সড়ক সংস্কার কাজে দায়িত্ব অবহেলায় ৪ কর্মকর্তা শোকজ 

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ , ১১:১৪ এএম


সড়ক সংস্কার কাজে দায়িত্ব অবহেলায় ৪ কর্মকর্তা শোকজ 
সড়ক সংস্কারকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পৌরসভার কর্মকর্তারা। ছবি: আরটিভি

লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকার সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কাজ তদারকির দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে উপসহকারী প্রকৌশলীসহ ৪ কর্মকর্তাকে শোকজ করেছে পৌর প্রশাসন। এ ছাড়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগও করা হয়।

রোববার (১৯ জুলাই) রাতে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, সড়ক সংস্কার কাজে তদারকিতে দায়িত্ব অবহেলায় উপসহকারী প্রকৌশলী সোহাগ আলী ও কার্য সহকারী ফাহাদ হোসেনকে লিখিতভাবে শোকজ করেছে পৌর প্রশাসক। এ ছাড়া উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইসহাক ও এবিএম আশরাফ উদ্দিনকে শোকজ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রশাসক। তবে এখনও তাদেরকে চিঠি দেওয়া হয়নি। 

পৌরসভার এই নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রকল্প পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোস্তফা অ্যান্ড সন্স’র স্বত্ত্বাধিকারী শহিদুল ইসলামকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে নিম্নমানের মালামাল সাইট থেকে অপসারণের জন্য বলা হয়েছে। 

আরও পড়ুন

প্রকল্প পরিচালককে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (আরইউটিডিপি) কাজ চলমান রয়েছে। প্যাকেজটি হলো- ত্রিমোহনী হয়ে এএনএম ফজলুল করিম রোড থেকে পলিটেকনিক্যাল রোড পর্যন্ত বিসি সড়ক, ড্রেন, স্ট্রিট লাইট ও ফুটপাতের উন্নয়ন এবং মাওলানা রেহান উদ্দিন রোড ও রামগতি রোড থেকে ঢাকা-রায়পুর রোড পর্যন্ত বিসি সড়ক, ড্রেন, স্ট্রিট লাইট ও ফুটপাতের উন্নয়ন। কিন্তু সড়কের ম্যাকাডমের জন্য অতি নিম্নমানের খোয়া এবং ড্রেনের কাজে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। 

ইতোপূর্বে ঠিকাদারকে মৌখিক এবং লিখিত সতর্কতামূলক চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার কর্ণপাত না করে অতি নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় সব প্রকার কাজ বন্ধ রেখে অতি নিম্নমানের মালামাল সাইট থেকে ৩ দিনের মধ্যে অপসারণ করে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফিরোজ আলম নামে স্থানীয় ঠিকাদার কাজটি কিনে নিয়েছেন। তিনি লক্ষ্মীপুরের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান অঙ্গশোভার মালিক। শুরু থেকেই তিনি কাজে ব্যাপক অনিয়ম করে আসছেন। খোয়ার বদলে রাবিশ এবং ড্রেন নির্মাণ কাজে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করেছেন। রোববার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission