ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

আলোচিত সেই ইউএনওকে যেখানে বদলি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
ফাইল ছবি

অবশেষে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমানকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। তাকে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার ইউএনও হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির আদেশ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সামিউল আমিন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে ইউএনও মাসুদুর রহমান নিজেই বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জানুয়ারি কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা বাজারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে যান। এ সময় পারভেজ নামের এক ব্যক্তিকে অবৈধভাবে ঘর মেরামতের দায়ে ৫০ টাকা জরিমানা ধার্য করেন। এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া যৌক্তিক প্রশ্ন তুললে ইউএনও চরমভাবে ক্ষিপ্ত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এক পর্যায়ে ইউএনও মেজাজ হারিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং এলাকা ত্যাগ করার সময় প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আপনাকে দেখে নেব’।

ইউএনওর সেই হুমকির প্রতিফলন ঘটে ঠিক তার পরদিন অর্থাৎ ১৮ জানুয়ারি। কোনো প্রকার সুষ্ঠু তদন্ত বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মন্ত্রণালয় থেকে সাইদুর রহমান ভূঁইয়াকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একজন দুইবারের নির্বাচিত জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধিকে এভাবে তুচ্ছ কারণে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মনে ক্ষোভের দানা বেঁধেছে।

ঘটনার নাটকীয়তা বাড়ে সোমবার (১৯ জানুয়ারি)। চেয়ারম্যানকে অব্যাহতির মাত্র একদিন পরই কলমাকান্দা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে লেংগুড়া ইউনিয়নের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উক্ত কর্মকর্তা বিগত ফ্যাসিস্ট রেজিমের সরাসরি সুবিধাভোগী এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট। একজন জনপ্রিয় চেয়ারম্যানকে সরিয়ে কেন তড়িঘড়ি করে একজন বিতর্কিত কর্মকর্তাকে প্রশাসক করা হলো, তা নিয়ে পুরো উপজেলায় চলছে তীব্র সমালোচনা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মোবাইল কোর্ট চলাকালীন ইউএনও যে আচরণ করেছেন তা কোনোভাবেই একজন সরকারি কর্মকর্তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ইউএনও সাহেব তুচ্ছ কারণে একজন নিরীহ মানুষকে জরিমানা করেছিলেন। চেয়ারম্যান সাহেব জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে শুধু বিষয়টি নিয়ে তিনি আলোচনা করতে চেয়েছিলেন। এই আলোচনার প্রস্তাবও ইউএনও ব্যক্তিগতভাবে নেন এবং চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। ইউএনও সাহেব তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। আমরা কল্পনাও করিনি যে পরের দিনই তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।

বিষয়টি জানতে বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যানের স্থলাভিষিক্ত উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমকে ফোন করলে তিনি ‘ব্যস্ত’ বলে পরে যোগাযোগ কারার পরামর্শ দিয়ে ফোন কেটে দেন।

এদিকে জনপ্রিয় এই চেয়ারম্যানের ওপর এমন অন্যায় ও প্রতিহিংসামূলক আচরণের প্রতিবাদে লেংগুড়া ইউনিয়নসহ পুরো উপজেলায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের দাবি, কলমাকান্দার ইউএনও প্রশাসনিক ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেছেন। তারা অবিলম্বে সাইদুর রহমান ভূঁইয়ার বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার এবং ক্ষমতার দাপট দেখানো ইউএনওর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অব্যাহতি হওয়া ভুক্তভোগী চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া আরটিভিকে বলেন, আমি এই এলাকার চেয়ারম্যান। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে ঘটনাটি জানতে গিয়েছিলাম। কেউ অপরাধ করলে ইউএনও সাহেব ব্যবস্থা নিতেই পারেন। কিন্তু চেয়ারম্যান হিসেবে বিষয়টি জানতে চাওয়া কি আমার অপরাধ?

তিনি আরও বলেন, ‘সবার সামনে আমাকে অপমান করেন, দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। শেষপর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমাকে বহিষ্কার করলেন। এভাবে বহিষ্কার করা ন্যায়সংগত মনে করি না। ইউএনও তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।’

আরও পড়ুন

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমান বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (সাময়িক বরখাস্তকৃত) বাধা দেন। এটার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সামগ্রিক বিষয়ে জানতে চান। সে অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছেন। ক্ষোভের বা ক্ষমতা দেখানোর কোনো প্রশ্নই আসে না।

তিনি আরও বলেন, উনি (বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান) জনপ্রতিনিধি হিসেবে আইনি কাজে সহযোগিতা করার পরিবর্তে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন। আর উনাকে তো কোনো দণ্ড দেওয়া হয়নি।

এদিকে, উপজেলার ইউএনও’র অফিসিয়াল ফেসবুকে এক পোস্টে ইউএনও মাসুদুর রহমান লিখেছেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। এ রাষ্ট্র আপনার, আমার, আমাদের সকলের। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আমাদের মহান শহীদরা নিজেদের রক্ত দিয়ে যে পথ দেখিয়ে গেছেন, সে পথ ধরেই অব্যাহত থাকবে আমাদের পথচলা ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘একমাত্র মৃত্যুই আমাদের এ পথচলাকে থামাতে পারে। আর মৃত্যুর ফয়সালা হয় আসমানে। লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লা।’

আরটিভি/একে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এক মাস পর ভেসে উঠলো রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু
কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় পর পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে রাঙামাটির পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু। বুধবার থেকে সেতুতে পর্যটকদের প্রবেশে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সেতুটিকে ঘিরে ফিরতে শুরু করেছে পর্যটকদের পদচারণা। স্বস্তি ফিরেছে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যেও। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা সেতুটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন। আলোক বিকাশ চাকমা জানান, চলতি বছর দ্বিতীয় দফায় গত ১১ সেপ্টেম্বর কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় ঝুলন্ত সেতুটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ওই দিন থেকেই সেতুতে প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে হ্রদের পানি কমে সেতুটি দৃশ্যমান হলে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শেষে বুধবার থেকে পর্যটকদের চলাচলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। সেতুটি পুনরায় পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ায় স্বাভাবিক পর্যটন কার্যক্রম ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের আগমন বাড়লে পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। রাঙামাটির পর্যটন পরিচিতির অন্যতম প্রতীক এই ঝুলন্ত সেতু দেখতে প্রতিবছরই ছুটে আসেন অসংখ্য দেশি-বিদেশি পর্যটক। কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি, পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর নৌভ্রমণের পাশাপাশি সেতুতে ঘুরে বেড়ানো পর্যটকদের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতার অন্যতম আকর্ষণ। তবে বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় প্রায় প্রতিবছরই পানির নিচে তলিয়ে যায় সেতুটি। ফলে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয় এই দর্শনীয় স্থাপনা। গত বছরও টানা ৮৫ দিন পানির নিচে ছিল সেতুটি। এতে পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। প্রতিবছর একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রাঙামাটির পর্যটন খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সেতুটি তলিয়ে যাওয়ায় পর্যটকেরা অন্যতম আকর্ষণটি উপভোগের সুযোগ হারান। অন্যদিকে, পর্যটকদের আগমন কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েন হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, পরিবহন ও নৌযান ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু পানি কমার অপেক্ষায় না থেকে সেতুটির অবস্থান, কাপ্তাই হ্রদের পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা এবং কাঠামোগত নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। কারিগরি সমীক্ষার ভিত্তিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে পর্যটন মৌসুমে সেতুটি বন্ধ থাকার সময় কমানো সম্ভব কি না, তা বিবেচনা করা যেতে পারে। উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে নির্মিত প্রায় ৩৩৫ ফুট দৈর্ঘ্যের রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুটি জেলার অন্যতম পরিচিত পর্যটন আকর্ষণ। দুটি পাহাড়ের মাঝখানে নির্মিত এই সেতু দেখতে স্থল ও জলপথে পর্যটন কমপ্লেক্স এলাকায় পৌঁছানো যায়। আরটিভি/টিআর
এক মাস পর ভেসে উঠলো রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু
দুর্গাপূজার ছুটিতে কক্সবাজারে ৬ লাখ পর্যটক সমাগমের প্রত্যাশা
আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজার পাঁচ দিনের ছুটিতে ৬ লাখেরও বেশি পর্যটককে বরণ করে নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে কক্সবাজার। ইতিমধ্যে উপকূলীয় জেলাজুড়ে হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে অগ্রিম বুকিংয়ের হার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। টানা ছুটির এই সময়ে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগমের আশা করছেন পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা, কারণ আবাসন ব্যবস্থার প্রায় ৭০ শতাংশই ইতিমধ্যে অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। সম্ভাব্য ভিড় সামাল দিতে পরিবহন সেবা সম্প্রসারণ, আতিথেয়তার মানোন্নয়ন এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বাসসকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি, প্রতিদিন গড়ে এক লাখের বেশি পর্যটক কক্সবাজারে আসবেন। সে হিসাবে পাঁচ দিনে ৬ লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম হতে পারে।’ তিনি জানান, কক্সবাজারে বিভিন্ন শ্রেণির ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও কটেজ রয়েছে। এরমধ্যে বেশির ভাগ আবাসিক প্রতিষ্ঠানের কক্ষ আগাম বুকিং হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক হোটেলে প্রায় ৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। কক্সবাজার হোটেল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি নাজিম উদ্দীন বাসসকে বলেন, টানা পাঁচ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে হোটেল-মোটেলে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তারকা মানের হোটেলগুলোর বেশির ভাগ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটন ব্যবসায়ীরা ভালো একটি সপ্তাহের প্রত্যাশা করছেন। রামুর মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন পেঁচারদ্বীপের মারমেইড বিচ রিসোর্টের ব্যবস্থাপক রানা কর্মকার বাসসকে বলেন, তাদের রিসোর্টের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ ইতোমধ্যে অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে অতিথিদের শুভেচ্ছা জানানো হবে। পাশাপাশি রিসোর্টের রেস্তোরাঁ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। যে কেউ সেখানে এসে ঘুরে যেতে পারবেন এবং খাবার খেতে পারবেন। অন্যদিকে, তারকা মানের হোটেল বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজের ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজার তারেক আজিজ জানান, তাদের হোটেলের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের জন্য ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর ১ হাজার ২শ’ টাকায় ৫০টির বেশি পদের