
রাজধানীর রমনায় অফিসার্স ক্লাবের ভেতরের একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলা থেকে গতকাল সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনকে (৭২) রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে রাতে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
ভবনটির বেজমেন্ট-১–এর ফাঁকা জায়গা থেকে নিচে বেজমেন্ট-৩–এর মেঝেতে পড়ে তিনি আহত হন বলে ধারণা করছে পুলিশ। সিভিটির ফুটেজ থেকে একই কথা বলেছেন অফিসার্স ক্লাবের একজন কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, মেয়েকে সুইমিং করাতে এসেছিলেন সাবেক এই অতিরিক্ত সচিব। মেয়েকে রেখে তিনি অফিসারস ক্লাবের অফিসের দিকে আসেন। কিন্তু ভুল করে লিফটে না উঠে সিঁড়িতে চলে যান। সিঁড়ি ধরে ভবনের বেজমেন্টে চলে যান। সেখান থেকে বের হওয়ার রাস্তা (এক্সিট) খুঁজে পাননি।
‘এভাবে বের হওয়ার রাস্তা খুঁজতে গিয়ে একপর্যায়ে নিচে ( সেখানকার একটি গর্তের মতো জায়গা) পড়ে যান। এগুলো পরে সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে। পরে অতিরিক্ত সচিব মোশাররফ হোসেনের মেয়ে এসে জানান, তার বাবাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তখন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা হয়।’
ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রথমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে মোশাররফ হোসেন ক্লাবের বাইরে বের হননি। তখন খুঁজতে খুঁজতে বেজমেন্টে তাকে ওই অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে পুলিশ আসে। তারাও সিসিটিভি ক্যামেরা পর্যালোচনা করে দেখেছে, কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে।
এর আগে এ বিষয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন মিয়া বলেছিলেন, গতকাল মেয়েকে সুইমিংপুলের কাছে রেখে মোশাররফ হোসেন নির্মাণাধীন ভবনটির ভেতরে যান। বেলা সোয়া ১১টার দিকে ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশ থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে শাহবাগের বারডেম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখান থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে রাত পৌনে ১২টার দিকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক মোশাররফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, বর্তবানে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল হিমাগারে আছে। তার দুই মেয়ের একজন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি ফিরলে দাফন করা হবে।
উল্লেখ্য, মোশাররফ হোসেন বিসিএস ৮১ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। তিনি অফিসার্স ক্লাবের সদস্য ছিলেন। থাকতেন রাজধানীর বনানীতে।
আরটিভি/এসআর


