
ভালো বেতন আর উন্নত জীবনের আশায় রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের যুবক রাজন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, চাকরির বদলে তাকে পাঠানো হয় ইউক্রেনের ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্রে। ড্রোন হামলার মধ্যে পড়ে কোনোমতে প্রাণে বেঁচে দেশে ফিরেছেন তিনি। ফিরে এসে শোনালেন যুদ্ধের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা।
দুটি পায়ের একটি অচল। কোনোমতে ক্র্যাচে ভর দিয়ে করতে পারছেন হাঁটা-চলা। সুঠাম দেহের অধিকারী রাজন হয়ে গেছেন কঙ্কালসার। দেশে ফিরেছেন ঠিকই, কিন্তু ইউক্রেনের সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর স্মৃতি যেন বারবার তাড়া করে ফিরছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের যুবক রাজনকে। চোখ বন্ধ করলেই মনে পড়ছে বিস্ফোরণের শব্দ, ড্রোন হামলা আর মৃত্যুর আতঙ্ক।
দালালের খপ্পরে পড়ে গত মে মাসের ৭ তারিখে রাশিয়ায় পাড়ি জমান তিনি। নির্মাণ শ্রমিকের কাজ দেওয়ার কথা থাকলেও জোরপূর্বক ট্রেনিং করিয়ে রাশিয়ার পক্ষে পাঠানো হয় ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে। ৩০ জনের মধ্যে প্রথম কয়েক দিনেই প্রাণ হারান ২০ যুবক। যুদ্ধে গিয়ে ড্রোন হামলায় আহত হন রাজন। চারদিকে তখন যুদ্ধের ভয়াবহতা। ওপরে ড্রোন, নিচে মাইন আর সামনে ইউক্রেনীয় সেনা। আহত অবস্থায় সেখানে পড়ে থাকলে মৃত্যু নিশ্চিত বুঝতে পেরে বাঁচার জন্য বুকের ওপর ভর দিয়ে এগোতে থাকেন রাজন। এভাবে ৪ দিন ৪ রাত বুকে ভর দিয়ে কোনোমতে ক্যাম্পে ফেরেন তিনি।
আহত অবস্থায় তিন দিন বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকার পর তাকে নেওয়া হয় রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ইউক্রেনের একটি হাসপাতালে। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা চলে। প্রায় দেড় মাস পর তাকে রাশিয়ার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে পালিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করলে তাকে দেশে ফেরার ব্যবস্থা হয়।
গয়েশপুর গ্রামের রফিক বলেন, রাজন ভালো ছেলে। অভাবের কারণে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
রাজনের পিতা সহায়-সম্বল বিক্রি করে ছেলেকে পাঠিয়ে এখন নিঃস্ব পরিবারটি। নেই চিকিৎসা করানোর মতো টাকা। দালালদের শাস্তি ও তার চিকিৎসায় সরকারের সহযোগিতা চান পরিবার ও এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরটিভি/টিআর



