
মানিকগঞ্জের ঘিওরে উপজেলা খাদ্য গুদাম সিলগালা করে দিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক দল। আকস্মিক সিলগালার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র কৌতূহল ও নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে উপজেলা খাদ্য গুদামটি সিলগালা অবস্থায় দেখা যায়। এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে জেলা ও খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শন শেষে গুদামটি সিলগালা করে দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন জেলার সব উপজেলায় খাদ্য গুদামের শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিশেষ অডিট কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ের একটি দল ঘিওরে আসে। তারা গুদামে মজুদকৃত খাদ্যশস্যের খাতাপত্র ও প্রকৃত মজুতের হিসাব মিলিয়ে দেখেন।
অডিট কার্যক্রম চলমান থাকায় হিসাবের গরমিল ও তথ্যের অসংগতি যাচাইয়ের লক্ষ্যে সাময়িকভাবে গুদামটি সিলগালা করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্রী বিপুল কুমারকে মুঠোফোনে বারবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে এ বিষয়ে ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফারহানা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিশেষ অডিট কার্যক্রম চলমান থাকায় গুদাম সিলগালা করেছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. আইয়ুব রায়হান জানান, খাদ্যমন্ত্রীর নিজ জেলাকে একটি মডেল খাদ্য জেলা গড়ার লক্ষ্যে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে খাদ্য অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বিশেষ অডিট চলমান রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ঊর্ধ্বতন একটি প্রতিনিধি দল ঘিওর গুদাম পরিদর্শনে আসেন। দাপ্তরিক হিসাব নিরীক্ষা ও মজুত যাচাইয়ের সুবিধার্থে গুদামগুলো সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে। তদন্ত সম্পন্ন হলে সিলগালা খুলে দেওয়া হবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, উচ্চপর্যায়ের খাদ্য কর্মকর্তাদের নির্দেশে বিশেষ অডিট কার্যক্রম চলমান থাকার স্বার্থে গুদাম সাময়িক সিলগালা করার বিষয়টি জেনেছেন। বিষয়টি তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। অডিট কার্যক্রম শেষ হলেই খাদ্য গুদাম খুলে দেওয়া হবে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
আরটিভি/এমএম

-1790135980-405383_1790136034.jpg)
