ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ফলভরা গাছের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা!

কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:২০ পিএম
ফলহীন বৃক্ষের সঙ্গে গৃহস্থ : ছবি আরটিভি

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নে একটি লংগান (আশফল) বাগানে রহস্যজনকভাবে ব্যাপক ফলঝরার ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিকের দাবি, শত্রুতাবশত কেউ ক্ষতিকর রাসায়নিক স্প্রে করে গাছের অপরিপক্ব ফল ঝরিয়ে দিয়েছে। এতে কৃষক ও বাগান ক্রয়কারী ব্যবসায়ীর প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতির দাবি করা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের মৃত তিনকড়ি মণ্ডলের ছেলে অরুণ মণ্ডল প্রায় আট বছর আগে ১০০ শতাংশ জমিতে ৬৮টি লংগান গাছের একটি বাগান গড়ে তোলেন। কয়েক বছর ধরে তিনি বাণিজ্যিকভাবে বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করে আসছিলেন। চলতি মৌসুমেও গাছে প্রচুর ফল ধরেছিল। পরে তিনি পুরো বাগানের ফল উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকার ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের কাছে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করেন।

কিন্তু সম্প্রতি হঠাৎ করেই বাগানজুড়ে ব্যাপক হারে ফল ঝরতে শুরু করে। কয়েক দিনের ব্যবধানে অধিকাংশ গাছ প্রায় ফলশূন্য হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে কিছু গাছের পাতা হলদে হয়ে ঝরে যাওয়ার ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে।

আরও পড়ুন

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক অরুণ মণ্ডল জানান, কয়েকদিন আগে তার বাগান থেকে আম ও লিচু চুরির ঘটনা ঘটে। এরপর মঙ্গলবার (১ জুন) থেকে তিনি তার আশফল বাগানে অস্বাভাবিকভাবে ফল ঝরতে দেখেন। দুই-তিন দিনের মধ্যে প্রায় সব গাছের ফল ঝরে পড়ে।

কৃষক অরুণ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আট বছর ধরে অনেক কষ্ট করে বাগানটি গড়ে তুলেছি। এ বছর ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ এমন ক্ষতি মেনে নিতে পারছি না। আমার ধারণা, কেউ পরিকল্পিতভাবে গাছে ক্ষতিকর রাসায়নিক স্প্রে করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত ও শাস্তির আওতায় আনা উচিত।

ফল ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী এর আগে কম দামে বাগানটি কিনতে চেয়েছিলেন। আমি ন্যায্যমূল্যে বাগানটির ফল কিনেছি। এরপর থেকে বিভিন্নভাবে হয়রানির চেষ্টা চলছিল। আমার সন্দেহ, পরিকল্পিতভাবে গাছে আম পাকানোর কোনো রাসায়নিক স্প্রে করা হয়েছে, যার ফলে অপরিপক্ব ফল ঝরে পড়েছে। এতে আমি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।

অরুণ মণ্ডলের প্রতিবেশী কৃষক রবিন, সালাম ও কবিরুল বলেন, ‘কয়েকদিন আগেও গাছগুলো ফলে ভরে ছিল। এখন প্রায় সব ফল ঝরে পড়ে গাছ প্রায় ফলশূন্য হয়ে গেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় এ ধরনের অপরাধপ্রবণতা বাড়তে থাকবে এবং চাষিরা নিঃস্ব হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কুশুলিয়া ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আতাহার হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে বাগান পরিদর্শন করে মনে হয়েছে, কোনো দুর্বৃত্ত চক্র গাছগুলোতে ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিক প্রয়োগ করে থাকতে পারে। এর প্রভাবে অপরিপক্ব ফল ঝরে পড়েছে এবং কিছু গাছও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কী ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে, তা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। বিষয়টির তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চাষীসহ এলাকাবাসী।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও মেলেনি সাড়া, দরজা ভাঙতেই ‘চোখ কপালে’
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও মেলেনি সাড়া, দরজা ভাঙতেই ‘চোখ কপালে’
বগুড়ায় মাইক্রোবাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু, আহত ৭
বগুড়ার শাজাহানপুরে মাইক্রোবাস ও ভুট্টাবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন।
বগুড়ায় মাইক্রোবাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু, আহত ৭
মিষ্টি খেয়ে যে কারণে হাজতে যেতে হলো কিশোরকে
পকেটে টাকা নেই, অথচ পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা। যশোর রেলস্টেশনে এক পথচারীর খাবারের প্যাকেট দেখে ক্ষুধার তাড়নায় সেটি কেড়ে নেয় কিশোর নূর মোহাম্মদ। প্যাকেট খুলে ভাতের বদলে মিষ্টি পেয়ে কয়েকটি খেয়েও ফেলে সে। এরপর সেই কয়েকটি মিষ্টিই তাকে নিয়ে যায় মারধর, পুলিশ, আদালত হয়ে এক রাতের হাজতবাসের পথে।
মিষ্টি খেয়ে যে কারণে হাজতে যেতে হলো কিশোরকে
রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল 
রাজমিস্ত্রির সহকারী থেকে রিকশাচালক। এরপর হঠাৎ রিকশা ছেড়ে হ্যাকিংয়ে জড়িয়ে পড়া। মাত্র পাঁচ বছরে বদলে যায় নাটোরের লালপুরের ওহিদুল মোল্লার জীবনযাত্রা।
রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল 
অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ বানাতেন এই এনসিপি নেতা
ফরিদপুরে অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ, শিশুদের বেবি জেলসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদ (৪০) এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় বসবাস করেন। ওই এলাকায় তার মালিকানাধীন মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ কারখানা রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো জানান, মঙ্গলবার রাতে কারখানাটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অবৈধভাবে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও সামগ্রী উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়ায় বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কারখানাটি অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। সেখানে শিশুদের বেবি জেল, বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধসহ বিপুল পরিমাণ আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করা হতো। অভিযানের সময় কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ বিষয়ে এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব সাইফ হাসান খাঁন বলেন, অন্যায়ের সঙ্গে আমাদের আপস নেই। দলের কোনো সদস্য অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে কেন্দ্রকে জানানো হবে। আরটিভি/এসকে
অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ বানাতেন এই এনসিপি নেতা
আরও পড়ুন
ধারের টাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে মরিয়মের মরদেহ নেওয়া হয় সাতক্ষীরায় 
স্পিকারের কাছ থেকে চিঠি পেলে গাজী নজরুলের বিষয়ে ব্যবস্থা: ইসি সচিব
এমপি গাজী নজরুলের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল সাতক্ষীরা
কলারোয়ায় ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার