ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

শাশুড়িকে হত্যা করে ডাকাতির নাটক, পুত্রবধূর লোমহর্ষক বর্ণনা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে শাশুড়িকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ডাকাতির নাটক সাজিয়েও শেষ রক্ষা হলো না পুত্রবধূ আরিফা আক্তারের (২৬)। সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুই সহযোগীকে নিয়ে শাশুড়ি আসমা আক্তারকে (৫৫) হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি; সেইসঙ্গে দেন হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন।

তিনি জানান, ডাকাতির ঘটনাটি তদন্ত করতে নেমে পুলিশ নিশ্চিত হয়, এটি ডাকাতি নয়। বরং এটি ছিল একটি সাজানো নাটক। আসমা আক্তারকে হত্যা করে ডাকাতির ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন পুত্রবধূ আরিফা আক্তার উর্মী ও তার সহযোগীরা।

উর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদে বের হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার আরও জানান, আসমা আক্তার যখন তার রুমে ঘুমিয়ে পড়েন তখন সুযোগ বুঝে আসমা আক্তারের ঘরে প্রবেশ করেন আরিফা আক্তার উর্মী ও তার সহযোগীরা। পরে লকারে রাখা সাড়ে তিন লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করার জন্য চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় দেখে ফেলেন আসমা আক্তার। আর এই দেখে ফেলার কারণে আসমা আক্তারের গলায় গামছা পিছিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পুত্রবধূসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে জয়দেবপুর থানা পুলিশ।

এদিন দুপুরে পুলিশ আসমা হত্যার তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন পিরুজালী মধ্যপাড়া গ্রামের নিহত শাশুড়ি আছমা আক্তারের পুত্রবধূ আরিফা আক্তার উর্মী, পিরুজালী আলিমপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে উজ্জ্বল হোসেন (৪৬) ও মধ্যপাড়া গ্রামের আলম মিয়ার স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৪৫)।

আরও পড়ুন

মামলার প্রধান আসামি আরিফা আক্তারের স্বীকারোক্তিতে তার ঘর থেকে লুট করা টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জয়দেবপুর থানার এসআই সুজন রঞ্জন তালুকদার বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নের পিরুজালী (মধ্যপাড়া) গ্রামের আসমা আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। নিহতের একমাত্র ছেলে নাজমুল সাকিবের স্ত্রী আরিফা আক্তারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়। এক পর্যায়ে আরিফা আক্তার তার শাশুড়িকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং এ ঘটনার সঙ্গে তাকে আরও দুই জন সহযোগিতা করেছে বলে জানায়। পরে পুলিশ বুধবার রাতেই ঘটনায় জড়িত অপর দুই আসামি উজ্জ্বল হোসেন ও শাহনাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করে।

জয়দেবপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নয়ন কুমার কর বলেন, আসমা আক্তারের স্বামী আনিছুর রহমান তিন জনকে আসামি করে মামলা করেছে। নগদ টাকা এবং তিন ভরি স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশেই তারা পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রিহ্যাব সেন্টার থেকে ফিরে যে কাণ্ড ঘটালেন শোভন
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের পলাশবাড়ী এলাকায় ছেলের ছুরিকাঘাতে মা পারুল বেগমের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্বামী ও অভিযুক্ত ছেলের বাবা সরদার আলী। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে মুত্তাকীন আলম শোভন পালিয়ে গেলেও পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুরের দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের আরাজি পলাশবাড়ী এলাকা থেকে অভিযুক্ত শোভনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুত্তাকীন আলম শোভন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। ছেলেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে তার বাবা-মা বগুড়ার একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব সেন্টার) রাখার ব্যবস্থা করেন। সেখানে প্রায় দুই বছর থাকার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। তবে বাড়িতে ফেরার পর তিনি আবারও মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন সময় মাদক গ্রহণ করতে থাকেন। এ অবস্থায় গত মঙ্গলবার রাতে ওই পুনর্বাসন কেন্দ্রের লোকজন শোভনকে নিতে তাদের বাড়িতে আসেন। বিষয়টি টের পেয়ে শোভন ঘরের ভেতর থেকে ছুরি বের করেন। এরপর তিনি প্রথমে তার মাকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই পারুল বেগমের মৃত্যু হয়। এ সময় শোভনের মাকে রক্ষা করতে তার বাবা সরদার আলীকে এগিয়ে যান। এতে তিনিও হামলার শিকার হন। পর শোভন দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত সরদার আলীকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, ছুরিকাঘাতের পর অভিযুক্ত ছেলে পালিয়ে যান। পরে অনুসন্ধান ও সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলার হলোখানা এলাকার আরাজি পলাশবাড়ী থেকে মুত্তাকীন আলম শোভনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিকে, নিহত পারুল বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। আরটিভি/টিআর
রিহ্যাব সেন্টার থেকে ফিরে যে কাণ্ড ঘটালেন শোভন
ইরানে গিয়ে কিডনি বিক্রি করে দেশে ফেরেন ছামছুল, অতঃপর...
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ছামছুল ইসলাম (৩০) অভাবের তাড়নায় প্রায় এক মাস আগে নিজের একটি কিডনি বিক্রি করেছেন। তবে তাতেও ঘোচেনি তার অভাব। ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি।
ইরানে গিয়ে কিডনি বিক্রি করে দেশে ফেরেন ছামছুল, অতঃপর...
বৃহস্পতিবার যেসব এলাকায় টানা ৮ ঘণ্টা থাকবে না বিদ্যুৎ
বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের কারণে সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার যেসব এলাকায় টানা ৮ ঘণ্টা থাকবে না বিদ্যুৎ
বারেক ব্যাপারীর বাদ্যযন্ত্রে তল্লাশি, লুকানো ছিল বিদেশি পিস্তল
যাত্রীবাহী বাসে একটি পুরোনো ভাঙা হারমোনিয়াম নিয়ে যাচ্ছিলেন মো. বারেক ব্যাপারী। হারমোনিয়ামের ভেতরে কৌশলে লুকানো ছিল দুটি বিদেশি পিস্তল ও সাতটি গুলি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত দুইটার দিকে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানার পূর্ব গোলচত্বর এলাকায় তল্লাশিচৌকি বসিয়ে ওই ব্যক্তিকে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। পরে বারেক ব্যাপারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুন্সিগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি গুলি এবং অস্ত্র বিক্রির ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।  বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে ময়মনসিংহে এসআরবি-১৪-এর সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীটির অধিনায়ক মাসুদ রানা। এসআরবি জানায়, ৪৯ বছর বয়সী বারেক ব্যাপারীর বাড়ি পাবনা জেলায়, থাকেন ঈশ্বরদীতে। কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা রিয়াজ পরিবহনের একটি বাসে করে যাচ্ছিলেন। যমুনা সেতুর পূর্ব থানার পূর্ব গোলচত্বর এলাকায় বাসটিতে তল্লাশি চালানোর সময় তার কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা পুরোনো হারমোনিয়ামের ভেতর থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, সাতটি গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। বারেককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এসআরবি জানায়, অস্ত্র দুটি মুন্সিগঞ্জের সুজন ব্যাপারী নামের এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল বারেকের। সুজন কুষ্টিয়া থেকে পিস্তল দুটি কিনেছেন বলে তিনি জানান। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এসআরবি-১৪-এর টাঙ্গাইল ক্যাম্পের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-১১-এর নারায়ণগঞ্জের একটি দল আজ সকাল সাতটার দিকে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার শিরোলই এলাকায় সুজন ব্যাপারীর বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে সুজন ব্যাপারী (৩২) ও তার বড় ভাই মনির হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, তিনটি মুঠোফোনসহ নগদ ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযানে তিনটি বিদেশি পিস্তল, ১১টি গুলি, ৪টি ম্যাগাজিন, ৩টি মুঠোফোন ও ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি। এসআরবি অধিনায়ক মাসুদ রানা বলেন, এ ঘটনায় টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানা ও মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। অস্ত্রগুলো কোথা থেকে এসেছে, কত দিন ধরে এ কাজে আটক ব্যক্তিরা জড়িত, সেসব বিষয় তদন্তে বেরিয়ে আসবে। আরটিভি/এসএস
বারেক ব্যাপারীর বাদ্যযন্ত্রে তল্লাশি, লুকানো ছিল বিদেশি পিস্তল
টঙ্গীর পর এবার সাভারে আগুন
গাজীপুরের টঙ্গীর পর এবার সাভারের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মাদানী সুপার মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
টঙ্গীর পর এবার সাভারে আগুন
আরও পড়ুন
অটোরিকশা থেকে পৌনে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই, অতঃপর...
চালের ড্রামে ৩৪ হাজার ইয়াবা, মা-ছেলে গ্রেপ্তার
সাবেক কাউন্সিলরের বাসায় হঠাৎ ডিবির অভিযান, অতঃপর...
হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক এমপি সুলতান মনসুর গ্রেপ্তার