
কখনো প্রশাসন, কখনো পুলিশ, আবার কখনো পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাব তৈরি করতেন। এরপর কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে নানা অজুহাতে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। অবশেষে দিনাজপুর শহরের একটি ছাত্রাবাস থেকে তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
আটক যুবকের নাম মোশাররফ হোসেন (২৮)। তিনি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের নওখৈর গ্রামের বাসিন্দা। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে শহরের কালুর মোড় এলাকার একটি ছাত্রাবাস থেকে তাকে আটক করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মোশাররফ নিজেকে কখনো পুলিশ ক্যাডার, কখনো প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি দাবি করতেন, ৪৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডার, ৪৭তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডার এবং ৪৯তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। নামী ব্র্যান্ডের পোশাক পরে ছবি তুলে নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতেন। এসব ভুয়া পরিচয়ের আড়ালে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে অর্থ আত্মসাৎ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিজেকে ৪৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তিনি ওই ছাত্রাবাসে ওঠেন। পরে শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন, তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ছাত্রাবাস ছেড়ে চলে যান।
মঙ্গলবার ভোরে নিজের মালামাল নিতে ছাত্রাবাসে এলে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তার বিভিন্ন প্রতারণার তথ্য সামনে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে এসএসসি পাস বলে জানান। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, মোশাররফ আটকের খবর পেয়ে প্রতারণার শিকার দাবি করা রাঙামাটির এক তরুণী দিনাজপুরে এসেছেন। এছাড়া নীলফামারী থেকেও এক তরুণীর অভিভাবক কোতোয়ালি থানায় যোগাযোগ করেছেন।
পুলিশের হাতে থাকা মোবাইল ফোনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের দাবি, এসব লেনদেনের পরিমাণ ১০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত।
রাঙামাটি থেকে আসা এক তরুণী জানান, কয়েক মাস আগে মোশাররফের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে নিজেকে ৪৬তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিগত সমস্যার কথা বলে কয়েক দফায় তার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নেন। নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত না দিয়ে বিষয়টি ভুলে যেতে বলেন। পরে ওই তরুণী কক্সবাজার থানায় প্রতারণার মামলা করেন।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরনবী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোশাররফ বিভিন্ন নারীর সঙ্গে ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন।
তিনি আরও জানান, মোশাররফের বিরুদ্ধে কক্সবাজার থানায় একটি প্রতারণার মামলা রয়েছে। এছাড়া নীলফামারীতে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিয়ের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা বিচারাধীন। আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরটিভি/জেএমএ




