গ্রাহকদের কোটি টাকা আত্মসাৎ, তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এলো দোষীদের নাম

রাজবাড়ী প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬ , ১০:৩৭ পিএম


গ্রাহকদের কোটি টাকা আত্মসাৎ, তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এলো দোষীদের নাম
রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘর। ছবি: আরটিভি

প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে সাদা কাগজে দাপ্তরিক সিল ব্যবহার করে ৬১ গ্রাহকের কাছ থেকে ৯৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্রসহ ৭ কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) রাজবাড়ীর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন কুষ্টিয়া বিভাগের পোস্ট অফিস পরিদর্শক (প্রশাসন) মো. শহিদুল ইসলাম।

মামলার আসামিরা হলেন—রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাঘিয়া গ্রামের আয়ুব আলী মৃধার ছেলে লেটার রাইটার শিহাব মৃধা, শিহাব মৃধার ভাই পিএলআই এজেন্ট মাহবুব হাসান মৃধা, প্রধান ডাকঘরের অফিস সহায়ক রেজাউল আলম, তৎকালীন ট্রেজারার নাজমুল হাসান, পোস্টাল অপারেটর মো. গোলাম মোস্তফা বাচ্চু এবং পোস্টাল অপারেটর প্রণব কুমার সরকার।

অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৬১ জন গ্রাহকের ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের আমানতের ৯৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।

ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর প্রতিকারের উদ্যোগ নেওয়া হলে শিহাব মৃধার মা শিউলী বেগম গত ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকারনামা দেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকার করেন।

রাজবাড়ী বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বিজন কুমার ঘোষ বলেন, মামলাটি বিচারক গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়ে আদেশ পরবর্তীতে দেওয়া হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষে নাছরিন আক্তার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে রাজবাড়ী অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর আমলি আদালতের বিচারক মো. হায়দার আলী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্রসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় লেটার রাইটার শিহাব মৃধা ডাকঘরে আগত গ্রাহকদের সঞ্চয় হিসাব খোলার নামে বিভিন্ন সময়ে সাদা স্লিপের মাধ্যমে ৬১ জন গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করেন। পরে তা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।

আরও পড়ুন

জানা গেছে, গত ১২ জুলাই কুষ্টিয়া বিভাগীয় ডাক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তদন্তে এসে ঘটনার মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত লেটার রাইটার শিহাব মৃধাকে ডাকঘরে পেলেও তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর না করে ছেড়ে দেন। এরপর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। তার বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা ডাকঘরে এসে তাদের অর্থ ফেরতের দাবি জানাচ্ছেন।

এদিকে, গত ১৬ জুলাই খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল (চলতি দায়িত্ব) কবির আহমেদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ঘটনাটি তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটিতে খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারেলকে সভাপতি, খুলনা সার্কেল অফিসের সুপারিনটেনডেন্টকে (তদন্ত) সদস্য সচিব, ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল (তদন্ত), দক্ষিণাঞ্চল, খুলনা এবং কুষ্টিয়া বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেলকে সদস্য করা হয়েছে।

কমিটিকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিধি-বিধানের ঘাটতি বা পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে সরকারি ক্ষতি হয়ে থাকলে তা সংশোধন ও নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব বা সুপারিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের নবাগত পোস্টমাস্টার শামীম আহমেদ বলেন, ২০২১ সাল থেকে শিহাব মৃধা হেল্পিং হ্যান্ড হিসেবে লেটার রাইটারের দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি সরকারি কর্মচারী নন। ডাক অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধরনের কর্মী বিভিন্ন ডাকঘরে দায়িত্ব পালন করেন।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission