ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

মাদক মামলার পলাতক আসামি খুললেন হোমিওপ্যাথি ওষুধের দোকান, অতঃপর...

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
মাদক মামলার পলাতক আসামি বকুল চন্দ্র সরকার। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বকুল চন্দ্র সরকার (৪৫) নামের এক ব্যক্তি মাদক মামলায় সম্প্রতি জামিনে কারামুক্ত হয়ে আবারও রেকটিফায়েড স্পিরিটের কারবারি শুরু করেছেন। এবার তার নাম উঠে এসেছে পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থানায় করা একটি মাদক মামলায়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে বকুল সরকারকে রেকটিফায়েড স্পিরিটের ‘মূল ডিলার’ বলে জানিয়েছেন তারা। পরে মামলাটিতে বকুলকেও আসামি করা হয়।

তবে মামলাটিতে বকুল পলাতক আসামি হলেও মোহনগঞ্জে প্রকাশ্যে মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বকুল চন্দ্র সরকার সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বৃষ্ণপুর এলাকার মুকুল চন্দ্র সরকারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দেওথান এলাকায় বসবাস করেন। শহরে রিপন হোমিও নামে একটি হোমিওপ্যাথি ওষুধের দোকান পরিচালনা করেন তিনি। ওষুধ বিক্রি বা চিকিৎসা দেওয়া-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রই নেই তার। তবে বকুল হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার আড়ালে রেকটিফায়েড স্পিরিটের কারবার করছিলেন দীর্ঘদিন ধরেই।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২৫ জুলাই সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার কান্দাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারি সজল মজুমদার (৩৪) ও তার স্ত্রী মর্জিনা আক্তারকে (৩৫) আটক করে পুলিশ। অভিযানে তাদের বাড়ি থেকে সাড়ে তিন কেজি গাঁজা ও নগদ ১৮ হাজার ৮০৯ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যে হাওরের পানিতে ডুবিয়ে রাখা প্লাস্টিকের বস্তায় ২২০ বোতল রেকটিফায়েড স্পিরিট উদ্ধার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে সজল মজুমদার জানান, তাদের কাছে মোট ২৫০ বোতল স্পিরিট ছিল, যার মধ্যে ৩০ বোতল ইতিমধ্যে বিক্রি হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে সজল দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া স্পিরিটের মূল ডিলার নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের তুলাপট্টি এলাকার বকুল চন্দ্র সরকার। তার সহযোগী হিসেবে একই উপজেলার আজমপুর এলাকার আলাল উদ্দিন সজিবের (৩৫) নামও উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবার পরিচালনা করে আসছিলেন।

এ ঘটনায় ধর্মপাশা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শরীফুল ইসলাম বাদী হয়ে মাদক আইনে বকুল চন্দ্র সরকার, সজল মজুমদার, তার স্ত্রী মর্জিনাসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এ মামলায় সজল ও তার স্ত্রী মর্জিনা আক্তারকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে বকুল চন্দ্র সরকার, তার সহযোগী আলাল উদ্দিন সজিবসহ অন্যরা পলাতক রয়েছেন।

জানা গেছে, বকুল চন্দ্র সরকার মোহনগঞ্জ শহরের তুলাপট্টি এলাকায় ‘রিপন হোমিও’ নামের একটি হোমিওপ্যাথি ওষুধের দোকান পরিচালনা করেন। এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ওই দোকান থেকে ১২৮ বোতল রেকটিফায়েড স্পিরিট উদ্ধার করা হয়। সে সময় বকুল সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কয়েক মাস কারাগারে থাকার পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জামিনে বের হওয়ার পর তিনি আবারও একই কারবারে জড়িয়ে পড়েছেন এবং এবার ধর্মপাশা, জামালগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলে স্পিরিটের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করেছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায়ও বকুল সরকারকে মোহনগঞ্জের দোকানে ব্যবসা করতে দেখা গেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

বকুল চন্দ্র সরকারের পাশের হোমিও চিকিৎসক সাগর সরকার বলেন, ‘বকুলকে প্রতিদিন দোকান খুলতে দেখি। পলাতক আসামি হলে প্রকাশ্যে ব্যবসা করছে কীভাবে, বুঝলাম না।’

