দুর্গন্ধেই ফাঁস হলো হত্যাকাণ্ড, উদ্ধার বিচ্ছিন্ন মাথা ও দেহ

আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ , ১০:৩৩ এএম


দুর্গন্ধেই ফাঁস হলো হত্যাকাণ্ড, উদ্ধার বিচ্ছিন্ন মাথা ও দেহ
নিহত সোহেল মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহে উৎকট দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে সাত দিন ধরে নিখোঁজ এক যুবকের বিচ্ছিন্ন মাথার সন্ধান পাওয়া গেছে। এ সময় পাশের মাটি খুঁড়ে তার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (২২ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে অম্বিকাগঞ্জ কলেজ এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত সোহেল মিয়া (২৬) সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া এলাকার নূরুল ইসলাম ও জুলেখা বেগম দম্পতির সন্তান। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয় ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি গাছ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৬ জুলাই রাত ৮টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন সোহেল মিয়া। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় বুধবার সকালে নিহত যুবকের বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোহেল মিয়ার বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে অম্বিকাগঞ্জ কলেজের একটি একাডেমিক ভবনের স্থান নির্বাচনের কাজ চলছিল। বুধবার দুপুরে সেখানে জায়গার মাপজোখ করতে যান কলেজের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী। 

এ সময় তারা উৎকট দুর্গন্ধ টের পান। এর উৎস খুঁজতে গিয়ে পাওয়া যায় সোহেলের মাথা ও দেহের অবশিষ্ট অংশ।

অম্বিকাগঞ্জ কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, বিকেল পৌনে তিনটার দিকে সেখানে গিয়ে দেখি, আমাদের সীমানাপ্রাচীর ভাঙা ও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সেই দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে চারদিকে খোঁজ করতেই মানুষের মাথা দেখতে পাই। পরে তাৎক্ষণিক বিষয়টি থানা–পুলিশকে অবহিত করলে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পুলিশ আসে এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে পরিবারের সদস্যরা মাথাটি নিখোঁজ সোহেলের বলে শনাক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, মাথাটি পাওয়া যায় ঘাসের ওপর। পাশেই নরম মাটিতে ছিল শিয়াল, কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণীর আঁচড়ের দাগ। ধারণা করা হচ্ছে, গর্ত থেকে কোনো প্রাণী মাথাটি টেনে তুলে ফেলেছে। এর ফলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। 

মাহবুবুল আলম বলেন, পুলিশ প্রথমে বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে। পরে মরদেহের বাকি অংশের সন্ধানে পাশেই মাটি খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়। একপর্যায়ে মাটির ভেতর থেকে দুটি গ্লাভস পাওয়া যায়। রাত পৌনে নয়টার দিকে কয়েক ফুট গভীরে পাওয়া যায় মাথাবিহীন দেহ।

নিহতের শ্বশুর আলাল উদ্দিন বলেন, গত ১৬ জুলাই রাত আটটার পর সোহেলের ভগ্নিপতি সেলিম মিয়া কাজের কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকেই তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। সোহেল ও সেলিম একসঙ্গে গাছ কাটার কাজ করলেও পারিশ্রমিক নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ ছিল। সেলিম নিয়মিত সোহেলকে কম টাকা দিতেন এবং মারধরও করতেন। এ কারণে সোহেল পরে ঢাকায় নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, সোহেল বাড়িতে আসার খবর পেয়ে সেলিম আবার কাজ দেওয়ার কথা বলে তাকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সেলিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। এরই মধ্যে মঙ্গলবার সেলিম এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

আলাল উদ্দিন বলেন, এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে একটি বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পেয়ে তারা পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। এরপর মরদেহের বাকি অংশও উদ্ধার হয়। শরীরে কাপড় দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে মরদেহটি সোহেলের।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, বিচ্ছিন্ন মাথা ও অবশিষ্ট দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, নিহতের ভগ্নিপতি সেলিম মিয়াকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কারা, কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে মরদেহ মাটিচাপা দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আশরাফুল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, ওই মাথা ও দেহ নিখোঁজ যুবক সোহেলের। পিবিআইয়ের মাধ্যমে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে এ পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া শরীরের কাপড় দেখে মরদেহটি সোহেলের বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিচারের সদস্যরা। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরটিভি/আইএম 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission