
চাঁদপুরের বড় শাহতলীতে ঋণের চাপে দিশেহারা হয়ে সুলতান মাহমুদ রুবেল ( ৩৫) নামের এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন। এই ঘটনায় স্ত্রী, শাশুড়িসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে নিহতের ছোট ভাই কাউছার গাজী। পুলিশ নিহতের স্ত্রীকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিকেলে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ জানায়, রুবেল পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোবাইক চালক। পরিবারে তার স্ত্রী, দুই ছেলে এবং দুই মেয়ে ছিল। আত্মহত্যার কারণ উল্লেখ করে সুলতান একটি চিরকুট লিখে গেছেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, রুবেলের স্ত্রী হালিমা আক্তার এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে রুবেলকে বিভিন্নভাবে অপমান করতেন। অটোবাইক চালানোর কারণে তারা রুবেলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা রুবেলকে দিয়ে বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ তুলতেন। কিন্তু কিস্তি পরিশোধ করতেন না। এতে রুবেলের ওপর বাড়তে থাকে ঋণের চাপ। টাকা ফেরত চাইলে তাকে অপমান করে শ্বশুড় বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হতো।
এই দীর্ঘদিনের অপমান ও মানসিক চাপে অবশেষ ২৮ নভেম্বর রাতে রুবেল নিজের ঘরে বিষ পান করেন। পরিবারের লোকজন ওই রাতেই তাকে দ্রুত চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর ৪ ডিসেম্বর রাত ১টা ৫৫ মিনিটে তিনি মারা যান। বৃহস্পতিবার সকালে খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক বিল্লাল হোসেন হাসপাতাল থেকে সুলতানের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহতের ছোট ভাই কাউছার গাজী অভিযোগ করেছেন নিরবচ্ছিন্ন অপমান এবং আত্মহত্যার প্ররোচনার কারণেই রুবেল আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। দাফন-কাফনের কাজ শেষ করে তিনি রুবেলের স্ত্রী হালিমা আক্তারসহ চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি বাহার মিয়া বলেন, নিহতের স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
আরটিভি/এস




