ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

‎কাপ্তাই-রাঙামাটি সড়কে বন্যহাতি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০২ এএম
সড়কে বন্যহাতি। ছবি: সংগৃহীত

কাপ্তাই-রাঙামাটি-আসামবস্তী সড়কের আগরবাগান এলাকায় বন্যহাতির একটি দল অবস্থান নেওয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই সড়কে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা ও ইআরটি (ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম) সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতিগুলোকে নিরাপদে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এরপর সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে কিছু সময়ের জন্য সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

‎বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে আগরবাগান এলাকায় সড়কের ওপর ও আশপাশে বন্যহাতির দলটিকে দেখতে পান সড়কে চলাচলকারী কয়েকজন চালক ও যাত্রী। প্রায় রাত ৮টা পর্যন্ত হাতিগুলো ওই এলাকায় অবস্থান করায় সড়ক দিয়ে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং চালক ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

বিষয়টি জানানো হলে কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমানের নেতৃত্বে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে আতশবাজি, ফাঁকা গুলি ও গাড়ির হর্ন ব্যবহার করে হাতিগুলোকে সড়ক থেকে সরিয়ে বনের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে হাতির দলটি সড়কের এক পাশ দিয়ে বনের দিকে চলে যায়।

‎তবে কিছুক্ষণ পর কাপ্তাই প্রবেশপথের দিকে আবারও একটি বন্যহাতি সড়কের ওপর অবস্থান নেয়। এতে পরিস্থিতি আবারও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এস এম সাজ্জাদ হোসেন।

পরিস্থিতি বিবেচনায় বন বিভাগের কর্মকর্তা, বনকর্মী ও ইআরটি সদস্যরা ওই অংশে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে সড়কে থাকা যানবাহনগুলোকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা হয়। পরে হাতিটি সড়ক ছেড়ে বনের দিকে চলে গেলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আরও পড়ুন


‎প্রতক্ষ্যদর্শী লোকমান আহমেদ বলেন, রাঙামাটি থেকে কাপ্তাই আসার পথে হঠাৎ সড়কের ওপর হাতি দেখতে পাই। সন্ধ্যার পর এ সড়কে বন্যহাতির চলাচল থাকায় ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত না করাই ভালো। সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের অনুরোধ করছি।

‎কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন, সন্ধ্যার পর কাপ্তাই-রাঙামাটি সড়কে বন্যহাতির চলাচল বেড়ে যেতে পারে। এ কারণে এ সময় সড়কটি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো ধরনের যানবাহন নিয়ে চলাচল না করার জন্য সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে।

‎পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এসএম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বন্যহাতির উপস্থিতির কারণে সন্ধ্যার পর ওই সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ পথে চলাচল না করেন। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ করছি।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির ২ ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।
ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির ২ ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু
খাল ভরাটে বাধা, ভূমি কর্মকর্তাকে বেধড়ক পিটুনি
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে সরকারি জমি ভরাটে বাধা দেওয়ায় ভূমি কার্যালয়ের কর্মচারীদের মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
খাল ভরাটে বাধা, ভূমি কর্মকর্তাকে বেধড়ক পিটুনি
জ্বালানি তেলের দাম কবে কমাবে সরকার, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
দেশে সব ধরনের তেলের দাম এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। হঠাৎ এমন অতিরিক্ত দাম বাড়ানোর কারণে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের দাম কবে কমাবে সরকার, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
মেয়াদ ফুরালেও শেষ হলো না সেতুর কাজ
খুলনার পাইকগাছায় শিবসা নদীর ওপর ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৭৪৮ মিটার দীর্ঘ সেতুটির কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৭৬ শতাংশ। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মূল চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এ সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হচ্ছে না। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্মাণকাজ শেষ করতে আরও ছয় মাস সময় বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। লক্ষ্য অনুযায়ী চলতি বছরের শেষ নাগাদ সেতুটির কাজ শেষ হতে পারে। তবে সেতুর কাজ এগোলেও নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ভারী ট্রাকের চাপে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি সংযোগ সড়কের অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের একাংশের আপত্তি রয়েছে। লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, সেতুর নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাইনতলা বাজারের সংযোগ সড়ক সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, গিলাবাড়ীর পরিবর্তে গড়ইখালীর সঙ্গে সংযোগ সড়ক হওয়ায় লস্কর ইউনিয়নের অনেক মানুষ সেতুটির প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। প্রকাশ সরকার সংশয় নিয়ে বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে মুল ব্রিজের কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ এখনো করা হয়নি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ব্রিজ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণে কত বছর লাগবে সেটাই ভাবছি। লাভলু সানা নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, প্রথমে ব্রিজের সংযোগ সড়কটি খড়িয়া খালপাড় হয়ে বগুড়ারচক দিয়ে গিলাবাড়ি পর্যন্ত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শুধুমাত্র ব্রিজ হচ্ছে। সংযোগ সড়ক হচ্ছেনা। ফলে কয়রা উপজেলায় মানুষ এখন এ ব্রিজের সুবিধা ভোগ করতে পারবে না। এ ছাড়া সেতু নির্মাণের কারণে শিবসা নদীতে পলি জমে নাব্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কয়েকজন। এতে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা বা বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে তাঁদের ধারণা। তবে এ আশঙ্কার পক্ষে কোনো কারিগরি সমীক্ষার তথ্য পাওয়া যায়নি। পাইকগাছা জিসি-লস্কর বাজার, বাইনতলা, বগুড়ারচক, শুড়িখালী, ভান্ডারপোল ও গিলাবাড়ী জিসি সড়কের ২ হাজার ৩০০ মিটার চেইনেজে সেতুটির অবস্থান। লস্কর ও গড়ইখালী ইউনিয়নের লস্কর গ্রামের শিবসা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ৭৪৮ মিটার এবং প্রস্থ ৯ দশমিক ৮ মিটার। ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (এনডিই) ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, সেতুটির ২৪০টি পাইলের সবগুলোর কাজ শেষ হয়েছে। দুই পাড়ে প্রায় ২ দশমিক ৭১ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। জমি পরিদর্শনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের প্রায় ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মূল চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ হচ্ছে না। ফলে চুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম ও ব্যবসায়ী তেজেন মণ্ডল বলেন, চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে তাঁদের খুলনায় যেতে দীর্ঘ পথ ঘুরতে হয়। শিবসা নদী পারাপারের বর্তমান ব্যবস্থা এবং শিববাটী সেতু হয়ে যাতায়াতের কারণে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ে। নতুন সেতু চালু হলে এ দুর্ভোগ কমবে। ব্যবসায়ী আলীমুজ্জমান বলেন, সেতুটি দ্রুত চালু হলে ঘেরের মাছসহ কৃষি ও ব্যবসাপণ্য সহজে খুলনায় নেওয়া যাবে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও বাড়বে। পল্লী সড়ক (সিআইবিআরআর) প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এ সেতু চালু হলে পাইকগাছার সঙ্গে খুলনা শহরের সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষও এর সুফল পাবেন। প্রকল্পের ম্যানেজার সাহেব আলী বলেন, সেতুর প্রায় ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী শাফীন সোহেব ও উপসহকারী প্রকৌশলী সজল বিশ্বাস বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। লস্কর প্রান্তে তিন রাস্তার মোড়ে একটি গোলচত্বর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল সহজ হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, সেতুটি চালু হলে একাধিক উপজেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে। নির্মাণকাজ শেষ করে দ্রুত সেতুটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কার করা হবে। একই সঙ্গে সংযোগ সড়কের অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। তাঁদের মতে, শুধু সেতু নির্মাণ শেষ করলেই হবে না, নিরাপদ ও কার্যকর সংযোগ সড়ক নিশ্চিত হলেই এর সুফল মানুষের কাছে পৌঁছাবে। আরটিভি/এমএইচজে
মেয়াদ ফুরালেও শেষ হলো না সেতুর কাজ
৭১-এর পরাজিত শক্তিরা এখন ভারতের সাথে হাত মিলিয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, ৭১-এর পরাজিত শক্তিরা এখন ভারতের সাথে হাত মিলিয়েছে, যারা দেশের মানুষকে গুম, খুন করেছে সেই ফ্যাসিস্টদের সাথেও তারা হাত মিলিয়েছে।
৭১-এর পরাজিত শক্তিরা এখন ভারতের সাথে হাত মিলিয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আরও পড়ুন
লংগদুতে রাতের আঁধারে জমি দখলের চেষ্টা, সেনা হস্তক্ষেপে পণ্ড
জমি বিরোধে মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলা ও উচ্ছেদের অভিযোগ লংগদুতে 
ধর্ষণের অভিযোগে সৎ বাবাসহ গ্রেপ্তার ২
হঠাৎ ঝড়ে লণ্ডভণ্ড কৃষকের স্বপ্ন