কলেজের গভর্নিং বডির তালিকা জালিয়াতি, আদালতে পিবিআইর প্রতিবেদন

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ , ০১:৩০ পিএম


কলেজের গভর্নিং বডির তালিকা জালিয়াতি, আদালতে পিবিআইর প্রতিবেদন
ছবি: আরটিভি

ভোলার চরফ্যাশনে বেগম রহিমা ইসলাম কলেজের গভর্নিং বডির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে পাঠানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে তিনজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজটিতে পাঁচ সদস্যের একটি এডহক কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির মেয়াদ ছিল ছয় মাস এবং এ সময়ের মধ্যে নিয়মিত গভর্নিং বডি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় এডহক কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি মো. মাকসুদুর রহমান বাদী হয়ে কলেজের অধ্যক্ষকে বিবাদী করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেন।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, তদন্ত শেষে পুলিশ পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবিরের স্বাক্ষরিত প্রায় ১২০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে। প্রতিবেদনে কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. পারভেজ হোসেন ও মোহাম্মদ রেজাউল করিম খন্দকারের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতির মাধ্যমে গভর্নিং বডির তালিকা পাঠানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মো. মাহাদি হাসান জুয়েলকে সভাপতি এবং মো. আলমগীরকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য করে এডহক কমিটি অনুমোদন দেয়। পরে ৩০ এপ্রিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো একটি তালিকায় পারভেজ হোসেনকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ রেজাউল করিম খন্দকারকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে দেখানো হয়। তদন্তে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য যাচাই করে পিবিআই জানতে পারে, এডহক কমিটির সভাপতি ও বিদ্যোৎসাহী সদস্যের স্বাক্ষর ও সিল জাল করা হয়েছিল বলে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন

এডহক কমিটির বিদ্যোৎসাহী সদস্য মো. আলমগীর বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের এডহক কমিটি দিয়েছিল এবং ছয় মাসের মধ্যে নিয়মিত গভর্নিং বডি গঠনের নির্দেশ দেয়। কিন্তু দুই মাসের মাথায় আমাদের স্বাক্ষর জাল করে একটি তালিকা পাঠানো হয়। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে ৩ জুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মাহাদি হাসান জুয়েলকে সভাপতি ও আমাকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য রেখে বাকি সদস্যদের অপরিবর্তিত রেখে গভর্নিং বডি অনুমোদন দেয়। বর্তমানে আমাদের কমিটি বহাল। এরপর শিক্ষক প্রতিনিধি মো. মাকসুদুর রহমান আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত করে তিনজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কলেজে গিয়ে মামলার প্রধান বিবাদী জাহাঙ্গীর আলমের দেখা পেলেও সে কোনো মন্তব্য না করে পরে বক্তব্য দেবে বলে জানান।

অপরদিকে মো. পারভেজ হোসেন বলেন, আমরা হাইকোর্টে রিট করার পর সংশ্লিষ্ট কমিটির ওপর স্থিতাবস্থা (স্টে) দেওয়া হয়। পরে আমাদের প্রতিপক্ষরা বিষয়টি নিয়ে চেম্বার জজ আদালতে যায় এবং সেখানে স্ট্যাটাস কো দেওয়া হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে। পরবর্তীতে হাইকোর্টের আরেকটি আদেশ অনুযায়ী বর্তমানে আমাদের অবস্থান বহাল রয়েছে।

মোহাম্মদ রেজাউল করিম খন্দকার বলেন, আমার কমিটির সভাপতি পারভেজ সাহেব। তিনি যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, সেটাই সঠিক।

পিবিআইর পুলিশ পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে তিনজনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন বিজ্ঞ আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission