ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

দিনে গোয়ালঘর, রাতে মাদকের আড্ডা বসে এই মাদরাসায়

পাইকগাছা প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
ছবি: আরটিভি

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার দক্ষিণ সোনাতনকাটি গ্রামের সোনাতনকাটি আলহেরা দাখিল মাদরাসা একসময় এলাকার মানুষের স্বপ্নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও এখন সেটি পরিণত হয়েছে পরিত্যক্ত ভবনে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৫ বছর ধরে সেখানে নিয়মিত কোনো শিক্ষার্থী নেই, নেই পাঠদানও। অথচ কাগজে-কলমে প্রতিষ্ঠানটি সচল রয়েছে।

মাদরাসাটিতে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ১৭ জন। প্রতি বছর সরকারি বইয়ের চাহিদা দেওয়া হচ্ছে, উপবৃত্তির সুবিধাও নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দিনের বেলায় শ্রেণিকক্ষগুলো গোয়ালঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়, আর রাত হলে সেখানে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা। যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য স্থানীয়রা ৩২ শতক জমি দান করেছিলেন, সেটি শিক্ষা কার্যক্রম হারিয়ে ফেলায় এখন সেই জমি ফেরত চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন দাতারা।

উপজেলার দক্ষিণ সোনাতনকাটি গ্রামে ১৯৯৮ সালে স্থানীয়দের দান করা ৩২ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় সোনাতনকাটি আলহেরা দাখিল মাদরাসা।

জমিদাতা রেখা বেগম, আনোয়ারা বেগম ও আকবর মোড়লসহ অন্যরা জানান, জমি দানের সময় শর্ত ছিল- যদি কোনোদিন শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে জমি দাতা বা তাদের উত্তরাধিকারীদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।

জমিদাতা আকবর মোড়লের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠার পর কয়েক বছর মাদরাসাটি স্বাভাবিকভাবে চললেও পরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ধ্বংস হয়ে যায়। তার দাবি, ২০১১ সালের পর থেকে কোনো শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থীও নেই। নেই নিয়মিত ক্লাস, নেই কার্যকর শিক্ষা উপকরণ। অথচ প্রতিষ্ঠানটি কাগজে-কলমে সচল দেখিয়ে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০০১ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ শাহ মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস মাদরাসাটির উদ্বোধন করেন এবং আর্থিক সহায়তাও দেন। কিন্তু পরবর্তীতে নানা জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে সচল দেখিয়ে সরকারি সুবিধা ভোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতি বছরের মতো চলতি বছরও শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি পাঠ্যবইয়ের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। সূত্র জানায়, এবার ২২৫ সেট বইয়ের চাহিদা দেওয়া হয়েছিল। পরে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণির জন্য ১৫ সেট এবং ষষ্ঠ থেকে দাখিল দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণির জন্য ১০ সেট বই বরাদ্দ দেওয়া হয়। অথচ স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে সেখানে কোনো শিক্ষার্থী নেই।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার মীর নুরে আলম বলেন, এটি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান। তাদের আরও বেশি বইয়ের চাহিদা ছিল, তবে কম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপবৃত্তির সুবিধাও তারা পেয়ে আসছে। কীভাবে এসব সুবিধা পাচ্ছে, সেটি তদন্তের বিষয়।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদরাসার শ্রেণিকক্ষগুলোতে শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে রাখা হয়েছে গোখাদ্য, কোথাও বাঁধা রয়েছে ছাগল। কোনো শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছিল না, এমনকি প্রতিষ্ঠানের কার্যকর অফিস কক্ষও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

একই সময়ে সুপারিন্টেন্ডেন্ট আজগার আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার স্ত্রী ও মাদরাসার সহকারী শিক্ষিকা রাশিদা খাতুন বাড়ির উঠানে ধান শুকাচ্ছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি বলেন, আমি এইমাত্র ক্লাস নিয়ে এলাম। তবে তখন মাদরাসার কোথাও কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রভাষক শফিয়ার রহমান বলেন, এত বড় জালিয়াতি ও অনিয়ম আমি আর কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেখিনি। এখানে যা কিছু সরকারি বরাদ্দ আসে, সবই স্বামী-স্ত্রী মিলে আত্মসাৎ করেন বলে এলাকায় ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।

দাতা আকবর মোড়ল বলেন, আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে জমি দিয়েছিলাম। এখন সেখানে বছরের পর বছর কোনো ছাত্র-ছাত্রী নেই। তাই শর্ত অনুযায়ী জমি ফেরত চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সুপারিন্টেন্ডেন্ট আজগার আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি একবার ফোন রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় শুনেই বলেন, পরে কথা বলছি। এরপর তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে আর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি তার বাড়িতে গিয়েও সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ইউএনও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান পাইকগাছায় রয়েছে, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। লিখিত অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরি, এনসিপি নেতা কারাগারে
ফরিদপুরে অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ, শিশুদের বেবি জেলসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদ (৪০) এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় বসবাস করেন। ওই এলাকায় তার মালিকানাধীন মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ কারখানা রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো জানান, মঙ্গলবার রাতে কারখানাটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অবৈধভাবে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও সামগ্রী উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়ায় বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কারখানাটি অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। সেখানে শিশুদের বেবি জেল, বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধসহ বিপুল পরিমাণ আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করা হতো। অভিযানের সময় কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ বিষয়ে এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব সাইফ হাসান খাঁন বলেন, অন্যায়ের সঙ্গে আমাদের আপস নেই। দলের কোনো সদস্য অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে কেন্দ্রকে জানানো হবে। আরটিভি/এসকে
অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরি, এনসিপি নেতা কারাগারে
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবার পাবে দেড় কোটি টাকা
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সহায়তার অর্থ বিতরণ করা হবে। 
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবার পাবে দেড় কোটি টাকা
হজের স্বপ্নে পায়ে হেঁটে যাত্রা, বেনাপোলে থেমে গেল দুলালের পথ
পায়ে হেঁটে সৌদি আরবের মক্কায় গিয়ে পবিত্র হজ পালনের স্বপ্ন নিয়ে নাটোরের সিংড়া থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন দুলাল হোসেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বেনাপোল সীমান্তে পৌঁছালেও ভারতীয় ভিসা না থাকায় আপাতত থেমে গেছে তার যাত্রা। সীমান্ত পার হতে না পেরে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিজ গ্রামে ফিরে এসেছেন তিনি।
হজের স্বপ্নে পায়ে হেঁটে যাত্রা, বেনাপোলে থেমে গেল দুলালের পথ
শর্টসার্কিটের আগুনে দগ্ধ ঘুমিয়ে থাকা ৬ বছরের শিশু
খুলনা মহানগরীর খালিশপুরে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে কামরুল শেখ নামে এক ব্যক্তির সেমিপাকা বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে মরিয়ম (৬ নামে) ঘুমন্ত থাকা এক শিশু দগ্ধ হয়েছে।
শর্টসার্কিটের আগুনে দগ্ধ ঘুমিয়ে থাকা ৬ বছরের শিশু
ভয় দেখিয়ে ৬৭ হাজার কেজি মুরগির বিষ্ঠা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভয় দেখিয়ে ৬৭ হাজার ২০০ কেজি মুরগির বিষ্ঠা ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছিনতাই করা মুরগির বিষ্ঠার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা।
ভয় দেখিয়ে ৬৭ হাজার কেজি মুরগির বিষ্ঠা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২
আরও পড়ুন
শর্টসার্কিটের আগুনে দগ্ধ ঘুমিয়ে থাকা ৬ বছরের শিশু
১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত খুবির ৬ শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জরুরি নির্দেশনা দিল মাদরাসা বোর্ড
বোনকে ফিরে পেতে খুবি শিক্ষার্থীর আকুতি