ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছ ফের দাঁড়িয়ে গেল, এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামে ঝড়ে উপড়ে পড়া একটি গাছ হঠাৎ আবার দাঁড়িয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে অনেকেই অলৌকিক বলে দাবি করছেন। প্রতিদিন শত শত মানুষ গাছটি দেখতে ভিড় করছেন। কেউ মানত করছেন, কেউ আবার গাছের শিকড় সংগ্রহ করছেন রোগ-ব্যাধি নিরাময়ের আশায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে এক প্রচণ্ড ঝড়ে মুন্সীবাড়ির পুকুরপাড়ে থাকা বড় আকারের একটি গাছ শিকড়সহ উপড়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে গাছটি বিক্রি করা হলে কাঠুরিয়া গাছের ডালপালা ও বিভিন্ন অংশ কেটে ফেলেন। স্থানীয়দের দাবি, কাটার কাজ চলাকালীন সময়েই হঠাৎ গাছটির অবশিষ্ট অংশ আবার আগের স্থানে দাঁড়িয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার(৪জুন) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার ডালপালাবিহীন গাছের একটি অংশ কিছুটা সামনের দিকে হেলে দাঁড়িয়ে রয়েছে। গাছটির গোড়ার অংশ ও শিকড়ের অংশ এখনও দৃশ্যমান। কেটে ফেলা অংশগুলো পাশে পড়ে রয়েছে।

গাছটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ধর্মীয় আবেগও তৈরি হয়েছে। গাছের গোড়ায় লাল কাপড় বাঁধা হয়েছে। অনেককে সেখানে আগরবাতি ও মোমবাতি জ্বালাতে দেখা গেছে। কেউ কেউ দোয়া পড়ছেন, আবার কেউ গাছের শিকড় সংগ্রহ করছেন বিভিন্ন রোগের উপশমের আশায়।

মুন্সীবাড়ির সদস্য শারমীন সুলতানা দাবি করেন, তিনি নিজ চোখে গাছটি পড়ে যেতে এবং পরে আবার দাঁড়িয়ে যেতে দেখেছেন। তার ভাষ্য, ঝড়ে গাছটি পড়ে যাওয়ার পর কেটে টুকরো টুকরো করা হচ্ছিল। হঠাৎ দেখি গাছটি আবার উঠে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি দেখে আমি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এসে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন।

পরিবারের সদস্য আবুল বাশার মুন্সী বলেন, প্রচণ্ড ঝড়ে গাছটি পড়ে গিয়েছিল। পরে বিক্রি করে দেওয়া হয়। কাটার পর আবার দাঁড়িয়ে যায়। এটি আল্লাহর কুদরত ছাড়া অন্য কিছু নয়।

গাছের মালিক মাহবুব মুন্সী বলেন, কীভাবে এমন হয়েছে তা আল্লাহই ভালো জানেন। প্রতিদিন বহু মানুষ গাছটি দেখতে আসছেন। কেউ মানত করছেন, কেউ শিকড় নিয়ে যাচ্ছেন।

প্রতিবেশী আঁখি বেগম বলেন, গাছটি মাটিতে পড়ে থাকার সময় এর ওপর দিয়েও চলাচল করেছি। পরে কাটার পর আবার দাঁড়িয়ে যেতে দেখেছি। বিষয়টি আমাদের কাছে বিস্ময়কর।

আরেক প্রতিবেশী ফরিদ মুন্সী বলেন, গাছটি দাঁড়িয়ে যাওয়ার খবর শুনে দেখতে এসেছি। এখনও এটি দাঁড়িয়ে আছে। শত শত মানুষ এটি দেখতে আসছেন।

