
জীবনের কঠিন সময়ে সন্তানের কাছ থেকে যেখানে একটু সেবা, সহানুভূতি ও নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, সেখানে নেশার জন্য ক্যানসারে আক্রান্ত বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসার জন্য রাখা টাকা ছিনিয়ে নিয়ে খেয়ে ফেলেছেন ছেলে। এমনকি অসুস্থ মাকে মারধর ও নির্যাতন করে ভিটা বিক্রির জন্যও লাগাতার দিয়ে যাচ্ছিলেন চাপ।
ঘটনাটি রাজধানীর খিলক্ষেত নিকুঞ্জের জামতলা এলাকার। এ ঘটনায় আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ৪২ বছর বয়সী মো. সোহেল রানাকে বুধবার দিবাগত রাতে জামতলার একটি ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে খিলক্ষেত থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আদালতে পাঠানো হয়েছে তাকে।
মামলার নথি ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোহেল রানার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি। ২০০৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে মায়ের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে তা নেশাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজে ব্যয় করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সময়ের সঙ্গে তার আচরণ আরও উগ্র হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ পরিবারের।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ আগস্ট রাতে ক্যানসারে আক্রান্ত মা রোকেয়া বেগমের কাছে নিজের ভিটেমাটি বিক্রি করে নেশার টাকা দেওয়ার দাবি করেন সোহেল রানা। মা এতে রাজি না হওয়ায় এলোপাতাড়ি মারধর ও নির্যাতন করা হয় তাকে।
এর আগে, গত ২০ আগস্ট ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ঘরভাড়ার জন্য রাখা ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যান সোহেল রানা। পরে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঘরে ঢুকে আলমারির তালা ভেঙে মায়ের চিকিৎসার জন্য রাখা ৪২ হাজার টাকা নিয়ে যান তিনি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সন্তান হিসেবে বারবার তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন রোকেয়া বেগম। কিন্তু কোনোভাবেই তার আচরণে পরিবর্তন আসেনি। একপর্যায়ে মাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অসুস্থ ও অসহায় অবস্থায় শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন রোকেয়া বেগম। প্রথমে তিনি খিলক্ষেত থানায় যান। পরে থানা পুলিশের পরামর্শে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে মামলা করেন।
মামলায় দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩৮০ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
খিলক্ষেত থানার পুলিশ জানায়, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি সোহেল রানাকে অভিযান চালিয়ে জামতলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আরটিভি/এসএইচএম


