
জামালপুরে হাজারো মানুষ নির্ঘুম রাত পার করছেন ‘বাঘের’ আতঙ্কে। বাঘের ভয়ে স্কুলেও যাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, জামালপুর সদরের বাঁশচড়া ইউনিয়নের পশ্চিম জামিয়া এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে বাঘের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত পার করছে ওই এলাকার মানুষ। এলাকাটি আগে বনাঞ্চল হলেও সেখানে এখন মানুষ বসবাস করছে। তবে অনেক জায়গায় ব্যাপক ঝোপঝাড় রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, গত সপ্তাহে পশ্চিম জামিয়া এলাকায় কয়েকজন বাসিন্দা দুটি বাঘ দেখা গেছে। অনেকে আবার বাঘের উচ্চস্বরে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার শব্দও শুনতে পান। বাঘ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, এমন ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধম্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী বিষয়টি বন বিভাগকে জানালে বন বিভাগের লোকজন ওই এলাকায় গিয়ে বাঘের উপস্থিতি বা বাঘ থাকার কোনো সত্যতা খুঁজে পান না। স্থানীয় বাসিন্দারা বাঘের ভয়ে রাতে লাঠিসোঁটা ও দেশীও অস্ত্র নিয়ে নিজেদের বাড়িঘর পাহারা দেন।
স্থানীয় এক অটোচালক বলেন, আমি গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহর থেকে বাড়ি যাচ্ছিলাম। তখন বাঘ রাস্তা পার হয়ে পাশে জঙ্গলে যায়। আমার সঙ্গে আরও তিন-চারজন ছিলেন। আমরা অটো থেকে নেমে বাঘের দিকে লাইট দরলাম। বাঘ তখন আমাদের দিকে তাকিয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা আমজাত আলী বলেন, বাঘের ভয়ে সন্ধ্যার পর আমরা কেউ বাড়ির বাইরে বের হতে পারছি না। মুদির দোকানদাররা রাতে দোকানও খুলতে পারছেন না। গত বুধবার বাঘ আমাদের একজনের ছাগল খেয়ে ফেলছে। আমরা বন বিভাগকে বিষয়টি জানিয়েছি তারা এসে বললো এখানে বাঘ নেই।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, জামালপুরের বাশঁচড়া ইউনিয়নের একটি এলাকায় বাঘ দেখা দিয়েছে, এমন খবর পেয়ে আমাদের লোকজন ওই এলাকায় যান। সেখানে বাঘের কোনো উপস্থিতি পওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে যে প্রাণীটি দেখা যাচ্ছে সেটা বাঘ নয়, মেছো বিড়াল। এটা মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। এটা নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।
আরটিভি/টিআর




