ছোট ফেনী নদীর অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সোনাগাজীর চরদরবেশ ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, বসতবাড়ি। ভাঙনের এই ভয়াবহতা থেকে এলাকা রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নদীভাঙন কবলিত এলাকাবাসী।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে চরদরবেশ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চরদরবেশে ইতালি মার্কেটের দক্ষিণ পাশে বায়তুন নুর জামে মসজিদের পশ্চিম ও দক্ষিণ অংশে, দুলা হাজী বাড়ির দরজা থেকে তালতলী পর্যন্ত নদী ভাঙন রোধে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এর আয়োজন করে ইতালি মার্কেট একতা যুব সংঘ ও নদীভাঙন কবলিত এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে নদীতীরবর্তী শত শত নারী- পুরুষ অংশ নেন। দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে তারা নদীভাঙনে তাদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকা ব্যানারে ভাঙন প্রতিরোধ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, মুছাপুর রেগুলেটরটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ছোট ফেনী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ইতোমধ্যে দাগনভুইয়া, সোনাগাজী ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার মানচিত্র পালটে যাচ্ছে। শত শত বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অনেক ঘরবাড়ি ইতোমধ্যে নদীতে চলে গেছে। অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। ভাঙনের গতি অব্যাহত থাকলে চরদরবেশ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
তারা অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ এবং নদীর বাঁকা অংশ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সোজা করে স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান। অন্যথায় পুরো চরদরবেশ ইউনিয়নের একটি বড় অংশ ভবিষ্যতে মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে বলে তারা সতর্ক করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন চরদরবেশ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা বিএনপি নেতা সেলিম রেজা, চরদরবেশ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নুর আলম রিয়াদ, সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কাশেম, স্থানীয় মাহবুবুল হক, সফি উল্লাহ, মো. ইয়াসিন ও আব্দুর রহিমসহ নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা।
আরটিভি/এমএইচজে




