ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

আলোচিত সেই ইউএনওকে যেখানে বদলি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
ফাইল ছবি

অবশেষে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমানকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। তাকে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার ইউএনও হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির আদেশ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সামিউল আমিন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে ইউএনও মাসুদুর রহমান নিজেই বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জানুয়ারি কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা বাজারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে যান। এ সময় পারভেজ নামের এক ব্যক্তিকে অবৈধভাবে ঘর মেরামতের দায়ে ৫০ টাকা জরিমানা ধার্য করেন। এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া যৌক্তিক প্রশ্ন তুললে ইউএনও চরমভাবে ক্ষিপ্ত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এক পর্যায়ে ইউএনও মেজাজ হারিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং এলাকা ত্যাগ করার সময় প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আপনাকে দেখে নেব’।

ইউএনওর সেই হুমকির প্রতিফলন ঘটে ঠিক তার পরদিন অর্থাৎ ১৮ জানুয়ারি। কোনো প্রকার সুষ্ঠু তদন্ত বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মন্ত্রণালয় থেকে সাইদুর রহমান ভূঁইয়াকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একজন দুইবারের নির্বাচিত জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধিকে এভাবে তুচ্ছ কারণে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মনে ক্ষোভের দানা বেঁধেছে।

ঘটনার নাটকীয়তা বাড়ে সোমবার (১৯ জানুয়ারি)। চেয়ারম্যানকে অব্যাহতির মাত্র একদিন পরই কলমাকান্দা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে লেংগুড়া ইউনিয়নের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উক্ত কর্মকর্তা বিগত ফ্যাসিস্ট রেজিমের সরাসরি সুবিধাভোগী এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট। একজন জনপ্রিয় চেয়ারম্যানকে সরিয়ে কেন তড়িঘড়ি করে একজন বিতর্কিত কর্মকর্তাকে প্রশাসক করা হলো, তা নিয়ে পুরো উপজেলায় চলছে তীব্র সমালোচনা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মোবাইল কোর্ট চলাকালীন ইউএনও যে আচরণ করেছেন তা কোনোভাবেই একজন সরকারি কর্মকর্তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ইউএনও সাহেব তুচ্ছ কারণে একজন নিরীহ মানুষকে জরিমানা করেছিলেন। চেয়ারম্যান সাহেব জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে শুধু বিষয়টি নিয়ে তিনি আলোচনা করতে চেয়েছিলেন। এই আলোচনার প্রস্তাবও ইউএনও ব্যক্তিগতভাবে নেন এবং চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। ইউএনও সাহেব তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। আমরা কল্পনাও করিনি যে পরের দিনই তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।

বিষয়টি জানতে বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যানের স্থলাভিষিক্ত উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমকে ফোন করলে তিনি ‘ব্যস্ত’ বলে পরে যোগাযোগ কারার পরামর্শ দিয়ে ফোন কেটে দেন।

এদিকে জনপ্রিয় এই চেয়ারম্যানের ওপর এমন অন্যায় ও প্রতিহিংসামূলক আচরণের প্রতিবাদে লেংগুড়া ইউনিয়নসহ পুরো উপজেলায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের দাবি, কলমাকান্দার ইউএনও প্রশাসনিক ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেছেন। তারা অবিলম্বে সাইদুর রহমান ভূঁইয়ার বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার এবং ক্ষমতার দাপট দেখানো ইউএনওর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অব্যাহতি হওয়া ভুক্তভোগী চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া আরটিভিকে বলেন, আমি এই এলাকার চেয়ারম্যান। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে ঘটনাটি জানতে গিয়েছিলাম। কেউ অপরাধ করলে ইউএনও সাহেব ব্যবস্থা নিতেই পারেন। কিন্তু চেয়ারম্যান হিসেবে বিষয়টি জানতে চাওয়া কি আমার অপরাধ?

তিনি আরও বলেন, ‘সবার সামনে আমাকে অপমান করেন, দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। শেষপর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমাকে বহিষ্কার করলেন। এভাবে বহিষ্কার করা ন্যায়সংগত মনে করি না। ইউএনও তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।’

আরও পড়ুন

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমান বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (সাময়িক বরখাস্তকৃত) বাধা দেন। এটার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সামগ্রিক বিষয়ে জানতে চান। সে অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছেন। ক্ষোভের বা ক্ষমতা দেখানোর কোনো প্রশ্নই আসে না।

তিনি আরও বলেন, উনি (বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান) জনপ্রতিনিধি হিসেবে আইনি কাজে সহযোগিতা করার পরিবর্তে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন। আর উনাকে তো কোনো দণ্ড দেওয়া হয়নি।

