
ফেসবুকে এক তরুণীর নামে ভুয়া আইডি খুলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাইম (২০) নামের এক তরুণের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ভুয়া আইডিটিকে আসল প্রমাণ করতে এক তরুণীকে দিয়ে মেসেঞ্জারে কণ্ঠ দেওয়ানোর চেষ্টা করা হতো বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ওই তরুণীর মা শাহানাজ বেগম (৩৬) এসব তথ্য জানতে পেরে মানিকগঞ্জ সদর থানায় দুই জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের চান্দইর এলাকায় ঘটে এই ঘটনা।
অভিযুক্তরা হলেন ওই এলাকার আব্দুল সালামের ছেলে মো. সাইম (২০) ও সালামের স্ত্রী আখী বেগম (৩৮)।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে সাইম ‘Samiya Islam’ নামে একটি ফেসবুক আইডি খুলে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ওই তরুণীর পরিচয়ে কথাবার্তা বলতেন। পরে ওই আইডির মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা হয় এবং বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নেওয়া হতো বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরও জানা গেছে, সাইমের বাড়ি ও শাহানাজ বেগমের বাড়ি পাশে হওয়ায় তার বড় মেয়ের সঙ্গে প্রতিবেশী হিসেবে পরিচয় ছিল। সেই পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে সাইম ওই তরুণীকে দিয়ে মেসেঞ্জারে ভয়েস বা কণ্ঠ দেওয়ানোর চেষ্টা করতেন, যাতে ‘Samiya Islam’ আইডিটি একজন তরুণীর এমন বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা যায়।
গত ২৪ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ‘Nitul Ali’ নামের একটি ফেসবুক আইডির সঙ্গে মেসেঞ্জারে কথোপকথনের সময় সাইম ওই তরুণীকে কণ্ঠ দেওয়ার জন্য বলেন। তবে তিনি এতে রাজি না হলে সাইম তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় মেয়েটির মা প্রতিবাদ করলে তাকেও গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
শাহানাজ বেগম বলেন, আমার মেয়ের তো মোবাইল ফোনই নাই। আমার মেয়েটা কিছুদিন হয় চাকরি করতাছে। এই সাইম আমার মেয়েকে দিয়ে এমন অপকর্ম করতেছে জানতে পারলে আমি প্রতিবাদ করলে তারা আমার উপর ক্ষিপ্ত হইয়া যায়। কেন আমার মেয়ের সম্মান নিয়ে এমন করছে আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এদিকে ‘Nitul Ali’ ফেসবুক আইডির ব্যবহারকারী রাজশাহীর কাটাখালী বাজার এলাকার মো. নিটুল সরকার জানান, ‘Samiya Islam’ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির সঙ্গে তিনি বিয়ের উদ্দেশ্যে কথা বলতেন। তার দাবি, ওই আইডির পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি সাইমের বন্ধু রাসেলের বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠাতে বলতেন। তিনি এর আগে কয়েক দফা টাকা দিয়েছেন।
নিটুল বলেন, আমি জানতাম না এটা ফেক আইডি। একদিন শুধু ভয়েস পাঠিয়েছিল একটি মেয়ের কন্ঠে। এছাড়া সব সময় টেক্সটেই কথা হতো। আমার সঙ্গে যে প্রতারণা হয়েছে, আমি তার বিচার চাই।
অভিযুক্ত সাইমের বন্ধু রাসেল আলী বলেন, মোবাইলে গেমস্ খেলার মাধ্যমে পরিচয় তার সঙ্গে এবং সে আমার ভালো বন্ধু ছিল। সে আমার বিকাশ নাম্বারে গেম খেলার জন্যই টাকা পাঠাতো। সাইম আমাকে ফাঁসানোর জন্য এমন কাজ করেছে। আর ওই ফেক আইডিটা সাইম এর মোবাইলেই লগইন করা ছিল।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. সাইম বলেন, আমি কোন সময় টাকা-পয়সা খাই নাই বা চাই নাই ওইরকম। এইসব অভিযোগ মিথ্যা, আমার মোবাইল নষ্ট হয়ে গেছে অনেকটা।
‘Samiya Islam’ আইডিটি তার কি না, এ প্রশ্ন করা হলে কয়েক সেকেন্ড চুপ থাকে সাইম, এরপর তাকে পাশে থেকে বলে দেওয়া হয় যে, এটা বল আইডি আমার না, এরপর তিনি উত্তর দেয় আইডি আমার না।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, ঘটনার বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে সাইমের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, এই ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত অনুসারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএম




