
খুলনার পাইকগাছায় বিভিন্ন মাছ কাটার (আড়ত) ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চিংড়িসহ বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের মাছ বাকিতে নিয়ে এক ব্যবসায়ী উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মাছ নেওয়ার পর পাওনা টাকা পরিশোধ না করে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন একাধিক আড়তদার। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাছ ও লেনদেনের হিসাব পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত ব্যবসায়ী হারুনার রশিদ উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পাইকগাছা মৎস্য আড়ৎদারী সমবায় সমিতির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার তিন দিনে হারুনার রশিদ পাইকগাছার বিভিন্ন মাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বাকিতে মাছ সংগ্রহ করেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিনের পরিচিতি, সমিতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং আগের লেনদেনের কারণে তার কথায় বিশ্বাস করে অনেকেই বাকিতে মাছ দেন। মাছ নেওয়ার সময় তিনি রোববার (১৬ আগস্ট) ব্যাংক থেকে টাকা তুলে পাওনা পরিশোধ করবেন বলে আড়তদারদের আশ্বস্ত করেন। কিন্তু রোববার পাওনা টাকা পরিশোধ না করে তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন আড়ত থেকে হারুনার রশিদ অন্তত ৩২ লাখ ৩২ হাজার ২২০ টাকার মাছ নিয়েছেন।
হিসাব অনুযায়ী, কাগজী মৎস্য আড়ত থেকে ৪ লাখ ২০ হাজার ২১০ টাকা, মুরশিদ আড়ত থেকে ৩ লাখ ৫ হাজার ১০ টাকা, পিয়া আড়ত থেকে ৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, সোলাদানা আড়ত থেকে ৪ লাখ টাকা, মিজানুর আড়ত থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং আপন মৎস্য আড়ত থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মাছ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রাপ্ত আড়ত থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যমুনা আড়ত থেকে ৫০ হাজার টাকা, দাশ আড়ত থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, ইমন এন্টারপ্রাইজ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, থ্রি স্টার আড়ত থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ডানা আড়ত থেকে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা, রাহাদ আড়ত থেকে ২১ হাজার টাকা, সানা আড়ত থেকে ২৬ হাজার টাকা, তাহমিদ আড়ত থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, ফ্রেন্ড আড়ত থেকে ৩৯ হাজার টাকা, ব্রাদার্স আড়ত থেকে ১৫ হাজার টাকা এবং ভাই ভাই আড়ত থেকে ৫০ হাজার টাকার মাছ নেওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু এসব আড়ত থেকে নেওয়া মাছের হিসাব নয়, আরও কয়েকটি স্থানে লেনদেন থাকায় সব মিলিয়ে পাওনার পরিমাণ প্রায় ৪০ লাখ টাকা হতে পারে।
পাইকগাছা মৎস্য আড়ৎদারী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল মোড়ল বলেন, শুধু আড়তদারদের কাছ থেকেই মাছ নিয়ে টাকা পরিশোধ না করার ঘটনা নয়। যেসব আড়তে মাছ বিক্রি করেছে, সেখান থেকেও বেশি মাছ দেওয়ার কথা বলে বেশি টাকা নিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে প্রায় ৪০ লাখ টাকার হিসাব এসেছে।
তিনি আরও বলেন, হারুন আমাদের সমিতির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। তবে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে কয়েক মাস আগে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, রোববার তিনি ব্যাংক থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। কিন্তু আড়তদারদের পাওনা টাকা না দিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপন করেছেন। তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
মৎস্য আড়ৎদারী সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল জব্বার বলেন, হারুনার রশিদ গত তিন দিনে বিভিন্ন মাছ কাটার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ বাকিতে নিয়ে গেছেন। পরে মাছের টাকা পরিশোধের বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় পাওনা টাকা উদ্ধারের দাবিতে আজিবর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী পাইকগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে হারুনার রশিদের কাছ থেকে পাওনা টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে




