ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

‘নিহার কলি’ ও ‘সম্রাট বাহাদুর’ আবার ফিরছে সাফারি পার্কে

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
হাতি। ছবি: আরটিভি

মালিকপক্ষ শর্ত ভঙ্গ করায় মন্ত্রীর নির্দেশে সাফারি পার্কে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে হাতি নিহার কলি ও সম্রাট বাহাদুরকে। চলতি মাসের ১২ আগস্ট গাজীপুর সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দুটি হাতি দুই ব্যক্তির জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান বলেন, সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে পাঁচ সদস্যের একটি দল সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এর মধ্যে একটি হাতি মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে সাফারি পার্কে এসে পৌঁছেছে এবং অপর হাতিটি কিছুক্ষণের মধ্যে পৌঁছাবে বলে আশা করছি।

এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) বন বিভাগের কর্মকর্তারা অভিযান পরিচালনা করে হাতি দুটি পুনরায় বন বিভাগের হেফাজতে নেন। মাদি হাতি নিহার কলিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বন থেকে এবং পুরুষ হাতি সম্রাট বাহাদুরকে জুড়ী উপজেলার শিলুয়া চা-বাগানসংলগ্ন এলাকা থেকে বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়।

জিম্মা গ্রহণকারীরা নির্ধারিত শর্ত যথাযথভাবে প্রতিপালন না করায় বিষয়টি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নজরে আসে। পরে তিনি হাতি দুটিকে হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বর্তমানে হাতি দুটি বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে গাজীপুর সাফারি পার্কে নিয়ে আসা হচ্ছে।

জনসংযোগ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, গাজীপুর সাফারি পার্কে পৌঁছানোর পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের মাধ্যমে দুটি হাতির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। পরবর্তীতে হাতির জন্য নির্ধারিত শেডে স্থানান্তর করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

সিলেট বন বিভাগের জুড়ীর রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনের কাছে পুরুষ হাতি সম্রাটকে পাওয়া যায়। সেখানে তাকে দিয়ে গাছ টানার কাজ করানো হচ্ছিল। এ সময় হাতিটির মাথা ও শুঁড়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। সাত-আট কিলোমিটার পথ হেঁটে আসায় হাতিটি ক্লান্ত ও তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েছিল। পরে হাতিটিকে রেঞ্জ কার্যালয়ে রাখা হয়। নলকূপ থেকে পর্যাপ্ত পানি পান করার পর তাকে কলাগাছ খাওয়ানো হয়। গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঠানোর জন্য একটি ট্রাক ভাড়া করা হয়েছে।

লাঠিটিলা বিটের কর্মকর্তা সাজন বলেন, তিনি দেখেছেন, হাতিকে দিয়ে কাজ করানোর সময় কথা না শোনায় মাহুতরা লোহার ধারালো বস্তু দিয়ে হাতিটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতে থাকেন। সম্রাটের শরীরেও এমন আঘাত করা হয়ে থাকতে পারে।

হাতি সম্রাটের দেখভালকারী মাহুত আবদুর রউফ বলেন, জঙ্গলে প্রবেশের সময় লেবুগাছের কাঁটা লেগে শরীরে ক্ষতচিহ্ন হয়েছে।

গত ৬ ও ৭ আগস্ট রাজা বাহাদুরসহ পার্কের হাতিশালায় দুটি হাতির মৃত্যু হয়। চলতি বছরের ২৪ মে পার্কের হাতিশালায় শিকলে বাঁধা ১০ বছর বয়সী রাজু বাহাদুরের ওপর হামলা করে চার বছর বয়সী হাতি জয়িতা। আক্রমণে রাজু বাহাদুরের একটি পা ভেঙে যায়। হাতিটির চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয় এবং থাইল্যান্ড থেকে বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনা হয়। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার চিকিৎসকদের সঙ্গেও পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল। সব চেষ্টা সত্ত্বেও গত ৭ আগস্ট শুক্রবার হাতিটির মৃত্যু হয়। এরপর পার্কে হাতির সংখ্যা কমে দাঁড়ায় আটটিতে।

আরও পড়ুন

অপরদিকে, ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৬ আগস্ট গাজীপুর সাফারি পার্কের অপর একটি হাতির মৃত্যু হয়। এরপরই হাতি সম্রাট ও নিহার কলিকে শর্ত সাপেক্ষে তাদের মালিকের জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। জিম্মা গ্রহণকারীরা নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গ করায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নির্দেশে হাতি দুটিকে বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বন বিভাগ গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার পোলসার গ্রামে হাতি সম্রাটের পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে মাহুত নজরুল ইসলামের মৃত্যু হয়। কুড়িগ্রামের নজরুল ইসলাম ও পটুয়াখালীর হাসানের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে হাতি দিয়ে টাকা তোলা এবং নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। এ ঘটনার পর বন বিভাগ হাতিটিকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে পুনর্বাসনের জন্য গাজীপুর সাফারি পার্কে আনা হয়। পরে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাসের ১২ আগস্ট বেশ কয়েকটি শর্ত জুড়ে মালিকদের কাছে হাতিটি বুঝিয়ে দেয় বন বিভাগ।

একই বছরের ৩১ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ভুলতা এলাকা থেকে হাতি নিহার কলিকে উদ্ধার করা হয়। সেখানে এক ব্যক্তি হাতিটি দিয়ে রাস্তায় মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলতেন। এ ছাড়া হাতিটিকে লালন-পালনকারীদের লোকজন বেঁধে নির্যাতন করতেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টাঙ্গাইলে ১৩৫৭ মণ্ডপে চলছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি
দরজায় কড়া নাড়ছে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে টাঙ্গাইলের ১৩৫৭টি মণ্ডপে দেবী দুর্গার অনিন্দ্যসুন্দর রূপ ফুটিয়ে তুলতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে প্রতিমা শিল্পীদের কর্মব্যস্ততা। আর এ দুর্গোৎসব পালনে জেলার ঘরে ঘরে চলছে উৎসবের আমেজ।
টাঙ্গাইলে ১৩৫৭ মণ্ডপে চলছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি
৮ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই 
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টায় স্থানীয় রুপালি সী ফুডস লিমিটেডের সামনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।
৮ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই 
ট্রলির জন্য টাকা না দেওয়া ভোগান্তি, হাসপাতালে শিশুর মৃত্যু
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চার বছরের একটি অসুস্থ শিশুকে জরুরি চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পর ট্রলির জন্য টাকা চাওয়া হয়। সেই টাকা দিতে না পারায় সময়মতো ট্রলি না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩২ সেকেন্ডের এমন এক ভিডিওকে ঘিরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার অব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ‎সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। মৃত শিশুটির নাম রুহুল আমিন (৪)। সে ফরিদপুর সদর উপজেলার পুরদিয়া গ্রামের মাফুজুরের ছেলে। স্বজনদের অভিযোগ, শিশুটিকে দ্রুত জরুরি বিভাগে নেওয়ার জন্য স্ট্রেচার বা ট্রলি চাওয়া হলে কর্মচারীরা টাকার দাবি জানান। সেই টাকা দিতে না পারায় ট্রলি মেলেনি। বাধ্য হয়ে শিশুটিকে কোলে নিয়েই স্বজনদের ওয়ার্ডের দিকে ছুটতে হয়েছে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। এ সময় শিশুটির মুখে অক্সিজেনের মাস্ক লাগানো ছিল। একজন স্বজন কোলে শিশুটিকে নিয়ে দৌড়াচ্ছিলেন, আর অন্যরা অক্সিজেন সিলিন্ডার ও স্যালাইনের বোতল বহন করছিলেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের সেবাব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। তবে ট্রলি না পাওয়ার কারণে শিশুটির অবস্থার অবনতি বা মৃত্যু হয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও সচেতন মহলের অনেকে। তবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, রোগীর স্বজনদের অভিযোগ সঠিক নয়। শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এ অবস্থায় ট্রলিতে করে তাকে নেওয়া হলে আরও বেশি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় নার্সরা শিশুটিকে ট্রলিতে নিতে নিষেধ করেছিলেন। এ বিষয়ে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আরটিভি/টিআর
ট্রলির জন্য টাকা না দেওয়া ভোগান্তি, হাসপাতালে শিশুর মৃত্যু
ছেলের পর বৃদ্ধ বাবাকে গুলি করে হত্যা
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে রূপসার দুর্জনীমহল শহীদের মোড় ঢালী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ছেলের পর বৃদ্ধ বাবাকে গুলি করে হত্যা
বেয়াইনকে বাসায় ডেকে নেন শান্ত, পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে প্রেমিকের বাসায় গিয়ে কয়েক দফা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে এক তরুণীর (১৮) মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক শান্ত পালকে (২৭) পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
বেয়াইনকে বাসায় ডেকে নেন শান্ত, পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু
আরও পড়ুন
বেয়াইনকে বাসায় ডেকে নেন শান্ত, পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু
প্রিজনভ্যান থেকে ‘পিচ্চি রাজা’র পালানোর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য, যেভাবে নাটক সাজায় পুলিশ
তালাবদ্ধ ঘরে অঙ্গার তরুণ, পরিবারের অভিযোগ পুড়িয়ে হত্যা
গাজীপুরে জুটের গোডাউনে আগুন