ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বিভাগের একমাত্র সিটি স্ক্যান মেশিনটি তিন সপ্তাহ ধরে বিকল হয়ে আছে। এছাড়া তিনটি এক্স-রে মেশিনের মধ্যে দুটি এবং দুটি এমআরআই মেশিনের মধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরে অচল রয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো রোগী।
ময়মনসিংহ বিভাগ ছাড়াও শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার লাখো মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। প্রতিদিন হাজারো রোগী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের যন্ত্রপাতি অচল থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
চিকিৎসকদের পরামর্শে জরুরি ভিত্তিতে সিটি স্ক্যান কিংবা এমআরআই প্রয়োজন হলেও হাসপাতালের মেশিন বিকল থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। সেখানে কয়েক গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে তাদের। এতে আর্থিকভাবে বিপাকে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের রোগীরা।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, শুধু মেশিন বিকল থাকাই নয়, অনেক সময় যন্ত্র সচল থাকলেও বিভিন্ন জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ফলে সরকারি হাসপাতালে সেবা না পেয়ে অনেকেই বাইরে পরীক্ষা করাতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের প্রধান ডা. বদরুল আহসান বলেন, নতুন যন্ত্রপাতি সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মেশিন স্থাপনের আশা করছি। পাশাপাশি বিকল যন্ত্রপাতিগুলো দ্রুত সচল করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
মমেক হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, অচল যন্ত্রপাতি সংস্কারের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।
তবে রোগী ও স্বজনদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম অচল থাকায় তাদের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। দ্রুত মেশিনগুলো মেরামত ও সচল করে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আরটিভি/টিআর



