ছেলে মানিক