মোহনগঞ্জ শহরের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, বকুল চন্দ্র সরকারের প্রকৃত বাড়ি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বৃষ্ণপুর এলাকায়। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর অর্থায়ন ও প্রশ্রয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই ভয়ংকর মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন।

হাফিজুর রহমান আরও বলেন, বকুল সরকারকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত হোতাদের পরিচয় বেরিয়ে আসবে। মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করা না গেলে হাওরাঞ্চলের যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা আরও ভয়াবহ মাদকের ঝুঁকিতে পড়বে।

আরও পড়ুন

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্যা বলেন, ‘দুজন মাদক কারবারিকে গাঁজা ও রেকটিফায়েড স্পিরিটসহ গ্রেপ্তার করার পর তাদের জবানবন্দিতে বকুল চন্দ্র সরকারের নাম উঠে এসেছে। পরে মামলায় তাকেও আসামি করা হয়েছে। এখন জানতে পারলাম যে, বকুল সরকার আগে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জেও রেকটিফায়েড স্পিরিটসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। বকুল সম্প্রতি মাদকের কারবার হাওরাঞ্চলে সম্প্রসারণ করেছেন। তাকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হবে।’

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সীমান্তে অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক শিশুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।  শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর সীমান্তের ভারতীয় অংশের লংকা মোড়া এলাকায় মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা। স্থানীয়রা জানান, সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানান। তবে শিশুটির পরিচয় কিংবা কীভাবে সেখানে মরদেহটি এসেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম জানান, শিশুটির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশের পাশাপাশি বিজিবিও চেষ্টা করছে। সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানান, কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে। আরটিভি/টিআর
সীমান্তে অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার
মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ককটেল বিস্ফোরণ
মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ওভারব্রিজের নিচে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে কেউ হতাহত না হলেও বাসস্ট্যান্ড এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ককটেল বিস্ফোরণ
অপ্রতীমের জানাজা আগামীকাল সকাল ১০টায়
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে নিহত কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের জানাজার নামাজ আগামীকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম।
অপ্রতীমের জানাজা আগামীকাল সকাল ১০টায়
সীমান্তে হেরোইনসহ আটক ২
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ গ্রাম হেরোইনসহ দুইজনকে আটক করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক দুজনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনামসজিদ বিওপির একটি বিশেষ টহল দল ডগ স্কোয়াডসহ এ অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবি জানায়, সীমান্ত মেইন পিলার-১৮৪ থেকে আনুমানিক ৭ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের কানসাট গ্রামের মধ্যবাজারের পাকা সড়কে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৯ গ্রাম হেরোইনসহ মো. আতাউর রহমান (৫০) ও মো. নুরুল ইসলাম বাবু (৪২) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাদের বাড়ি শিবগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর গ্রামে। আটকের পর তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যেককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। একই সঙ্গে জব্দ করা হেরোইন ধ্বংস করা হয়। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে কাজ করছে। পাশাপাশি সীমান্তে সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে। আরটিভি/টিআর
সীমান্তে হেরোইনসহ আটক ২
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানে গোলাম মাওলা (৫০) নামে পৌর আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে পৌর এলাকার শাহপুর গ্রামে তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার গোলাম মাওলা কসবা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি শাহপুর গ্রামের মৃত আফিল উদ্দিনের ছেলে এবং কসবা পৌরসভার সাবেক মেয়র গোলাম হাক্কানীর ছোট ভাই। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দায়ের করা একটি মামলায় গোলাম মাওলা তালিকাভুক্ত আসামি। সরকার পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি তিনি নিজ বাড়িতে ফিরেছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শাহপুর গ্রামে তার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর তালিকাভুক্ত কসবা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মাওলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। আরটিভি/টিআর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
আরও পড়ুন
৯৩ ‘বাবার সন্তান’ নেত্রকোনার রবিউল
দিনদুপুরে ফিল্মি স্টাইলে কিশোরীকে তুলে নিয়ে উধাও দুই যুবক, অতঃপর...
তিন কোটি টাকার ধান কেনায় অনিয়ম, নিউজ করায় সাংবাদিককে খাদ্য কর্মকর্তার গালাগাল
গৃহবধূকে শ্লীলতাহানীর পর ইটের আঘাতে ভেঙে দেওয়া হয় আঙুল