কুড়িগ্রামের রাজারহাট থানা পুলিশের এসআই আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে চার্জশিট জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি মুঠোফোনে আরটিভিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিষয়টি তদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম এএসপি সার্কেলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন রাজারহাট প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক ইত্তেফাকের উপজেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত আহ্বায়ক আনিছুর রহমানের ছেলে সোহেল আনিছ পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছেন— মামলা দায়েরের মাত্র ২৫ দিনের মাথায় বাদী কিংবা এজাহারভুক্ত সাক্ষীদের সঙ্গে কোনো কথা না বলেই তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আতিকুল ইসলাম তড়িঘএমন অভিযোগে ওই দিনই রাজারহাট থানায় একটি মামলা (মামলা নম্বর-১৭) দায়ের করা হয়।
অভিযোগ করা হয়েছে, মামলা দায়েরের মাত্র ২৫ দিনের মাথায় বাদী কিংবা এজাহারভুক্ত সাক্ষীদের সঙ্গে কোনো কথা না বলেই তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আতিকুল ইসলাম তড়িঘড়ি করে গোপনে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
মামলার এজাহারে চারজন সাক্ষীর নাম থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁদের কারও জবানবন্দি নেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া প্রায় তিন মাস আগে গোপনে চার্জশিট দাখিল করা হলেও বিষয়টি বাদী দুই দিন আগে জানতে পারেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে (২৩ জুলাই) ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বাদী ও সাক্ষীদের জাল স্বাক্ষরে ১৬১ ধারার ভুয়া জবানবন্দির নথি তৈরি করে আদালতে আসামিপক্ষকে সুবিধা দিতে মনগড়া চার্জশিট দাখিলের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।
মামলার ১ নম্বর সাক্ষী গোলাম রব্বানী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা আমার সঙ্গে কোনো দিন কথা বলেননি। অথচ কাগজে-কলমে আমার নামে জাল স্বাক্ষরে জবানবন্দি তৈরি করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অপর সাক্ষী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ২৯ মার্চের ১৭ নম্বর মামলার অন্যতম সাক্ষী আমি। কিন্তু পুলিশের কোনো কর্মকর্তা আমার সঙ্গে যোগাযোগ না করেই আমার ভুয়া জবানবন্দি দিয়ে দুর্বল ধারায় চার্জশিট করেছেন।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন অন্য সাক্ষীরাও।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম বলেন, রাজারহাট থানায় দীর্ঘদিন ধরে চার্জশিট বাণিজ্যের যে গুঞ্জন ছিল, এবার নিজেই তার ভুক্তভোগী হলাম। একজন পেশাদার সাংবাদিকের মামলায় যদি এমন পরিস্থিতি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে ন্যায়বিচার পাবে? বাদী ও সাক্ষীদের জাল স্বাক্ষরে চার্জশিট দাখিলের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করছি।
এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আতিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাক্ষাতে বক্তব্য দেওয়ার কথা জানান। তবে থানায় গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিষেধ রয়েছে জানিয়ে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদের কাছে জালিয়াতি ও চার্জশিট বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনিও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিষেধ থাকার কথা বলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে আরটিভির কাছে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই এএসপি সার্কেলকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/টিআর




