ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

খতিয়ান তুলে পকেট ভরছেন অফিস সহায়ক

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ।

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
অফিস সহায়ক মো. মোস্তফা। ছবি: আরটিভি

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর মানিকা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক মো. মোস্তফার বিরুদ্ধে ঘুষ ছাড়া ভূমি-সংক্রান্ত কোনো সেবা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও সরকারি বিধি অনুযায়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে খতিয়ান উত্তোলনের নিয়ম নেই। নির্ধারিত সরকারি ফি দিয়ে জেলা রেকর্ড রুম থেকে খতিয়ান সংগ্রহ করার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়ম উপেক্ষা করে অফিস সহকারী মো. মোস্তফা নিজেই খতিয়ান সংগ্রহ করে দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন। ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে ব্যক্তিগতভাবে টাকা আদায়ের কারণে সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

খতিয়ান উত্তোলন, ভূমি কর অনলাইনে করা এবং বিভিন্ন ভূমি-সংক্রান্ত নথিপত্রের অনুলিপি সংগ্রহসহ প্রায় প্রতিটি সেবার জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবা-প্রত্যাশী। এতে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চর মানিকা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত থাকায় অফিস সহায়ক মো. মোস্তফা অফিসের কার্যক্রমে একক প্রভাব বিস্তার করে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে আসছেন। ভূমি কর অনলাইনের জন্য ১০০ টাকা, খতিয়ান উত্তোলনের জন্য প্রতিটি খতিয়ানে ২০০ টাকা এবং ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্রের অনুলিপি সংগ্রহ করতেও অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সেবা-প্রত্যাশীরা। টাকা না দিলে নানা অজুহাতে সেবা বিলম্বিত করা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা কিংবা পরে আসতে বলা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভূমি সেবা-প্রত্যাশী জানান, তারা দিয়ারা ও এসএ খতিয়ান সংগ্রহ করতে চর মানিকা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে অফিস সহায়ক মো. মোস্তফা প্রতিটি খতিয়ানের জন্য ২০০ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে সেবা দেওয়া হয় না কিংবা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানো হয়। একইভাবে কোনো নথিপত্রের অনুলিপি সংগ্রহ করতেও অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

চর মানিকা ইউনিয়নের উত্তর চর মানিকা গ্রামের বাসিন্দা আবু তাহের বলেন, আমি উত্তর চর মানিকা মৌজার একটি খতিয়ান তুলতে ভূমি অফিসে গেলে অফিস সহায়ক মোস্তফা আমাকে বলেন, ২০০ টাকা না দিলে তিন ঘণ্টা দেরি হবে। পরে বাধ্য হয়ে তাকে টাকা দিলে তিনি মোবাইল ফোনে খতিয়ানের ছবি তুলে একটি কম্পিউটারের দোকানে পাঠিয়ে দেন। পরে আমি ওই দোকান থেকে খতিয়ানের প্রিন্ট কপি সংগ্রহ করি। ভূমি অফিসে কোনো কাজ নিয়ে গেলেই এই মোস্তফার কারণে হয়রানির শিকার হতে হয়।

আরও পড়ুন

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি উদ্যোগে ভূমি সেবা ডিজিটাল ও জনবান্ধব করার নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে কিছু অসাধু কর্মচারীর কারণে সাধারণ মানুষকে এখনও অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অফিস সহায়ক মো. মোস্তফা মুঠোফোনে বলেন, আমাদের অফিসে এসে অনেকেই অনলাইনে দাখিলা কাটলে সেই টাকাটাই দেয়। কেউ খতিয়ান নিতে আসলে টাকা নেওয়া হয় না।

চর মানিকা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কমলেন্দু মজুমদার বলেন, আমি এই অফিসে যোগদান করার পর খতিয়ান সংগ্রহের বিষয়ে নোটিশ টানিয়ে দিয়েছি। নোটিশে রেকর্ড রুম থেকে সংগ্রহের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। যদি আমার অগোচরে অফিস সহায়ক খতিয়ান দিয়ে থাকে, তাহলে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অনিন্দ্য মন্ডল বলেন, সাধারণত ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে খতিয়ান উত্তোলন করার নিয়ম নেই। রেকর্ড রুম থেকে সরকারি নির্দিষ্ট ফি দিয়ে খতিয়ান সংগ্রহ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক কোনো অনিয়ম করে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
নেত্রকোনায় মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে এক ব্যক্তিকে কারাভোগে বাধ্য করার দায়ে লিপি আক্তার (৩৯) নামের এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত লিপি আক্তার আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জেলার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা। আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন লিপি আক্তার। মামলায় নিজেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা দাবি করলে পুলিশ কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকতে হয় তাকে। লিপি আক্তারের সন্তান জন্মের পর শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে কামাল উদ্দিনকে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে আদালত ধর্ষণের অভিযোগ থেকে কামাল উদ্দিনকে খালাস দেন। এরপর মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে তাকে কারাভোগে বাধ্য করার প্রতিকার চেয়ে ২০২০ সালে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন কামাল উদ্দিন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত লিপি আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ দেন। আরটিভি/এসকে
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
চট্টগ্রামের রাউজানে পরীক্ষার হলে চুল লম্বা রাখার কারণ জানতে চেয়ে শাসন করায় এক শিক্ষককে কলম দিয়ে একাধিক আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে নবম শ্রেণির এক ছাত্র। আহত শিক্ষককে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মাথায় সেলাই দিতে হয়।
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
নওগাঁর মান্দায় বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম ও স্ত্রী সাথী আক্তার আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
দিনে জীবিকার তাগিদে কাজ করেন এসএস পাইপ মিস্ত্রি হিসেবে। আর অবসর পেলেই মেতে ওঠেন সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সাধনায়। বোনের পুরোনো বোরকাকে কৃষের পোশাকে রূপ দিয়ে নানা কসরত ও স্টান্ট দেখানোর চেষ্টা করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
আরও পড়ুন
ভোলায় ভূমি কর্মকর্তার ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল
আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ইসলামী আন্দোলন নেতার সব পদ স্থগিত
৫ বছরেও শেষ হয়নি ভবন নির্মাণ, জরাজীর্ণ ঘরেই মনপুরা পোস্ট অফিস
সরকারি চাকরিতে থেকেও এনসিপির কমিটিতে পদ!