ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ঈদের ৩ দিন ছাড়ে নিত্যপণ্য বিক্রির আহ্বান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের 

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ১১:১৭ পিএম
মত বিনিময় সভায় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা ও জেলা প্রশাসক : ছবি আরটিভি

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে তিন দিন মূল্য ছাড়ে নিত্যপণ্য বিক্রির আহ্বান জানিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মত বিনিময় সভা করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তার এই মানবিক উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা।

জেলা প্রশাসকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আগামী সোমবার (১৮ মে) খাতুনগঞ্জ, রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ চট্টগ্রামের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঈদ উপলক্ষে অন্তত তিন দিনের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে মূল্যছাড় দেওয়ার ঘোষণা দেবেন বলে জানা গেছে। দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগকে অনেকেই ‘মানবিক বাজারব্যবস্থার নতুন অধ্যায়` হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এর আগে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও ব্যবসায়ীদের প্রতি একই ধরনের মানবিক আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে, এবার চট্টগ্রামে বিষয়টি আরও বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ, রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উৎসব এলেই পণ্যের দাম কমে। ইউরোপ-আমেরিকাসহ উন্নত দেশগুলোতে উৎসব উপলক্ষে “ফেস্টিভ সেল” বা বিশেষ মূল্যছাড় সাধারণ সংস্কৃতির অংশ। কিন্তু বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে উল্টো চিত্র দেখা যায়—উৎসব এলেই বাড়তে থাকে নিত্যপণ্যের দাম। সেই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসে মানবিক ও দায়িত্বশীল বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক রাজধানী। চট্টগ্রামকে ঘিরেই দেশের বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে, যার প্রভাব আজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছে। তাই আমরা চট্টগ্রাম থেকেই একটি নতুন মানবিক বার্তা দিতে চাই।

জেলা প্রশাসক বলেন, উৎসবের প্রকৃত দর্শন হচ্ছে সর্বজনীন অংশগ্রহণ। উৎসবের ধারণাটাই এমন যে সেখানে সকল স্তরের, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ সেটার সাথে সম্পৃক্ত থাকবে। কিন্তু যখন উৎসবকে কেন্দ্র করে জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তখন সাধারণ মানুষ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়।

তিনি বলেন, সবাই মিলেমিশে যদি ঈদ উদযাপন করতে না পারি তবে সেটাকে সামগ্রিক উৎসব বলা যায় না।

প্রশাসক বলেন, নতুন সরকার একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী উৎসবকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত মুনাফার আশায় নিত্যপণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হয়।

তিনি বলেন, উৎসব আসলে জিনিসের দাম বাড়বে না, উৎসব আসলে জিনিসের দাম কমবে—এবং এই ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম হবে পাইওনিয়ার।

সভায় জেলা প্রশাসক বাজার ব্যবস্থার নানা সমস্যার কথাও তুলে ধরে বলেন, একটি পণ্য আমদানির পর ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে তিন-চারটি হাত ঘুরতে হয়। একজন আমদানিকারক, এরপর পাইকার, তারপর আরও কয়েকজন মধ্যস্বত্বভোগী ঘুরে পণ্য খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে আসে। ফলে আমদানিতে সামান্য দেরি হলেই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় এবং দাম বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে আগাম টাকা দেওয়ার পরও বিভিন্ন মধ্যস্বত্বভোগী এক জায়গা থেকে কিনে আরেক জায়গায় বিক্রি করেন। অথচ আমদানিকারকদের কাছ থেকে যদি সরাসরি খুচরা ব্যবসায়ীরা পণ্য পাওয়ার সুযোগ পান, তাহলে অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ কমবে এবং বাজারও স্থিতিশীল থাকবে।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, একজন ব্যবসায়ী যদি একটি পণ্যে এক টাকা লাভ করেন, তাহলে ঈদ উপলক্ষে সেই লাভের একটি অংশ কমিয়ে এক টাকা বা দুই টাকা ছাড় দিলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। এতে ব্যবসায়ীরও বড় ক্ষতি হবে না, বরং ক্রেতা বাড়বে।

সভায় উপস্থিত এক ব্যবসায়ী প্রতিনিধি বলেন, জেলা প্রশাসকের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে তারা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। অন্তত তিন দিনের জন্য হলেও যদি এক টাকা বা দুই টাকা কমানো যায়, তাহলে খুচরা বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আরেক ব্যবসায়ী প্রতিনিধি বলেন, বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপ ও খাতুনগঞ্জের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে তারা অভ্যন্তরীণভাবে বসবেন। তবে, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলে এর প্রভাব আরও ভালো হবে বলে তিনি মনে করেন।

সভায় আরও প্রস্তাব আসে, দোকানে আগের দাম ও বর্তমান ছাড়মূল্য একসঙ্গে লিখে প্রদর্শন করলে ক্রেতারা বুঝতে পারবেন তারা কতটুকু ছাড় পাচ্ছেন। এতে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ক্রেতাদের আস্থাও তৈরি হবে।

একজন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি বলেন, একজন যদি উদাহরণ তৈরি করেন, তাহলে অন্যরাও অনুসরণ করবেন। এক টাকার মুনাফা থেকে ৫০ পয়সা ছাড় দিলে ব্যবসায়ীর খুব বেশি ক্ষতি হবে না, কিন্তু সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।

সভায় কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধিরা বলেন, রোজা ও ঈদকে কেন্দ্র করে যেন কোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় হতে না পারে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। অবৈধ মজুত বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে যাতে মানহীন পণ্য না পৌঁছায়, সে বিষয়েও ব্যবসায়ী নেতাদের নজরদারি বাড়াতে হবে।