বুফে ডিনারের আয়োজন করা হয়েছে। টানা ছুটিতে পর্যটক ও যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে ২০, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা স্পেশাল’ দুপুর আড়াইটায় ছেড়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকায় পৌঁছাবে। একই দিন ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ‘ট্যুরিস্ট স্পেশাল’ রাত সাড়ে ১০টায় ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে কক্সবাজার পৌঁছাবে। ২৩ অক্টোবর কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বিশেষ ট্রেন সকাল সাড়ে ১১টায় ছেড়ে রাত ৮টায় ঢাকায় পৌঁছাবে। একই দিন ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ‘ট্যুরিস্ট স্পেশাল’ রাত সাড়ে ১০টায় ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছাবে। এ ছাড়া ২৪ অক্টোবর কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ‘ট্যুরিস্ট স্পেশাল’ সকাল সাড়ে ১১টায় ছেড়ে রাত ৮টায় ঢাকায় পৌঁছাবে। একই দিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ‘চট্টগ্রাম স্পেশাল’ রাত সাড়ে ১০টায় ছেড়ে পরদিন ভোর ৪টায় চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার জয়নাল আবেদীন বিশেষ ট্রেন পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, টানা ছুটিতে কক্সবাজারগামী যাত্রীর চাপ অনেক বেশি থাকে। এ চাপ সামাল দিতেই বিশেষ ট্রেন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আন্তনগর কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস চলাচল করছে। নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি বিশেষ ট্রেন চালু হলে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে। এতে সড়কপথের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি পর্যটকদের যাতায়াতও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন সামাল দিতে আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থার পাশাপাশি সৈকতসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান বাসসকে বলেন, পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকের চাপ বাড়বে। তাদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে। আরটিভি/এসআর  
দুর্গাপূজার ছুটিতে কক্সবাজারে ৬ লাখ পর্যটক সমাগমের প্রত্যাশা
কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর
আমীর নির্বাচনকে ঘিরে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর
মারা গেছেন নীলফামারীর কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফারুক ভূঁইয়া
উত্তরবঙ্গের সংগীতজগতের অন্যতম প্রাণপুরুষ, সুরসাধক ও সংগঠক ফারুক ভূঁইয়া (৫৯) হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোর ৬টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এর আগে মঙ্গলবার রাতে নীলফামারী সদর উপজেলার কলেজ স্টেশন হারোয়া এলাকার নিজ বাড়িতে হঠাৎ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন তিনি। পরে স্বজনেরা তাকে দ্রুত নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। নিজ উদ্যোগে কিংবদন্তি শিল্পী প্রয়াত ফিরোজ সাঁই ও পিলু মমতাজ স্মৃতি সংসদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ফারুক ভূঁইয়া। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি দেশের বিভিন্ন গুণী শিল্পীকে সম্মাননা দিয়ে আসছিলেন। চলতি বছরের ২৯ আগস্ট নীলফামারী শহীদ মিনারে স্মৃতি সংসদের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তিনি। সংগীতের প্রতি তার আজীবন নিবেদন ছিল অতুলনীয়। গত ৬ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যায় রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত একটি কালজয়ী গানের অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন তিনি। সহকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, এটিই ছিল তার জীবনের শেষ মঞ্চ পরিবেশনা। নীলফামারী ও এ অঞ্চলের মানুষের প্রতি ফারুক ভূঁইয়ার টান ছিল অকৃত্রিম। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শ্রাদ্ধ’ কবিতায় নীলফামারী বাজারের ঐতিহ্যবাহী বেগুনের উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টি তিনি তার গানের সুরেও ফুটিয়ে তুলেছিলেন। তার প্রয়াণে উত্তরবঙ্গের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো। পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ ১৪ অক্টোবর বাদ মাগরিব নীলফামারী কলেজ স্টেশন আদর্শ হাইস্কুল মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে নীলফামারী কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে। তার মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক, নীলফামারী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও নীলফামারী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী, নীলসাগর গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আহসান হাবীব লেলিন, সাবেক সংসদ সদস্য এনকে আলম চৌধুরী, সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম, নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুব-উর রহমান, সহসভাপতি আকতার হোসেন স্বপন, নীলফামারী প্রেসক্লাবের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম সিয়াম, যুগ্ম সভাপতি হাসান রাব্বি প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক মিলাদুর রহমান মামুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। আরটিভি/টিআর
মারা গেছেন নীলফামারীর কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফারুক ভূঁইয়া
‘শেখ হাসিনার দুপুরের খাবার খরচ ছিল সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমান খান ১৫০ টাকায়’
মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেন, কেয়ামতের মাঠে আল্লাহ আপনার হৃদয় দেখে বিচার করবেন। আপনারাও তারেক রহমানের হৃদয় দেখবেন। মোটা কাপড়, সিম্পল জীবনযাপন করেন। গত পরশুদিন দুপুরে ঢেরস ভাজি, কুমড়া ভর্তা ও ডাল দিয়ে তার (তারেক রহমান) সঙ্গে খেয়ে এসেছি। 
‘শেখ হাসিনার দুপুরের খাবার খরচ ছিল সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমান খান ১৫০ টাকায়’
আরও পড়ুন
আদালতের নির্দেশের পর চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার ওসি বদলি
সড়ক দুর্ঘটনাতেও দায়িত্ববিচ্যুত হননি ইউএনও মেহেদী হাসান
দেশের ১২ উপজেলায় নতুন ইউএনও নিয়োগ দিলো সরকার
মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কালীগঞ্জের ইউএনও