গাছটি কাটার কাজ করা কাঠুরিয়া মো. আমিন মিয়া জানান, গাছটি ঝড়ে শিকড়সহ উপড়ে পড়েছিল। আমি মাটিতে থাকা অবস্থাতেই কাটতে শুরু করি। ডালপালা কাটার পর গাছটি আবার দাঁড়িয়ে যায়। তবে গাছে জিন-ভূত আছে বলে আমি বিশ্বাস করি না।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে গাছটি কীভাবে পুনরায় দাঁড়িয়ে গেল, তার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এখনো সামনে আসেনি। স্থানীয়দের কাছে এটি এখন বিস্ময় ও কৌতূহলের এক কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সুন্দরবনে মিলল নতুন ৭ প্রজাতির মাছের সন্ধান
প্রায় ছয় হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সুন্দরবনের ৩১ শতাংশ এলাকাই জলাভূমি। স্থলভাগের গাছপালা, র‍য়্যাল বেঙ্গল টাইগারসহ বন্যপ্রাণীর বিশাল সম্ভারের বিষয়ে অনেকেই জানেন। বনের পানির নিচেও রয়েছে প্রাকৃতিক জলজ সম্পদের সমৃদ্ধ ভান্ডার।
সুন্দরবনে মিলল নতুন ৭ প্রজাতির মাছের সন্ধান
প্রস্তুত গাছিরা, যশোরে শুরু হচ্ছে খেজুরের রস ও গুড় তৈরির মৌসুম
যশোরে বাজতে শুরু করেছে শীতের আগমনী সুর। শীত মৌসুমকে সামনে রেখে এখন জেলার গাছিদের ব্যস্ত সময় পার হচ্ছে। কুড়াল, হাসুয়া ও দা হাতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত তারা—ছেঁটে পরিষ্কার করা হচ্ছে খেজুরগাছ।
প্রস্তুত গাছিরা, যশোরে শুরু হচ্ছে খেজুরের রস ও গুড় তৈরির মৌসুম
নামাজে গিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না স্কুলছাত্রের
নোয়াখালীর চাটখিল ও লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী কচুয়া বাজারে রাস্তা পার হওয়ার সময় মাইক্রোবাসের চাপায় এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।
নামাজে গিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না স্কুলছাত্রের
স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ঘরবন্দী রাখতে দেওয়া হয় পাহারা
গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামীকে পাশের কক্ষে আটকে রেখে এক গার্মেন্টসকর্মীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে চার যুবকের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের পর আসামিদের হুমকি ও সার্বক্ষণিক পাহারা দেওয়ার কারণে দুই দিন ধরে ভুক্তভোগী পরিবার ঘরবন্দী হয়ে ছিল বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে স্বজনদের সহায়তায় তারা থানায় এসে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।
স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ঘরবন্দী রাখতে দেওয়া হয় পাহারা
তিন দিন ধরে নিখোঁজ বান্দরবানের ৩ কিশোরী, খোঁজা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন থেকে নিখোঁজ হওয়া তিন কিশোরীর তিন দিনেও সন্ধান মেলেনি। রোববার (১১ অক্টোবর) বিদ্যালয় থেকে নিবন্ধন কার্ড নিয়ে আসার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তারা। এর পর থেকে তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বুধবার পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা এ তথ্য জানিয়েছেন। নিখোঁজ তিন কিশোরীর বয়স ১৪ থেকে ১৫ বছর। তারা ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের একই পাড়ার বাসিন্দা এবং পরস্পরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তাদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী চকরিয়ার মানিকপুর এলাকার একটি বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। অন্য দুজন স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তিন কিশোরী চকরিয়ার মানিকপুরে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। ১৫ বছর বয়সী কিশোরী বিদ্যালয় থেকে নিবন্ধন কার্ড আনতে যাচ্ছিল। তবে তারা বিদ্যালয়ে পৌঁছেছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। এক কিশোরীর মা জানান, তিনজনের কারও কাছে মুঠোফোন থাকার কথা নয়। তবে যে অটোরিকশায় তারা চকরিয়ায় গিয়েছিল, সেই চালক পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছেন, কিশোরীদের হাতে একটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন দেখেছেন। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে মঙ্গলবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন পরিবারের সদস্যরা। লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ জানান, চকরিয়া বাসস্ট্যান্ডে একটি মুঠোফোনসহ তিন কিশোরীকে স্থানীয় কয়েকজন দেখেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সেখান থেকে তারা কোন দিকে গেছে, তা জানা যায়নি। নিখোঁজ কিশোরীরা চকরিয়া অথবা কক্সবাজারের কোথাও থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। ওসি কাইছার হামিদ আরও জানান, কিশোরীদের সন্ধানে চকরিয়া থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। আরটিভি/এসএস
তিন দিন ধরে নিখোঁজ বান্দরবানের ৩ কিশোরী, খোঁজা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