
ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার তেলটুপি থেকে কুষ্টিয়া-যশোর মহাসড়কের আমতলা বাজার পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিগত ১৯ বছর ধরে কোনো প্রকার সংস্কার বা উন্নয়নমূলক কাজ না হওয়ায় পিচ ও খোয়া উঠে সড়কটি এখন কার্যত একটি মাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির তেলটুপি অংশ থেকে শুরু করে নিজতোলা, কাচারিতোলা, শ্রীফলতোলা, সড়াবাড়িয়া ও বিন্নী গ্রামের ওপর দিয়ে ভাদড়া হয়ে আমতলা বাজার পর্যন্ত পুরো অংশই এখন খানাখন্দে ভরা। ঝিনাইদহ জেলা শহরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াতের জন্য এটিই এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের একমাত্র মূল সড়ক। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একসময় একটি পাকা রাস্তা ছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় দুই দশকেও সড়কটিতে কোনো সংস্কারের হাত দেওয়া হয়নি। শ্রীফলতোলা গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মন্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা এতটাই অবহেলিত যে, বিগত সরকারের দীর্ঘ সময়েও এই অঞ্চলে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। রাস্তাটি যেন এক পরিত্যক্ত জনপদ।
একই গ্রামের রাজু আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিদের নানা প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে যায় কিন্তু ভোট পার হওয়ার পর সেসব সংসদ সদস্য (এমপি) বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আর কোনো দেখা মেলে না।
সড়কটির ইতিহাস টেনে সাবেক বিন্নী গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল রানা বলেন, বিগত ১৯ বছরে এই রাস্তায় কোনো কাজ হয়নি। সর্বশেষ ২০০৬-২০০৭ সালের দিকে বিএনপির সাবেক এমপি মরহুম মশিউর রহমানের সময়ে এই অঞ্চলের রাস্তাগুলোর উন্নয়ন হয়েছিল। এরপর আর কোনো সংস্কার হয়নি। এখন যারা ক্ষমতায় আসে-যায়, তাদের ভাগ্য বদলায়, কিন্তু আমাদের ভাগ্য আর বদলায় না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খানাখন্দে ভরা এই সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন জরুরি চিকিৎসা প্রত্যাশীরা। স্থানীয়রা জানান, কোনো মানুষ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই ঝাঁকুনিতে অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। সুস্থ মানুষও এই পথ দিয়ে যাতায়াত করলে অসুস্থ বোধ করেন।
দীর্ঘদিনের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তাদের দাবি, কোনো কালক্ষেপণ না করে অনতিবিলম্বে তেলটুপি টু আমতলা বাজারের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কার করে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করা হোক। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ মজিদ বলেন রাস্তা মেরামতের কাজ অতি দ্রুত শুরু করা হবে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
আরটিভি/এমএম




