ঈদে কার বাড়ি যাবে ১৮ লাখ টাকার ‘মামা-ভাগ্নে’

বাগেরহাট প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

রোববার, ২৪ মে ২০২৬ , ০৮:৫৪ পিএম


ঈদে কার বাড়ি যাবে ১৮ লাখ টাকার ‘মামা-ভাগ্নে’
১৮ লাখ টাকার মামা-ভাগ্নে। ছবি: আরটিভি

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বাগেরহাটের পশুর হাটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে জেলার সবচেয়ে বড় দুই ষাঁড় ‘মামা’ ও ‘ভাগ্নে’। বিশাল আকৃতির এই দুই হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান ষাঁড় দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন নানা বয়সের মানুষ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ শুধু বিস্ময় নিয়ে দেখছেন তাদের বিশাল দেহাবয়ব।

বাগেরহাট সদর উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের নাজমা ডেইরি ফার্মে বেড়ে ওঠা এই দুই ষাঁড়ের মোট দাম হাঁকা হয়েছে ১৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ‘ভাগ্নে’র দাম ১০ লাখ এবং ‘মামা’র দাম ৮ লাখ টাকা। এখন এলাকাজুড়ে আলোচনা—ঈদে শেষ পর্যন্ত কার বাড়ি যাচ্ছে এই আলোচিত জুটি।

প্রায় ২০ বছর ধরে গবাদিপশু লালন-পালনের সঙ্গে জড়িত খামারি শেখ ইব্রাহিম হোসেন। ছোট পরিসরে শুরু করলেও এখন তার নাজমা ডেইরি ফার্ম এলাকায় পরিচিত একটি খামার। তার খামারেই জন্ম নেয় হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের দুটি বাছুর। সময়ের ব্যবধানে সেগুলোই এখন জেলার সবচেয়ে বড় কোরবানির পশু হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

খামার সূত্রে জানা যায়, ‘ভাগ্নে’ নামের ষাঁড়টির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট, উচ্চতা ৬ ফুট এবং ওজন প্রায় ১২০০ কেজি। অপরদিকে ‘মামা’র ওজন প্রায় ১১০০ কেজি। বিশাল গঠন ও আকর্ষণীয় সৌন্দর্যের কারণে প্রতিদিন শত শত মানুষ খামারে এসে পশু দুটি দেখছেন।

খামারি শেখ ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই খুব যত্ন করে পশু দুটিকে লালন করেছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি। সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার ও প্রাকৃতিক উপায়ে বড় করেছি। আমরা চাই, ন্যায্য দামে ভালো ক্রেতার কাছে বিক্রি হোক।

তিনি জানান, প্রতিদিন পশু দুটির খাবারের পেছনে এক থেকে দেড় হাজার টাকা খরচ হয়। খড়, ঘাস, ভুসি, ভুট্টা, খৈলসহ পুষ্টিকর দেশীয় খাবার খাওয়ানো হয়। পরিবারের সদস্যরাও পশু দুটিকে নিজেদের সন্তানের মতো করে দেখাশোনা করেন।

নাজমা আক্তার বলেন, গরু দুটিকে আমরা পরিবারের সদস্যের মতোই দেখি। প্রতিদিন গোসল করানো, খাওয়ানো, পরিচর্যা—সব কিছু নিয়ম মেনে করা হয়। এখন অনেক দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ শুধু দেখতে আসে।

স্থানীয় বাসিন্দারাও ‘মামা-ভাগ্নে’ নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। এলাকার বাসিন্দা মাওলানা ওহিদুজ্জামান বলেন, এত বড় গরু বাগেরহাটে খুব কম দেখা যায়। হাকিমপুর গ্রামের এই খামারে এত বড় কোরবানির পশু আছে, তা আমরা আগে বুঝিনি। ঈদের আগে মানুষ ভিড় করছে শুধু একনজর দেখার জন্য।

আরেক দর্শনার্থী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে এসেছি। সামনে থেকে দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি। এমন বড় গরু সচরাচর চোখে পড়ে না।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. ছায়েব আলী বলেন, খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও তদারকির মাধ্যমে নিরাপদ উপায়ে পশু পালন নিশ্চিত করা হচ্ছে। এতে খামারিরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি ক্রেতারাও স্বাস্থ্যসম্মত পশু পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে জেলার খামারগুলোতে পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় খামারিদের উৎসাহ দিতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ‘মামা-ভাগ্নে’ এখন শুধু একটি খামারের গরু নয়, বাগেরহাটের মানুষের কৌতূহল ও আলোচনার বড় অংশ হয়ে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত এই ১৮ লাখ টাকার আলোচিত জুটি কার কোরবানির ঈদকে বিশেষ করে তোলে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission