
উত্তরের হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় শীতের প্রকোপ বেড়েছে কুড়িগ্রামে। টানা ৫ দিন থেকে ঘন কুয়াশা আর প্রচণ্ড শীতে দুর্ভোগে পড়েছে এ জেলার মানুষ। শীতের কারণে নিত্যান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেনা মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গত কয়েকদিন থেকে শীত ও কুয়াশা বাড়ায় দিনে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না। এদিকে হিম শীতল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তীব্র ঠান্ডায় কাজকর্মে যেতে পারছে না খেটে খাওয়া মানুষ। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করে থাকে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষ ।
এদিকে তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের চর বৃষ্ণপুর এলাকার কৃষক হারেজ আলী জানান, বোরো আবাদের জন্য বীজতলার চারার পরিণত বয়স হয়েছে। কিন্তু প্রচুর ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে জমিতে চারা রোপণ করতে পারছি না। এদিকে বীজতলাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে প্লাস্টিক দিয়ে বীজতলা ঢেকে রেখেছি।
দিনমজুর জসিম উদ্দিন বলেন, শীত আর কুয়াশার কারণে সকালে কাজে যেতে কষ্ট হয়। এই শীতকে উপেক্ষা করে পেটের দায়ে কাজে যেতে হয়।
কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, চরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। বিশেষ করে এই শীতে দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ চরম কষ্টে রয়েছে। শীত যত বাড়ছে, ততই অসহায় হয়ে পড়ছে কুড়িগ্রামের চরবাসী। এই মুহূর্তে শীতার্তদের মধ্যে দ্রুত শীতবস্ত্র সহায়তার প্রয়োজন।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর জানান, আমার ইউনিয়নের জনসংখ্যা প্রায় ৩৬ হাজার। এর মধ্যে তিন ভাগের দুই ভাগ মানুষ ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে বসবাস করেন। ইউনিয়নে প্রায় ২০টি চর রয়েছে, যেখানে প্রায় ১৬ হাজার মানুষ শীতের চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারি সহায়তা হিসেবে এখন পর্যন্ত মাত্র একশটি কম্বল পেয়েছি, যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। শীতার্ত মানুষদের নিয়ে আমি মহাবিপাকে পড়েছি।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানান, বৃহস্পতিবার জেলায় সকাল ৬ টায় ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এবং বাতাসের আর্দ্রতা ১০০ ভাগ। আগামী দুই থেকে তিনদিন এমন তাপমাত্রা অব্যাহত থাকবে। এ মাসের শেষে একটি শৈত্য প্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
আরটিভি/এএএ




