ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ফলভরা গাছের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা!

কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:২০ পিএম
ফলহীন বৃক্ষের সঙ্গে গৃহস্থ : ছবি আরটিভি

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নে একটি লংগান (আশফল) বাগানে রহস্যজনকভাবে ব্যাপক ফলঝরার ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিকের দাবি, শত্রুতাবশত কেউ ক্ষতিকর রাসায়নিক স্প্রে করে গাছের অপরিপক্ব ফল ঝরিয়ে দিয়েছে। এতে কৃষক ও বাগান ক্রয়কারী ব্যবসায়ীর প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতির দাবি করা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের মৃত তিনকড়ি মণ্ডলের ছেলে অরুণ মণ্ডল প্রায় আট বছর আগে ১০০ শতাংশ জমিতে ৬৮টি লংগান গাছের একটি বাগান গড়ে তোলেন। কয়েক বছর ধরে তিনি বাণিজ্যিকভাবে বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করে আসছিলেন। চলতি মৌসুমেও গাছে প্রচুর ফল ধরেছিল। পরে তিনি পুরো বাগানের ফল উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকার ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের কাছে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করেন।

কিন্তু সম্প্রতি হঠাৎ করেই বাগানজুড়ে ব্যাপক হারে ফল ঝরতে শুরু করে। কয়েক দিনের ব্যবধানে অধিকাংশ গাছ প্রায় ফলশূন্য হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে কিছু গাছের পাতা হলদে হয়ে ঝরে যাওয়ার ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে।

আরও পড়ুন

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক অরুণ মণ্ডল জানান, কয়েকদিন আগে তার বাগান থেকে আম ও লিচু চুরির ঘটনা ঘটে। এরপর মঙ্গলবার (১ জুন) থেকে তিনি তার আশফল বাগানে অস্বাভাবিকভাবে ফল ঝরতে দেখেন। দুই-তিন দিনের মধ্যে প্রায় সব গাছের ফল ঝরে পড়ে।

কৃষক অরুণ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আট বছর ধরে অনেক কষ্ট করে বাগানটি গড়ে তুলেছি। এ বছর ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ এমন ক্ষতি মেনে নিতে পারছি না। আমার ধারণা, কেউ পরিকল্পিতভাবে গাছে ক্ষতিকর রাসায়নিক স্প্রে করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত ও শাস্তির আওতায় আনা উচিত।

ফল ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী এর আগে কম দামে বাগানটি কিনতে চেয়েছিলেন। আমি ন্যায্যমূল্যে বাগানটির ফল কিনেছি। এরপর থেকে বিভিন্নভাবে হয়রানির চেষ্টা চলছিল। আমার সন্দেহ, পরিকল্পিতভাবে গাছে আম পাকানোর কোনো রাসায়নিক স্প্রে করা হয়েছে, যার ফলে অপরিপক্ব ফল ঝরে পড়েছে। এতে আমি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।

অরুণ মণ্ডলের প্রতিবেশী কৃষক রবিন, সালাম ও কবিরুল বলেন, ‘কয়েকদিন আগেও গাছগুলো ফলে ভরে ছিল। এখন প্রায় সব ফল ঝরে পড়ে গাছ প্রায় ফলশূন্য হয়ে গেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় এ ধরনের অপরাধপ্রবণতা বাড়তে থাকবে এবং চাষিরা নিঃস্ব হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কুশুলিয়া ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আতাহার হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে বাগান পরিদর্শন করে মনে হয়েছে, কোনো দুর্বৃত্ত চক্র গাছগুলোতে ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিক প্রয়োগ করে থাকতে পারে। এর প্রভাবে অপরিপক্ব ফল ঝরে পড়েছে এবং কিছু গাছও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কী ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে, তা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। বিষয়টির তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চাষীসহ এলাকাবাসী।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সাবেক কাউন্সিলরের বাসায় হঠাৎ ডিবির অভিযান, অতঃপর...
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর দৌলতপুর থানার উত্তর দেয়ানা এলাকার হোসেন শাহ রোডের ২১২ নম্বর বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়।
সাবেক কাউন্সিলরের বাসায় হঠাৎ ডিবির অভিযান, অতঃপর...
বাবা-মায়ের ফোন ও সোনা বিক্রি করে পালানো ৪ স্কুলছাত্রী উদ্ধার, উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
বাবার মোবাইল ফোন ও মায়ের সোনার অলঙ্কার নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার স্কুলছাত্রীকে হবিগঞ্জ থেকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনজন পঞ্চম শ্রেণির এবং একজন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, টিকটকের মাধ্যমে পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠার পর পরিবারের অজান্তে গত ১২ অক্টোবর সকালে ওই চার শিক্ষার্থী স্কুলের অনুষ্ঠানের কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু তারা ক্লাসে উপস্থিত হয়নি। বিষয়টি জানার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে অবহিত করে। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা-পুলিশ অনুসন্ধানে নামে। বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পাশাপাশি দেশের সব থানায় নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের ছবি ও তথ্য পাঠানো হয়। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, নিবিড় অনুসন্ধানের একপর্যায়ে গত ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত দুইটার দিকে চুনারুঘাট থানা-পুলিশের সহযোগিতায় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে ওই চার শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স আট থেকে বারো বছরের মধ্যে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ কম ছিল। তারা নিয়মিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং টিকটকে ভিডিও আপলোড করত। এসব মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে কয়েকজন ছেলের সঙ্গে তাদের সখ্য গড়ে ওঠে। তবে পরিচিত ওই ছেলেদের প্রকৃত ঠিকানা সম্পর্কে তারা জানত না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভুল ধারণা ও ফ্যান্টাসিতে বিভ্রান্ত হয়ে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন ও উপার্জনের উদ্দেশে তারা বাসা থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ও সোনার অলঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে কুমিল্লার টাউন হল সুপার মার্কেটের বাহার মোবাইল মার্কেটে পরিবারের ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন চার হাজার টাকায় বিক্রি করে তারা। সেই টাকা নিয়ে প্রথমে ঢাকায় গেলেও পরিকল্পনা সফল না হওয়ায়, এক শিক্ষার্থীর দাদাবাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। হবিগঞ্জে পৌঁছে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করে তারা। তবে প্রকৃত ঠিকানা খুঁজে না পাওয়ায় ওই সিএনজিচালক রাত ২টার দিকে চার শিশুকে চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যান। ইতোমধ্যে জেলা গোয়েন্দা শাখা বিক্রি করা মোবাইল ফোন এবং সঙ্গে থাকা স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করেছে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধার হওয়া চার শিক্ষার্থীকে তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়। আরটিভি/টিআর
বাবা-মায়ের ফোন ও সোনা বিক্রি করে পালানো ৪ স্কুলছাত্রী উদ্ধার, উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সাগরে বিলীন বাবার কবর, কান্না থামছে না বৃদ্ধ জাকির হোসেনের
প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাবার কবর জিয়ারত করতেন জাকির হোসেন (৬২)। এ ছাড়া কোনো উপলক্ষে কিংবা বাবাকে মনে পড়লেই তিনি বাবার কবরের সামনে যেতেন। তবে এটি আর এখন সম্ভব নয়। 
সাগরে বিলীন বাবার কবর, কান্না থামছে না বৃদ্ধ জাকির হোসেনের
সাগরে নিখোঁজ স্বামী, সৌদিতে নিহত ছেলের মরদেহের অপেক্ষায় মা
যে সাগর স্বামী জালাল মিয়াকে কেড়ে নিয়েছিল, সেই সাগরেই ছেলেকে হারানোর ভয় ছিল মা ছাহেরা বেগমের। তাই স্বামীকে হারানোর পর একমাত্র ছেলেকে বাঁচানোর আকুলতায় ধারদেনা করে তাকে পাঠিয়েছিলেন সৌদি আরবে।
সাগরে নিখোঁজ স্বামী, সৌদিতে নিহত ছেলের মরদেহের অপেক্ষায় মা
দেশের একমাত্র রেলপথ, চলন্ত ট্রেনে ওঠা-নামা যেখানে ‘দুধভাত’
‘দাদি, হেঁটে যাচ্ছেন কেন? ট্রেনে উঠে আসেন।’ ট্রেনের যাত্রীর এমন প্রশ্নের জবাবে বৃদ্ধার উত্তর, ‘না, আজ ট্রেনে যাব না। আমার একটু তাড়া আছে, তাড়াতাড়ি যেতে হবে।’
দেশের একমাত্র রেলপথ, চলন্ত ট্রেনে ওঠা-নামা যেখানে ‘দুধভাত’
আরও পড়ুন
শিশুকে নিয়ে ছাদে মোশাররফ, ইউপি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুনাম ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার’
৪ লাখ টাকার মুক্তাখচিত দুর্গাদেবী দেখতে বুড়িয়ায় দর্শনার্থীদের ঢল
অন্তঃসত্ত্বা ১২ বছরের মাদরাসাছাত্রী, পালালেন শিক্ষকসহ ৩ জন
স্বামীর মোটরসাইকেলে স্কুলে যাচ্ছিলেন শিক্ষিকা, মুহূর্তেই পিষে দিলো ট্রাক