ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

রংপুরে ৪ খুন

সেই রাতে কোথায় ছিলেন অভিযুক্তরা, যা বললেন সিদ্ধার্থের বাবা ও মুগ্ধর মা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
গ্রেপ্তার দুই তরুণ সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস-ছবি: সংগৃহীত

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই তরুণ সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস তারা খুনের রাতে নিজেদের বাড়িতে ছিলেন না। পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধার্থ ফুটবল খেলার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। মুগ্ধও রাতে বাড়িতে ছিলেন না। তবে পুলিশ বলছে, ওই রাতে তারা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করেছিলেন। খুনের পর সেখানেই অবস্থান করেন। এখন আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার (২২ আগস্ট) গভীর রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধারের সময় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থকে তার চাচার বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। একই সময় মুগ্ধর বাড়িতে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। পরে শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে মাছুয়াপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পুরো এলাকায় থমথমে পরিবেশ, চাপা উত্তেজনা।

সিদ্ধার্থের বাড়িতে কথা হয় তার মা পাপড়ী রানীর সঙ্গে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধার্থ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। সে বলেছিল, ফুটবল খেলতে যাবে। রাতে সে পাশের বাসার বন্ধু সীমান্তের বাড়িতে ছিল বলে তিনি জানতেন। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে সিদ্ধার্থ বাড়িতে ফেরে।

সিদ্ধার্থের বাবা কানু দাস বলেন, মুগ্ধই এক নম্বর নেশাখোর! ওই আমার ছেলেটাকে সব সময় ডেকে ডেকে খাওয়াত। তারা দুজনে খুন করছে, নাকি আরও কেউ ছিল ওরাই বলতে পারবে। আমি এইটুকুই বলব, আমার যা সত্য জানা আছে, আমি বলে দিছি। প্রশাসন ওকে গুলি করে মারুক। খারাপকে রাখার দরকার নেই। কিন্তু তারা কি দুইজনে চারজনকে খুন করতে পারে? আপনারাই বলুন। ওকে তো পুলিশ নিয়ে গেছে, এখন আমরা আতঙ্কে।

তবে সীমান্তের বাবা সুবাস দাসের বক্তব্যে কিছুটা ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার ছেলে সীমান্ত বাড়িতে ফেরে। রাত ১২টার দিকে সিদ্ধার্থ তাদের বাড়িতে এলেও কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে যায়। সীমান্ত সেদিন রাতে বাড়িতেই ছিল, কিন্তু সিদ্ধার্থ তার সঙ্গে ছিল না।’

পুলিশের দাবি, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যাওয়ার আগে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ তারা সীমান্তের বাড়িতে ইয়াবা সেবন করেন। পরে তারা গণপতির বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করছিলেন। বিষয়টি গণপতি দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।

মুগ্ধর বাড়িতে গিয়ে তার মা সেনা রানীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ বাড়িতে ছিলেন না। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ঘুম থেকে উঠে তিনি ছেলের ঘরে তালা দেখতে পান। পরে তালা খুলে দেখেন, মুগ্ধ ঘরে নেই। সকাল ১১টার দিকে মুগ্ধ বাড়িতে ফিরে আসে।

সেনা রানী বলেন, সকালে উঠে দেখি ঘরে তালা। তালা খুলে দেখি মুগ্ধ নেই। পরে ১১টার দিকে বাসায় আসে। হাত-মুখ ধুয়ে নেয়। আমি বাজারে যেতে বললে সে বলে, আজ যাবে না।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে। সে দোষী হলে তাকে শাস্তি দিক। কিন্তু এর সাথে কারা জড়িত তাদের বের করা হোক। আমরা ভয়ে আছি। দেখা গেল রাস্তায় বের হইছি, বলল এই যে খুনির মা, ধরো! বের হইলে ভয় লাগে, বাসায়ও ভয় লাগে।

স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় মাদকের বিস্তার বেড়ে গেছে। উঠতি বয়সের ছেলেরা ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সহজে পাওয়ায় নেশায় পড়ছে। মাদক কারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ছাড়া দুইজন মিলে চারজন মানুষকে কীভাবে হত্যা করে। এর পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না তা দ্রুত বের করতে হবে।

আরও পড়ুন

এ ঘটনায় গতকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল বের হয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন ও প্রকৃত অপরাধী শাস্তির আওতায় আনার দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ছিলেন পরিবারের অভিভাবক। স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রিয়ম ও মেয়ে আগামীকে নিয়ে তার সংসার। শনিবার গভীর রাতে মাছুয়াপাড়ার বাড়ি থেকে তাদের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্বজনেরা জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বজনেরা শনিবার বাড়িতে গিয়ে চারজনের মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশ চারটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত সাড়ে ১০টায় নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে শেষকৃত্য হয়।

এ ঘটনায় শনিবার রাতেই প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস (২৩) ও মুগ্ধ দাসকে (১৯) আটক করে পুলিশ। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন আদালত-২–এ তাদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়। এরপর কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বলেন, আসামিরা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তারা হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

এর আগে, রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ আবদুল মাবুদ বলেন, ছাদে ইয়াবা সেবনের বিষয়টি গণপতি চক্রবর্তী দেখে ফেলেছিলেন। পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করা হয়। পরে একে একে তার পরিবারের আরও তিন সদস্যকে হত্যা করেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ।

পুলিশ কমিশনার বলেন, গণপতি চক্রবর্তী স্যার ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। তার পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না। হত্যার পর আসামিরা ওই বাসায় অবস্থান করেন, গোসল করেন এবং খেজুর ও শসা খান।

এ ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যশোর সেনানিবাসে ১১ হাজার শিমুল-মসলিন তুলার চারা বিতরণের উদ্যোগ
যশোর সেনানিবাসের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তুলা উন্নয়ন বোর্ড যশোরের কর্মকর্তাদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
যশোর সেনানিবাসে ১১ হাজার শিমুল-মসলিন তুলার চারা বিতরণের উদ্যোগ
ফেনীর পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ফেনীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রহমান।
ফেনীর পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আবাসিক হোটেলের বাথরুমে মিলল নারীর গলাকাটা মরদেহ
কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলের বাথরুম থেকে কুলসুমা আক্তার (২৬) নামে এক নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের সঙ্গে হোটেলে ওঠা এক যুবক পলাতক রয়েছেন।
আবাসিক হোটেলের বাথরুমে মিলল নারীর গলাকাটা মরদেহ
শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে জামায়াতের দুই নেতা বহিষ্কার 
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও জামায়াতের নীতি আদর্শ বিচ্যুতির দায়ে চট্টগ্রামের মিরসরাই পৌরসভা জামায়াতের দুই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে জামায়াতের দুই নেতা বহিষ্কার 
রাস্তায় দাঁড়িয়ে মোবাইলে কথা বলাই কাল হলো যুবকের
পাবনার ঈশ্বরদীতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মোবাইলে কথা বলার সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় রাজু আহমেদ (৩৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ওই মোটরসাইকেলের চালক এবং আরেক আরোহী আহত হয়েছেন।
রাস্তায় দাঁড়িয়ে মোবাইলে কথা বলাই কাল হলো যুবকের
আরও পড়ুন
শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে জামায়াতের দুই নেতা বহিষ্কার 
প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
ঢাকার যেসব এলাকায় আজ মার্কেট বন্ধ থাকবে
আজকের নামাজের সময়সূচি