এদিকে, উপজেলার ইউএনও’র অফিসিয়াল ফেসবুকে এক পোস্টে ইউএনও মাসুদুর রহমান লিখেছেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। এ রাষ্ট্র আপনার, আমার, আমাদের সকলের। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আমাদের মহান শহীদরা নিজেদের রক্ত দিয়ে যে পথ দেখিয়ে গেছেন, সে পথ ধরেই অব্যাহত থাকবে আমাদের পথচলা ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘একমাত্র মৃত্যুই আমাদের এ পথচলাকে থামাতে পারে। আর মৃত্যুর ফয়সালা হয় আসমানে। লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লা।’

আরটিভি/একে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
১১ ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে ৯৯ জন ইউপি সদস্য পদপ্রার্থীর নামও ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত তালিকায় কয়েকজন পরিচিত মুখ থাকলেও বেশিরভাগ প্রার্থী স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের কাছে তুলনামূলকভাবে অপরিচিত। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মঠবাড়িয়া পৌর শহরের নিউমার্কেট এলাকায় উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত পরিচিতি সভায় এসব প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। উপজেলা জামায়াতের আমির সহকারী অধ্যাপক মো. আ. জলিল শরীফ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের আমির (ভারপ্রাপ্ত) মাওলানা মো. আব্দুর রব। ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, তুষখালী ইউনিয়নে তাওহীদ হাসান রুমী, ধানীসাফায় মো. মেহেদী হাসান, মিরুখালীতে ডা. নূরুল আমিন, দাউদখালীতে মো. হাবিবুর রহমান, মঠবাড়িয়া সদরে মো. আবুল কালাম আজাদ, টিকিকাটায় মো. শহিদুল ইসলাম এবং বেতমোর রাজপাড়ায় এস. এম. মজিবুর রহমানকে চেয়ারম্যান প্রার্থী করা হয়েছে। এ ছাড়া আমড়াগাছিয়ায় মো. ইয়াকুব আলী খাঁন, সাপলেজায় মো. আ. মালেক মীর, হলতা গুলিশাখালীতে মো. আরিফ বিল্লাহ এবং বড় মাছুয়া ইউনিয়নে মো. মেহেদী হাসানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সভায় উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মো. আফজাল হোসেন, সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদসহ স্থানীয় ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। নেতারা আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সাংগঠনিকভাবে কাজ করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। আরটিভি/টিআর
১১ ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা
চাঁদা না পেয়ে সাইকেল মেকারকে মারধর, অতঃপর...
নওগাঁর মান্দায় এক সাইকেল মেকারের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির মামলায় আল আমিন (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চাঁদা না পেয়ে সাইকেল মেকারকে মারধর, অতঃপর...
জ্বালানি তেলের মূল্য আর বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেই, সুযোগ থাকলে কমবে
জ্বালানি তেলের মূল্য আর বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই, সুযোগ থাকলে কমানো হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। 
জ্বালানি তেলের মূল্য আর বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেই, সুযোগ থাকলে কমবে
মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড
ফরিদপুরে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মিরাজ শেখ (৩৫) নামে এক যুবককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আসামি মিরাজ শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কড়া পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে জেলার নগরকান্দা উপজেলায় মিরাজ শেখের বাড়ির সামনে খেলছিল ওই মাদ্রাসাছাত্রী। এ সময় কৌশলে তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন মিরাজ। সেখানে নিয়ে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর মাদ্রাসাছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান মিরাজ শেখকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর আদালতে মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ সাজা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, মামলায় মিরাজ শেখের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আদালত তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। আরটিভি/এসআর  
মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড
‘নজরানা বাঁশের ভুর’, ১৮ দিনের যাত্রায় আটরশির পথে ভক্তরা
ফরিদপুরের আটরশি বিশ্ব ওরস শরীফে অংশ নিতে রংপুরের পীরগঞ্জে প্রায় দুই মাস ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে ‘নজরানা বাঁশের ভুর’ তৈরির। বাঁশ দিয়ে তৈরি এই ভুরটি নিয়ে দীর্ঘ নদী পথ পাড়ি দিয়ে আটরশি দরবার শরীফে যাবেন জাকের ও ভক্তরা।
‘নজরানা বাঁশের ভুর’, ১৮ দিনের যাত্রায় আটরশির পথে ভক্তরা
আরও পড়ুন
আদালতের নির্দেশের পর চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার ওসি বদলি
সড়ক দুর্ঘটনাতেও দায়িত্ববিচ্যুত হননি ইউএনও মেহেদী হাসান
দেশের ১২ উপজেলায় নতুন ইউএনও নিয়োগ দিলো সরকার
মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কালীগঞ্জের ইউএনও