
বগুড়া থেকে জামালপুর ফেরার পথে ঘন কুয়াশার কারণে যমুনা নদীর মাঝখানে বর-কনেসহ ৪৭ জন আরোহী নিয়ে একটি নৌকা আটকা পড়েছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে নৌকাটি নদীর মধ্যেই নোঙর করে অবস্থান করছে। এতে নৌকায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নৌকায় থাকা বরের বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম বাবু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার সকালে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার তারতাপাড়া এলাকার সানোয়ার হোসেনের ছেলে নিলয় হাসান ছানি (২১)-এর বিয়ে উপলক্ষে ৪৭ জন বরযাত্রী বগুড়ার সাবগ্রাম এলাকার চারমাথায় যান। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বর-কনেসহ সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কলীতলা ঘাট থেকে নৌকাযোগে মাদারগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন।
নৌকাটি যমুনা নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে হঠাৎ ঘন কুয়াশা নেমে আসে। এতে নৌকার মাঝি দিকনির্দেশনা হারিয়ে ফেলেন। রাত ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কুয়াশার মধ্যে পথ খুঁজে না পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও দৃশ্যমানতা কম থাকায় তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়া যায়নি। পরে নৌকাটি নদীর মাঝেই নোঙর করে রাখা হয়। নৌকায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে ১৭ জন নারী ও ৯ জন শিশু রয়েছে। শিশুদের মধ্যে চারজনের বয়স এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে।
নৌকায় থাকা যাত্রী বজলু মিয়া বলেন, যাত্রার সময় কুয়াশা ছিল না। মাঝ নদীতে এসে হঠাৎ কুয়াশা ঘন হয়ে যায়। কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। ছোট বাচ্চা ও নারী যাত্রী নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
বরের বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম বাবু বলেন, একদিকে তীব্র শীত, অন্যদিকে নিরাপত্তাহীনতা-সব মিলিয়ে সবাই আতঙ্কিত। বাধ্য হয়ে পলিথিন মুড়িয়ে মাঝ নদীতেই রাত কাটাতে হচ্ছে। মোবাইলের চার্জও শেষের দিকে।
নৌকার মাঝি আবুল কাশেম জানান, ঘন কুয়াশার কারণে নৌকা চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে নোঙর করে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থল সারিয়াকান্দি থানার আওতাভুক্ত। বিষয়টি নিয়ে সারিয়াকান্দি থানা ও যমুনা নদীর তীরবর্তী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে ঘন কুয়াশার কারণে নৌকার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। নৌ পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।
আরটিভি/এএএ




