ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ক্রেতা না পেয়ে নদীতে চামড়া ফেলে দিলেন ব্যবসায়ী

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ক্রেতা না পেয়ে নদীতে কোরবানির পশুর চামড়া ফেলে দিয়েছেন এক ব্যবসায়ী। ছবি: আরটিভি

পবিত্র ঈদুল আজহায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন মৌসুমি ব্যবসায়ী হেলাল মিয়া। মনে আশা ছিল, কষ্ট করে সংগৃহীত এই চামড়াগুলো বিক্রি করে দু’পয়সা লাভ করবেন। কিন্তু ঈদের পর দুইদিন হন্যে হয়ে ঘুরেও কোনো ক্রেতা পাননি তিনি। এ অবস্থায় উপায়ান্তর না দেখে ক্ষোভ ও হতাশায় চামড়াগুলো তিতাস নদীতে ফেলে দিয়েছেন এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

রোববার (৩১ মে) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার আমোদাবাদ এলাকার তিতাস নদীর পাড়ে গিয়ে বেশ কিছু কোরবানির পশুর চামড়া ভাসমান অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চামড়াগুলো নদীতে ফেলেছেন হেলাল মিয়া নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি মূলত পার্শ্ববর্তী বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল বাজারের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

Capture2

চামড়া কেনাবেচার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা হেলাল মিয়া এবার এক পরিচিত ব্যবসায়ীর আশ্বাসে মাঠে নেমেছিলেন। তিনি জানান, ওই ব্যবসায়ীর পরামর্শ ও চামড়া কিনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়ে এবার প্রতি পিস ২০০ টাকা দরে মোট ১২৫টি চামড়া কিনেছিলেন। কিন্তু চামড়া সংগ্রহের পর হঠাৎ করেই সেই ব্যবসায়ী জানিয়ে দেন, তিনি চামড়াগুলো নেবেন না।

হতাশাগ্রস্ত হেলাল মিয়া বললেন, ‘আমি খুব বিপাকে পড়ে যাই। পরে আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, কিন্তু কেউ চামড়া নিতে রাজি হয়নি। দুইদিন ধরে চামড়াগুলো সংরক্ষণ করে রেখেছিলাম। শেষ পর্যন্ত বিক্রির কোনো ব্যবস্থা করতে না পেরে বাধ্য হয়ে ১০৫টি চামড়া নদীতে ফেলে দিয়েছি। আর মাত্র ২০টি চামড়া কোনোমতে লবণ মাখিয়ে রেখেছি।’

আরও পড়ুন

চামড়াগুলো বিক্রি করতে না পেরে নিজের প্রায় ২৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে জানিয়ে হেলাল মিয়া বলেন, ‘চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে এখন সরকারের সুদৃষ্টি দেওয়া খুব দরকার।’

এ বিষয়ে আখাউড়া উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সিঙ্গারবিল বাজার কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস ছাত্তার মিয়া বলেন, চামড়া আমাদের দেশের একটি মূল্যবান জাতীয় সম্পদ। কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির অর্থ সাধারণত গরিব ও অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে চামড়ার ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না, যার ফলে গরিব মানুষেরাও তাদের হক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

Capture3

সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে দেশের চামড়া শিল্পকে রক্ষা করতে নতুন সরকারের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জোর দাবি জানান তিনি।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বগুড়ায় মাইক্রোবাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু, আহত ৭
বগুড়ার শাজাহানপুরে মাইক্রোবাস ও ভুট্টাবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন।
বগুড়ায় মাইক্রোবাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু, আহত ৭
মিষ্টি খেয়ে যে কারণে হাজতে যেতে হলো কিশোরকে
পকেটে টাকা নেই, অথচ পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা। যশোর রেলস্টেশনে এক পথচারীর খাবারের প্যাকেট দেখে ক্ষুধার তাড়নায় সেটি কেড়ে নেয় কিশোর নূর মোহাম্মদ। প্যাকেট খুলে ভাতের বদলে মিষ্টি পেয়ে কয়েকটি খেয়েও ফেলে সে। এরপর সেই কয়েকটি মিষ্টিই তাকে নিয়ে যায় মারধর, পুলিশ, আদালত হয়ে এক রাতের হাজতবাসের পথে।
মিষ্টি খেয়ে যে কারণে হাজতে যেতে হলো কিশোরকে
রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল 
রাজমিস্ত্রির সহকারী থেকে রিকশাচালক। এরপর হঠাৎ রিকশা ছেড়ে হ্যাকিংয়ে জড়িয়ে পড়া। মাত্র পাঁচ বছরে বদলে যায় নাটোরের লালপুরের ওহিদুল মোল্লার জীবনযাত্রা।
রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল 
অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ বানাতেন এই এনসিপি নেতা
ফরিদপুরে অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ, শিশুদের বেবি জেলসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদ (৪০) এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় বসবাস করেন। ওই এলাকায় তার মালিকানাধীন মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ কারখানা রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো জানান, মঙ্গলবার রাতে কারখানাটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অবৈধভাবে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও সামগ্রী উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়ায় বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কারখানাটি অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। সেখানে শিশুদের বেবি জেল, বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধসহ বিপুল পরিমাণ আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করা হতো। অভিযানের সময় কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ বিষয়ে এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব সাইফ হাসান খাঁন বলেন, অন্যায়ের সঙ্গে আমাদের আপস নেই। দলের কোনো সদস্য অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে কেন্দ্রকে জানানো হবে। আরটিভি/এসকে
অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ বানাতেন এই এনসিপি নেতা
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবার পাবে দেড় কোটি টাকা
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সহায়তার অর্থ বিতরণ করা হবে। 
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবার পাবে দেড় কোটি টাকা
আরও পড়ুন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদেশি মদ, বিয়ার, এস্কাফ ও গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার
মাইকিং করেও দুর্ভোগ লাঘব হলো না ৮০ হাজার মানুষের
ট্রেনে ছিনতাই চক্রের ২ নারী সদস্য আটক
নিখোঁজের দুইদিন পর ঝোঁপে মিলল শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