
সাভারের রাজপথ যখন ছাত্র-জনতার রক্তে রঞ্জিত হচ্ছিল, তখন নেপথ্যে থেকে যারা কলকাঠি নেড়েছিলেন, তাদেরই একজন মো. ফারুক হোসেন ওরফে মাইছা ফারুক। দীর্ঘ আত্মগোপন আর লুকোচুরির পর অবশেষে উত্তরার এক বিলাসবহুল আস্তানা থেকে তাকে বন্দি করেছে পুলিশ। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুমের হত্যা মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার(২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ৬ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাভারের আমিনবাজার ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের নেতৃত্ব দেন।
গ্রেপ্তার ফারুক হোসেন আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সদস্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ ব্যবসার একটি সাধারণ আবরণ ব্যবহার করে তিনি মূলত গড়ে তুলেছিলেন বিশাল এক মাদক সাম্রাজ্য। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাপটে আশুলিয়ায় মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করে তিনি গত কয়েক বছরে শত কোটি টাকার পাহাড় গড়েছেন। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন এক মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে। গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর থেকেই এই ‘মাদক সম্রাট’ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, সাভার নিউমার্কেটের সামনে শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুমকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৩১ নম্বর আসামি এই ফারুক। কেবল কাইয়ুম হত্যাই নয়, আশুলিয়া থানায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরও দুটি হত্যা মামলা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনায় তার সক্রিয় অংশগ্রহণের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে।
আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মো. জাকির হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে ফারুককে হাতেনাতে ধরা সম্ভব হয়েছে। বুধবার দুপুরে তাকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে পাঠানো হবে।
আরটিভি/এআর




