
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় আবু সুফিয়ান (২২) নামের এক যুবককে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনে গুরুতর আহত করা হয়েছে। এতে ওই যুবককে বাম হাতের প্রধান রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাতটি কেটে ফেলার প্রয়োজন পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) আবু সুফিয়ানকে ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত আবু সফিয়ানের মা সুফিয়া বেগম জানান, গত ২৪ তারিখ সন্ধ্যায় শিবগঞ্জ উপজেলার ওমরপুর বাজার এলাকায় তার ছেলেকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নির্যাতন করা হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাত ও পা কেটে দেওয়া পর মৃত ভেবে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেলে নিয়ে যায়।
এদিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা আহত আবু সুফিয়ান ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তার ওপর কারা হামলার কথা স্বজনদের জানাচ্ছেন সেই কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে আবু সফিয়ান দাবি করেন, স্থানীয় বাজারের দোকানদান নুর ও আনোয়ার নামে দুই যুবক তাকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে কুপিয়েছে। আব্দুর রাজ্জাক নামে স্থানীয় জামায়াত নেতা তাদের ডেকে এনেছিল।
তবে স্থানীয় জামায়াত নেতারা এ ঘটনা অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি এ ঘটনায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জামায়াতের নাম জড়ানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা জামায়াত ও শিবিরের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, অজ্ঞাত হামলার ঘটনায় উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নাম জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ন কবির বলেন, এই ঘটনায় গত ২৪ ডিসেম্বর রাতেই আবু সুফিয়ানের বাবা রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা করেন। পুলিশ এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।
শিবগঞ্জ থানার সাব-ইন্সপেক্টর এবং এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র মন্ডল বলেন, এই ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনের নাম মামলা হয়েছে। আসামি ওমরপুর গ্রামের দুই ভাই আব্দুর রাজ্জাক (৩২) এবং শাহ আলম (৩০) গ্রেপ্তার করে ২৬ তারিখ আদালতে প্রেরণ করলে বিচারক তাদের জেলে পাঠিয়েছেন।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত নূর এবং আনোয়ারকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী এই কর্মকর্তা বলেন, এখন তাদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আবু সুফিয়ানের বিষয়ে তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি তা বাম হাত কেটে ফেলতে হবে বলে ডাক্তার তাদের জানিয়েছেন।
আরটিভি/এমএ




