কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলসংলগ্ন পশ্চিম বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধার হওয়া শ্রীলঙ্কান বাবা-ছেলেকে আদালতের নির্দেশে ঢাকার মিরপুর-১ এলাকায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে শ্রীলঙ্কার দূতাবাস ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে তাদের নিজ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া দুই শ্রীলঙ্কান নাগরিক বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। আদালতের নির্দেশ পাওয়া গেলে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে তাদের ঢাকার সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হবে। বিষয়টি ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কার দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) মহেশখালীর স্থানীয় জেলেরা পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা একটি ছোট ট্রলার থেকে বাবা-ছেলে দুই শ্রীলঙ্কান জেলেকে উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া এস. এইচ. চামিন্দা এবং তার ছেলে সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং শ্রীলঙ্কার ডেভিনুওয়ারা এলাকার বাসিন্দা। তারা জানান, টানা ৩৬ দিন সমুদ্রে ভেসেছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ২৯ দিন কাঁচা মাছ খেয়েই জীবন ধারণ করতে হয়েছে তাদের।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৩৬ দিন আগে চার জেলে মাছ ধরতে সমুদ্রে যান। একপর্যায়ে বৈরী আবহাওয়ায় তাদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। পরে অন্য দুটি নৌযানের সহায়তায় দুই জেলে উদ্ধার হলেও নিজেদের ট্রলার ফেলে যেতে রাজি হননি বাবা-ছেলে। ফলে তারা ট্রলারেই থেকে যান। এ সময় মিয়ানমারের কিছু ব্যক্তি তাদের ট্রলারে উঠে দুরবিন, ক্যামেরাসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয়। পরে স্রোতের টানে ভাসতে ভাসতে ট্রলারটি বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে মহেশখালীর উপকূলে এসে পৌঁছায়।
উদ্ধারকারী ট্রলারের মালিক জিয়াউর রহমান জানান, গভীর সমুদ্রে ভাসমান ট্রলারটি দেখতে পেয়ে কাছে গেলে দুই জেলে করজোড়ে সাহায্য প্রার্থনা করেন। মানবিক বিবেচনায় তাদের উদ্ধার করে মহেশখালীতে নিয়ে আসা হয়।
পুলিশ জানায়, ভাষাগত সীমাবদ্ধতার কারণে ইশারার মাধ্যমে কথা বলে দুই জেলে যত দ্রুত সম্ভব শ্রীলঙ্কায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তারা তাদের ট্রলারটিও সঙ্গে নিতে চান। তবে স্থানীয় প্রশাসনের মতে, মহেশখালী থেকে ছোট ওই ট্রলারে করে শ্রীলঙ্কায় যাত্রা করা নিরাপদ নয়। তাই সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রথমে তাদের ঢাকায় নেওয়া হবে। এরপর শ্রীলঙ্কার দূতাবাসের সহযোগিতায় তাদের নিরাপদে নিজ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।
আরটিভি/এমএইচজে




