ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

৫ খাল সাঁতরে বিদ্যালয়ে যায় চরকারফারমার শিশুরা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর গলাচিপার চরকারফারমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হতে পাঁচটি খাল পার হতে হয়। বই-খাতা হাতে উঁচু করে ধরে শিশুদের কাটতে হয় দীর্ঘ সাঁতার। তারপর ভেজা কাপড়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠ নিতে হয় অন্তত ২০ শিশুকে।

এসব শিশুদের বাড়ি পটুয়াখালী গলাচিপা উপজেলার দুর্গম এলাকা চরকারফারমায়। বিকল্প না থাকায় প্রতিদিন সাঁতার কেটে এসব শিশুকে তাদের যেতে হয় পাশের চরকারফারমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট শিক্ষার্থী ৫১ জন। এর মধ্যে ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থীকে পাঁচটি খাল সাঁতার কেটে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। বছরের বারো মাসই এভাবে কষ্ট করতে হয় শিশু শিক্ষার্থীদের। এতে বিদ্যালয়বিমুখ হয়ে পড়ছে তারা।

বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া হাসিবুল গণমাধ্যমকে জানায়, তাদের বাড়ি চর কারফারমার শেষ সীমানা দক্ষিণ দিকে ফরেস্টের পাশে। তার বন্ধু বাড়ির পাশের জহিরুলও একই বিদ্যালয়ে পড়ে। তারা দুইজন একসঙ্গে স্কুলে আসা-যাওয়া করে। এ জন্য পাঁচটি খাল সাঁতরাতে হয়।

জহিরুল জানায়, প্রতিদিনই তার সঙ্গে ছয়-সাতজন খাল সাঁতার কেটে স্কুলে আসে। আর বৃষ্টির দিনে বই-খাতা ভিজে যায়।

একই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আসাদুল জানায়, বৃষ্টি ও খালের পানিতে শরীর সারাদিনই ভিজে থাকে। এতে শরীর খারাপ করে। আসাদুলের ভাষ্য, বেশি খারাপ লাগলে কয়েকদিন বাড়িতেই থাকি। আমাগো একটা নৌকা আছে। কিন্তু ওই নৌকা দিয়া নদীতে মাছ ধরতে যায়, তাই খাল সাঁতরেই স্কুলে যেতে হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গলাচিপা সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি অংশ চরকারফারমা। পাঁচ নদীর মোহনা আগুনমুখায় বিভক্ত সদর ইউনিয়নের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে গড়ে উঠেছে এ চর। এর দক্ষিণে ম্যানগ্রোভ বন, তারপরই বঙ্গোপসাগর। পশ্চিমে রামনাবাদ, পূর্বে তেঁতুলিয়া নদী আর উত্তরে উত্তাল পাঁচ নদীর মোহনা।

দূর থেকে চরটি আকর্ষণীয় স্থান হলেও চরে যাতায়াতের জন্য কোনো রাস্তাঘাট। এতে ভোগান্তি পোহাতে হয় সেখানে শিক্ষার্থীসহ বাসিন্দাদের। আর এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছায় বর্ষা মৌসুমে। চরটিতে কোনো বেড়িবাঁধ না থাকায় বছরের সব সময়ই স্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে বিদ্যালয়ের মাঠ-রাস্তাঘাট সব ডুবে থাকে।

চরে ৮০টি জেলে ও কৃষক পরিবারের বাস। এসব পরিবারের শিশুদের জন্য ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের ৫১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ২৬ জন এবং ২৫ জন ছাত্রী। আর শিক্ষক রয়েছেন তিনজন।

চরকারফারমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি শাহিদা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, এই চরে ৮০টি পরিবার বাস করে। কিন্তু রাস্তা করার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। স্কুলে যাতায়াতের জন্য হলেও কিছু রাস্তাঘাট করা দরকার।

গলাচিপা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন টুটু বলেন, স্কুলে যাওয়ার রাস্তা নেই- এ কথাটা সত্য। তবে আপাতত কোনো বরাদ্দ নেই। সামনে বরাদ্দ পেলে অবশ্যই রাস্তার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন

চরকারফারমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নেছার উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাস্তাঘাট না থাকায় অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাস্তাঘাট হলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়বে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম সগীর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। রাস্তা না থাকার কারণে স্কুলের শিক্ষার্থী কমে গেছে। বিষয়টি ইউএনও ও প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে জানানো হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। জায়গাটি পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কৃষকের ছদ্মবেশে দুই ‘মাটিখেকো’ ধরলেন ভূমি কর্মকর্তা 
পটুয়াখালীর গলাচিপায় কৃষকের ছদ্মবেশে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করেছেন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. জাকির হোসেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কৃষকের ছদ্মবেশে দুই ‘মাটিখেকো’ ধরলেন ভূমি কর্মকর্তা 
সাড়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নাক-মুখ থেঁতলে দিলেন বিপ্লব
টাঙ্গাইল শহরে সাড়ে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিপ্লব নামে এক বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় শিশুটির কান্না ও বাধা দেওয়ার কারণে ইট দিয়ে মুখ ও নাক থেঁতলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
সাড়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নাক-মুখ থেঁতলে দিলেন বিপ্লব
গোরস্তানের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো ‘খ্যাপা’ শেয়াল, নারী-শিশুসহ আহত ১০
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় খ্যাপা শেয়ালের আক্রমণে নারী ও শিশুসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
গোরস্তানের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো ‘খ্যাপা’ শেয়াল, নারী-শিশুসহ আহত ১০
‎জামায়াত ছাড়লেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।  শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি। অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ‎চট্টগ্রাম দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী। তিনি পেকুয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর রোকন সদস্য এবং রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন।  ২০১৬ ও ২০২১ সালের রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি দুইবার জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ‎ফেসবুক পোস্টে হুমায়ুন কবির লেখেন, ‘আজকে থেকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বিদায় নিলাম। রাজাখালী জামায়াতে ইসলামী ন্যায়-ইনসাফ টাকার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা করেছে। টাকার বিনিময়ে বিক্রি হওয়া ব্যক্তিরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে।’ ‎  ‎জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, দলীয় রাজনীতির কঠিন সময়ে যখন অনেকে ভয়ে নিজেদের জামায়াত পরিচয় প্রকাশ করতেও অনাগ্রহী ছিলেন, তখন ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সংগঠনের হয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলাম। ওই সময়ে আমাকে সামনে রেখেই রাজাখালীতে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। আজ আমাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই স্বেচ্ছায় জামায়াতের রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছি। ‎  ‎তিনি আরও বলেন, আমি জনগণের মনোনীত রাজাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইনশাআল্লাহ। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি। ‎‎অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, হুমায়ুন কবিরের দল ছাড়ার বিষয়টি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। সংগঠনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জেলা আমির অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী এবং সাংগঠনিক সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসাইন ও আল আমিন মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, অর্থ বা প্রভাবের কোনো বিষয় নেই। ‎ ‎ তিনি বলেন, ‘সংগঠনের পক্ষ থেকে যোগ্যতা, সাংগঠনিক অবস্থান, জনসম্পৃক্ততা ও নির্বাচনী সার্বিক সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ বা বক্তব্য থাকার কথা নয়।’ আরটিভি/এসআর
‎জামায়াত ছাড়লেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির
৫২ বছরে এইচএসসি পাস করে নজির গড়লেন শেফালী
জীবনের ৫২টি বসন্ত পেরিয়ে যখন অনেকেই শিক্ষাজীবনের ইতি টেনে দেন, তখন নতুন করে বই হাতে তুলে নিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকার শেফালী বেগম। দীর্ঘ শিক্ষাবিরতি, পারিবারিক দায়িত্ব ও জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২১ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। তার স্বপ্ন এখন উচ্চশিক্ষা অর্জনের।
৫২ বছরে এইচএসসি পাস করে নজির গড়লেন শেফালী
আরও পড়ুন
কুবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াড
জবিসহ দেশের ১৪ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড
বুটেক্সে অনুষ্ঠিত হলো আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টেক্সটাইল উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা ‘টেক্সভার্স ২.০’
খুবির প্রথম বই ভিত্তিক সংগঠন ‘বই বৃন্ত’ সভাপতি অপি ও সম্পাদক ওয়ালিদ