
পাবনার ঈশ্বরদীতে টানা ৬ দিনের মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পর এবার মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। সূর্যের আলোর দেখা নেই। হিমেল বাতাসের কারণে লোকজন কাজের জন্য বাইরে বের হতে পারছেন না। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে সেখানকার জনজীবন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে ৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা চলতি শীত মৌসুমে এই আঞ্চলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
দিন যতই গড়াচ্ছে শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কুয়াশার ঘনত্ব ও উত্তরের হিমেল বাতাস। এতে শীতের তীব্রতা আরও বেশি বাড়িয়ে দিচ্ছে। দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। কখনও রোদ উঠছে তো আবার কখনও সূর্যের আলোর দেখা মিলছে না। রাতভর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মত কুয়াশা ঝরে পড়ছে। যা অব্যাহত থাকছে পরদিন সকাল পযর্ন্ত। আবার কখনও সারাদিনই কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারপাশ। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। ঠান্ডার দাপটে তারা ঠিকমত কাজে যেতে পারছেন না। অনেকেই রাস্তার পাশে খড়কুটোতে আগুন জ্বালিয়ে একটু উষ্ণতা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। শীতবস্ত্রের অভাবে অসহায়, দরিদ্র, ভাসমান, ছিন্নমূল মানুষেরা চরম কষ্টে আছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। কনকনে শীতের কারনে সকাল- সন্ধ্যায় পথঘাট ও হাট-বাজার দোকানপাটে মানুষজনের উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা গেছে। প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে খুব কম মানুষই বের হচ্ছেন। এতে ভ্যান, রিকশা -অটোরিকশা চালকদের আয় রোজগার কমে গেছে।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন জানান, একটানা ৬ দিন ধরে ঈশ্বরদীর ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। আজ থেকে তাপমাত্রা আরো কমে গিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭. ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
গতকাল ছিল ৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন ৫ জানুয়ারি ঈশ্বরদীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ৪ জানুয়ারি তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি। ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় ৩ জানুয়ারিতে। ২ জানুয়ারি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৮.৮ ডিগ্রি আর ১ জানুয়ারি ৯.৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করে আবহাওয়া অফিস।
আরটিভি/এমএ



