ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

উত্তরাঞ্চলে টিএসপি সারের সংকট, কৃষকের অসচেতনতাকে দুষছে কর্তৃপক্ষ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

আমনের ভরা মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় টিএসপি সারের সংকট দেখা দিয়েছে। বাড়তি দাম দিতে চাইলেও অনেক কৃষক চাহিদামতো টিএসপি সার পাচ্ছেন না। বিশেষ করে চরাঞ্চলের কৃষকেরা পড়েছেন বেশি বিপাকে। তবে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, সারের কোনো ঘাটতি নেই বরং কৃষকদের অতিরিক্ত টিএসপি ব্যবহারের প্রবণতার কারণেই সংকটের ধারণা তৈরি হয়েছে।

রংপুর অঞ্চলের লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলায় টিএসপি সার নিয়ে কৃষকদের এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৃষকদের ভাষ্য, ইউরিয়া ও ডিএপি সার মোটামুটি চাহিদামতো পাওয়া গেলেও টিএসপি সার সংগ্রহ করতে একাধিক দোকানে ঘুরতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার বনগ্রাম এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম আট বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছেন। তার প্রয়োজন ১০০ কেজি টিএসপি সার। ছয়টি দোকান ঘুরে তিনি পেয়েছেন মাত্র ৪৫ কেজি। এর মধ্যে ১৫ কেজি কিনেছেন সরকার নির্ধারিত ২৭ টাকা কেজি দরে। বাকি ৩০ কেজির জন্য প্রতি কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বেশি দিতে হয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার চর শৈলমারী এলাকার কৃষক বাবলু মিয়া ১২ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। তার প্রয়োজন ১৭০ কেজি টিএসপি সার। বিপরীতে এখন পর্যন্ত পেয়েছেন মাত্র ৫০ কেজি। তার দাবি, চাহিদার ২০ শতাংশও টিএসপি সার সরবরাহ পাচ্ছেন না। ইউরিয়া ও ডিএপি সার পাওয়া গেলেও সেগুলো কিনতে নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।

রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার মহিপুর তিস্তা চরের কৃষক মোন্নাফ মিয়া ১০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। তার প্রয়োজন ১৫০ কেজি টিএসপি সার। তিন দিন ধরে বিভিন্ন দোকানে ঘুরেও পেয়েছেন মাত্র ৫০ কেজি। এ জন্য তাকেও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা দিতে হয়েছে।

চরাঞ্চলের কৃষকদের দুর্ভোগ আরও বেশি। কৃষকদের দাবি, রংপুর অঞ্চলের ৮৮৩টি চরের অনেক এলাকায় সার বিক্রির কোনো দোকান বা ব্যবসায়ী নেই। ফলে দূরের বাজারে গিয়ে সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদের।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বজরা এলাকার সার ডিলার জুলহাস হোসেন বলেন, তার দোকানে প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১০ হাজার কেজি টিএসপি সারের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সরকারি বরাদ্দ পেয়েছেন মাত্র ৫০০ কেজি। ফলে কৃষকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ৬ লাখ ২১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ লাখ ১ হাজার ৩৯১ টন। গত বছর এ অঞ্চলে ৬ লাখ ২১ হাজার ৩৯৮ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছিল।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সূত্র জানায়, সরকার প্রতি কেজি ইউরিয়া ও টিএসপি সারের খুচরা মূল্য ২৭ টাকা এবং ডিএপি সারের মূল্য ২১ টাকা নির্ধারণ করেছে। ডিলাররা সরকারের কাছ থেকে নির্ধারিত খুচরা মূল্যের চেয়ে কেজিপ্রতি ২ টাকা কমে সার কেনেন।

রংপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমন ধানের চারা রোপণের সময় টিএসপি সারের ব্যবহার খুব বেশি প্রয়োজন হয় না। তবে কৃষকেরা বিষয়টি না বুঝে টিএসপি সারের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। তার দাবি, ইউরিয়া ও ডিএপি সারের মাধ্যমেও প্রয়োজনীয় উপাদান পাওয়া যায়। কৃষকদের অসচেতনতার কারণে তারা প্রয়োজনের তুলনায় ৫ থেকে ৬ গুণ বেশি টিএসপি ব্যবহার করছেন। এ কারণে সরকারি বরাদ্দ তাদের কাছে কম মনে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আদর্শ কৃষির তথ্যের ভিত্তিতে টিএসপি সারের চাহিদাপত্র তৈরি করে সরকারকে পাঠানো হয় এবং সেই অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত টিএসপি ব্যবহারে জমির উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হতে পারে। কৃষকদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে রংপুর আঞ্চলিক বিএডিসির সার বিভাগের যুগ্ম পরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, সারের কোনো ঘাটতি নেই। আগামী অক্টোবর পর্যন্ত পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। কৃষি বিভাগ যে পরিমাণ চাহিদাপত্র পাঠায়, সে অনুযায়ী সার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে এবং তালিকাভুক্ত ডিলারদের মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

তার দাবি, কোথাও সার সংকট বা বেশি দামে বিক্রির ঘটনা ঘটলে তা ডিলারদের অতিরিক্ত লাভের আশায় কৃত্রিম সংকট তৈরির কারণে হতে পারে। বিষয়টি কৃষি বিভাগ ও প্রশাসন মাঠপর্যায়ে তদারকি করছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
নেত্রকোনায় মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে এক ব্যক্তিকে কারাভোগে বাধ্য করার দায়ে লিপি আক্তার (৩৯) নামের এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত লিপি আক্তার আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জেলার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা। আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন লিপি আক্তার। মামলায় নিজেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা দাবি করলে পুলিশ কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকতে হয় তাকে। লিপি আক্তারের সন্তান জন্মের পর শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে কামাল উদ্দিনকে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে আদালত ধর্ষণের অভিযোগ থেকে কামাল উদ্দিনকে খালাস দেন। এরপর মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে তাকে কারাভোগে বাধ্য করার প্রতিকার চেয়ে ২০২০ সালে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন কামাল উদ্দিন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত লিপি আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ দেন। আরটিভি/এসকে
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
চট্টগ্রামের রাউজানে পরীক্ষার হলে চুল লম্বা রাখার কারণ জানতে চেয়ে শাসন করায় এক শিক্ষককে কলম দিয়ে একাধিক আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে নবম শ্রেণির এক ছাত্র। আহত শিক্ষককে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মাথায় সেলাই দিতে হয়।
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
নওগাঁর মান্দায় বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম ও স্ত্রী সাথী আক্তার আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
দিনে জীবিকার তাগিদে কাজ করেন এসএস পাইপ মিস্ত্রি হিসেবে। আর অবসর পেলেই মেতে ওঠেন সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সাধনায়। বোনের পুরোনো বোরকাকে কৃষের পোশাকে রূপ দিয়ে নানা কসরত ও স্টান্ট দেখানোর চেষ্টা করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
আরও পড়ুন
ওয়ালটনে চাকরি, অষ্টম শ্রেণি পাসেই আবেদনের সুযোগ
‘সার্ক-ফোসওয়াল’ আজীবন সম্মাননা পেলেন কবি নূরুল হক
শিশুদের ক্যানসারের ৭ লক্ষণ, যা সহজেই এড়িয়ে যান অভিভাবকরা
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন সুলতানুল আফরীন জুনাইদ