সভায় বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। তারা বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করতে পারে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চাঁদপুরে শুরু হলো নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস
চাঁদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ ক্রীড়া আয়োজনের উদ্বোধন করেন চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একরামুল ছিদ্দিক, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নূর আলম দ্বীন, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমা এবং চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী। জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কয়েক শত শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ আয়োজনে অংশ নেয়। শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের এ আয়োজন শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি তাদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভার বিকাশ এবং ভবিষ্যতে দক্ষ খেলোয়াড় গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এদিকে, সারা দেশে একযোগে শুরু হওয়া এ ক্রীড়া আয়োজনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। আরটিভি/টিআর
চাঁদপুরে শুরু হলো নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস
প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন, ‘যুবক উধাও’
ভোলার লালমোহনে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন এক তরুণী। রিয়াদ নামের এক যুবকের সঙ্গে তিন বছরের প্রেমের সম্পর্কের দাবি করে উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আলাউদ্দিন ডুবাই বাড়িতে অনশন শুরু করেন তিনি। তবে ওই তরুণী প্রেমিকের বাড়িতে আসার পর অভিযুক্ত রিয়াদ পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। ওই তরুণী দাবি, টিকটকের মাধ্যমে মুঠোফোনে রিয়াদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে চট্টগ্রামে তাদের দেখা হলে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর দীর্ঘ তিন বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। এ সময় বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার পাশাপাশি শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়েছেন বলে দাবি করেন ওই তরুণী। ওই তরুণীর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক চলাকালে তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন রিয়াদ। তবে বর্তমানে তাকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন ওই যুবক। এমন পরিস্থিতিতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে এসে অনশন শুরু করেছেন তিনি। ওই তরুণীর ভাষ্য, দীর্ঘ তিন বছরের সম্পর্কের পর তিনি রিয়াদকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে চান। বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত ওই বাড়ি থেকে সরে যাবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয় কয়েকজনের মতে, এমন ঘটনা ঘটে থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত রিয়াদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য জানার চেষ্টা চলছে। আরটিভি/টিআর
প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন, ‘যুবক উধাও’
এত সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য আর কোথাও দেখিনি: ইউএনডিপি প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় জনগণের ভূমিকা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন  ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের ডেপুটি আবাসিক প্রতিনিধি সোনালী দায়ারত্না। বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) বিকেলে টাঙ্গুয়ার হাওরের তাহিরপুর উপজেলার অন্তর্গত ওয়াচ টাওয়ার-সংলগ্ন জয়পুর গ্রামে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা (পোহাস) আয়োজিত ‘হাওরের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা: টাঙ্গুয়ার হাওরে সম্প্রদায়ভিত্তিক বন পুনরুদ্ধার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পের সূচনা ও অংশীজন পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সোনালী দায়ারত্না বলেন, আমি শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ঘুরেছি; কিন্তু হাওরের মতো এত সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য আর কোথাও দেখিনি। এখানে পর্যটনশিল্প গড়ে উঠেছে, কিন্তু স্থানীয় মানুষ এর মাধ্যমে কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পর্যটনের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের উপকার না হলে এবং পরিবেশ সুরক্ষিত না থাকলে এই পর্যটনশিল্প টিকবে না। প্রসঙ্গত, ইউএনডিপি-জিইএফ স্মল গ্র্যান্টস প্রোগ্রামের অপারেশনাল ফেজ-৮-এর সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সভায় অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ সুরক্ষায় তাঁদের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, যা আশাব্যঞ্জক। কমিউনিটির মানুষসহ সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তাহিরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হারুনুর রশিদ এবং দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আহমদ মুরাদ। স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থার সদস্য নাহিন নাজনীন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউএনডিপির কর্মসূচি বিশেষজ্ঞ শাহাদাত হোসেন শাকিল, এসজিপির জাতীয় সমন্বয়কারী ড. মুজাম্মেল হক, মিসেস তাহমিনাসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সহযোগী সংগঠন ‘ওমেন ফর ওয়েটল্যান্ড’-এর পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি সোনালী দায়ারত্নাকে হাওরের নারীদের হাতে তৈরি ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি উপহার দেওয়া হয়। সংগঠনটির সভাপতি সালমা আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রীতি রানী করসহ অন্য সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হাওরের পরিবেশ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে গানের মাধ্যমে নিজেদের দাবি ও প্রত্যাশা তুলে ধরেন। প্রকল্পটির আওতায় টাঙ্গুয়ার হাওরের জলাভূমি পুনরুদ্ধার, দেশীয় হিজল-করচসহ উপযোগী উদ্ভিদের সংরক্ষণ ও রোপণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সভাপতির বক্তব্যে কাসমির রেজা টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ বিপর্যয়ের বিভিন্ন কারণ এবং পরিবেশ সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি হাওরের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের জন্য ইউএনডিপি ও সরকারকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে এসব প্রকল্প যেন প্রকৃত অর্থেই হাওরবাসীর কল্যাণে কাজ করে, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সভায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী, সরকারি দপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, নারী, তরুণ ও অন্যান্য অংশীজন তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। তাঁরা পর্যটনের কারণে টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশের যে বিপর্যয় ঘটেছে, তা তুলে ধরেন। তাঁরা আরও বলেন, একসময় টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রচুর মাছ, অন্যান্য জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ ছিল। বর্তমানে সেগুলো বহুলাংশে কমে গেছে। টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় তাঁরা ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা ও সরকারের কাছে আবেদন জানান। আরটিভি/টিআর
এত সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য আর কোথাও দেখিনি: ইউএনডিপি প্রতিনিধি
বিগত সরকারের প্রতিটি অন্যায়ের বিচার এই মাটিতেই হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
বিগত সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। জনগণের সম্পদ লুটপাট করেছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর অন্যায়-অত্যাচার চালিয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে যারা জনগণের অধিকার হরণ করেছে, তাদের কোনোভাবেই দায়মুক্তি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি আরও বলেন, অতীতে যত অন্যায় ও অপকর্ম করা হয়েছে, প্রতিটি অন্যায়ের বিচার এই বাংলার মাটিতেই হবে। অপরাধী যে-ই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা এবং মানুষের ওপর নির্যাতনের জন্য প্রত্যেককে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এককালীন আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিধান কান্তি হালদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নবাবগঞ্জ উপজেলার প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী, দুস্থ-অসহায়, অসুস্থ ও গৃহহীন ব্যক্তি এবং সাত ধরনের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, আমাদের চুপচাপ ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান দেখে কেউ যেন মনে না করেন, এ দেশের মানুষ আপনাদের অতীত কর্মকাণ্ড ভুলে গেছে। জনগণ সবকিছু মনে রেখেছে। এমনকি আপনারা যদি জনগণের কাছে দুই হাত তুলে, করজোড়ে ক্ষমা চাইতেন, তাহলেও জনগণ বিবেচনা করত আপনাদের ক্ষমা করা যায় কি না। তাই আরেকটি জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, দয়া করে আস্ফালন করবেন না, উসকানিমূলক বক্তব্য দেবেন না এবং জনগণকে বিপথগামী করার চেষ্টা করবেন না। দেশের মানুষ এখন শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়। জনগণের আবেগ ও ধৈর্যকে দুর্বলতা মনে করার কোনো কারণ নেই। তাই সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানাচ্ছি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল মতিন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি আতিকুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শুভ্র প্রকাশ চক্রবর্তী, নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, পেস এগ্রোভেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনিছুর রহমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাজ্জাদ আল মামুন, মুক্তি মাহফুজসহ অনেকে। আরটিভি/টিআর
বিগত সরকারের প্রতিটি অন্যায়ের বিচার এই মাটিতেই হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
শিবগঞ্জে ফুলকুঁড়ি আসরের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পুরস্কার বিতরণ
‘বাহান্ন সন ফুরফুরে মন, আয়রে ছুটে আয়, সম্ভাবনার জোছনা আনি, আঁধার দুনিয়ায়’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে ফুলকুঁড়ি আসরের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ফুলকুঁড়ি আসর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার অধীন আম্রকানন শাখার আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শাখা পরিচালক শাহরিয়া বিন মিজানুরের সভাপতিত্বে এবং সহকারী পরিচালক আসাদুল্লাহ আসাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ড. কেরামত আলী। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফুলকুঁড়ি আসরের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মাহবুব সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম, ফুলকুঁড়ি আসর আম্রকানন শাখার উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মো. আবুল বাশার, উপদেষ্টা অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, সাবেক কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক এন এম সিরাজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম রশিদ, শিবগঞ্জ সাহিত্য মঞ্চের সভাপতি শাহ নেওয়াজ গামা এবং সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের কানসাট শাখার ব্যবস্থাপক মো. মেসবাউর রহমান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফুলকুঁড়ি আসর আয়োজিত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১০৫ জনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। এ ছাড়া শিশুদের মেধার বিকাশ, সুস্থ সাংস্কৃতিক মনোভাব গড়ে তোলা, পড়ালেখায় মনোযোগ বৃদ্ধি এবং মা-বাবার প্রতি সন্তানদের শ্রদ্ধাশীল হওয়ার বিষয়ে উৎসাহমূলক বক্তব্য দেন বক্তারা। আরটিভি/টিআর
শিবগঞ্জে ফুলকুঁড়ি আসরের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পুরস্কার বিতরণ
আরও পড়ুন
চবিতে ছাত্রদল নেতার অবৈধ দোকানের সংবাদে ছবি প্রকাশ নিয়ে সাংবাদিকের নামে জিডি
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে তিন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু
শিল্প-শিক্ষার দূরত্ব ঘোচাতে চবি-চট্টগ্রাম চেম্বারের চুক্তি
শিশুকে বলাৎকারের পর হত্যা, ৮ বছর পর সেই আসামির মৃত্যুদণ্ড