ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বাবা আসবে ভেবেছিল ৩ মেয়ে, ফিরলেন কফিনে

রাজশাহী প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্যামলের কফিন বাড়িতে আসার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা : ছবি আরটিভি

আট বছর পর বাবার বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় ছিল তিন মেয়ে। স্বপ্ন ছিল, প্রবাস থেকে ফিরে বাবা তাদের সঙ্গে সময় কাটাবেন, গল্প করবেন, পরিবারের সঙ্গে খাবার খাবেন। সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে ঠিকই, তবে বাবা ফিরেছেন কফিনবন্দী হয়ে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত ৩টার দিকে সৌদি আরব থেকে শ্যামল উদ্দিন মাঝির (৪৬) মরদেহবাহী কফিন পৌঁছায় রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাড়িতে।
কফিন বাড়িতে পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী ও তিন মেয়ে।

কফিন খুলে স্বামীর নিথর মুখ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন শ্যামলের স্ত্রী। বাবাকে শেষবারের মতো দেখতে কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকে তিন কন্যা। তাদের কান্নায় উপস্থিত স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় মানুষের চোখেও পানি আসে।

আরও পড়ুন

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় সৌদি আরবে পাড়ি জমান শ্যামল উদ্দিন মাঝি। রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় কাজ করতেন তিনি। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর সম্প্রতি দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শ্যামল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষ কথোপকথনেও দেশে ফেরার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তাই স্ত্রী ও মেয়েরা অপেক্ষায় ছিলেন প্রিয় মানুষটির ফেরার।

কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষ হয় মর্মান্তিক খবরে।

গত ৯ আগস্ট রাতে রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় শ্যামলের কর্মস্থল সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই ঘটনায় ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন শ্যামল উদ্দিন মাঝিও।

স্বজনদের ভাষ্য, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার জন্যই দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন শ্যামল। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা এবং স্ত্রীকে ভালো রাখাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে বাকি জীবন কাটানোর স্বপ্নও দেখছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

আরও পড়ুন

শুক্রবার রাতেই মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজন ও প্রতিবেশীরা শেষবারের মতো শ্যামলকে দেখতে ছুটে আসেন। পুরোনো স্মৃতি মনে করে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

শুক্রবার বেলা ১১টায় শ্যামল উদ্দিন মাঝির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীসহ এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

বাবার জীবিত ফেরার অপেক্ষায় থাকা তিন মেয়ের সেই অপেক্ষা শেষ হয়েছে। তবে বাবাকে ফিরে পেয়েছে তারা—কফিনের নিথর কাঠামোর ভেতর।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সংসারের হাল ধরতে নামেন ব্যবসায়ে, এখন মাসে আয় লাখ টাকা
একসময় পড়াশোনায় মেধাবী ইমাম হাসানের সামনে ছিল উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন। ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে আইনজীবী হবেন। কিন্তু সংসারের অভাব তাকে বই-খাতা ছেড়ে কাজে নামতে বাধ্য করে। কাপড়ের দোকানে কাজ করে শেখেন পোশাক বিক্রির কৌশল।  এরপর ধারদেনা করে ৬০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ভ্যানে শুরু করেন পোশাকের ব্যবসা। এখন প্রতিদিন বিক্রি করছেন দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকার পোশাক; মাসে আয় হচ্ছে এক লাখ টাকারও বেশি। ২৩ বছর বয়সী ইমাম হাসান চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খিল মুরারী এলাকার মোহাম্মদ ইউনুস মিয়া ও রোকসানা আক্তার দম্পতির বড় ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রি। পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম বাবার আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো। ছোটোবেলা থেকেই বাবার পরিশ্রম দেখেছেন ইমাম। পড়াশোনায় মেধাবী হলেও সংসারের অভাবের কারণে ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। এরপর পরিবারের আয়ে সহযোগিতা করতে একটি কাপড়ের দোকানে কাজ নেন। সেখানে দীর্ঘদিন কাজ করে পোশাক বিক্রির কৌশল আয়ত্ত করেন। তবে সেই আয়েও সংসারের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না। তখনই নিজের কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। পরিবার ও স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে জোগাড় করেন ৬০ হাজার টাকা। সেই টাকা দিয়ে শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্টসহ বিভিন্ন পোশাক কিনে শুরু করেন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা। প্রতিদিন বিকেলে বারইয়ারহাট পৌর বাজারে ভ্যান সাজিয়ে বসেন ইমাম। চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। প্রতিদিন দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকার পোশাক বিক্রি হয়। মাসে ব্যবসা থেকে আয় হয় এক লাখ টাকারও বেশি। দিনের বেলায় মা-বাবাকে পরিবারের কাজে সহযোগিতা করেন। বিকেলে ভ্যান নিয়ে বসেন বাজারে। এভাবেই নিজের আয়ের পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন তিনি। ইমাম হাসান বলেন, ছোটোবেলায় আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। পড়ালেখাও ভালো ছিলাম। কিন্তু অভাবের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারিনি। কাপড়ের দোকানে কাজ করে সামান্য টাকা আয়ের পাশাপাশি ব্যবসার অভিজ্ঞতা শিখেছি। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজের ব্যবসা শুরু করেছি। এখন নিজের আয় দিয়ে পরিবারকে সহযোগিতা করতে পারছি। আরটিভি/এসএস
সংসারের হাল ধরতে নামেন ব্যবসায়ে, এখন মাসে আয় লাখ টাকা
লিখিত স্ট্যাম্প দিয়ে মাদক ব্যবসা ছাড়ার অঙ্গীকার মা-ছেলের
মাদক নির্মূল কমিটি ও স্থানীয়দের চাপে পড়ে মাদক গ্রহণ ও মাদক বেচা-কেনা থেকে দূরে থাকবেন বলে লিখিত অঙ্গীকার দিয়েছেন মাদককারবারি মা ও ছেলে।
লিখিত স্ট্যাম্প দিয়ে মাদক ব্যবসা ছাড়ার অঙ্গীকার মা-ছেলের
লং মার্চে যাওয়ার পথে জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে জখম
লংমার্চের পথসভায় যাওয়ার পথে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২ টার দিকে সিরাজগঞ্জ নগরের সয়দাবাদ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত মো. আবদুস সবুর শেখ (৫০) সায়দাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির। এ ঘটনায় গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী মোছা. শহর বানু বাদী হয়ে রোববার সকালে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, লং মার্চে যোগ দিতে যাওয়ার পথে সয়দাবাদ মোড় মাদ্রাসা জামে মসজিদে জোহরের নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় একদল ব্যক্তি রামদা, ড্যাগার ও চাপাতি নিয়ে আবদুস সবুরের ওপর হামলা চালায়। এতে তার ডান হাতের কবজি, পেট ও পায়ে গুরুতর জখম হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের মুখপাত্র ও সহসাধারণ সম্পাদক মাওলানা শহিদুল ইসলাম ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সন্ধ্যায় জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে জেলা শহরে বিক্ষোভ করা হয়েছে। আরটিভি/টিআর
লং মার্চে যাওয়ার পথে জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে জখম
রাতে মাদরাসাছাত্রীর ঘরে গিয়ে বাড়ি ফিরতে ভুলে যান যুবক, অতঃপর... 
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামে সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া ১৪ বছরের এক মাদরাসাছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।  এ মামলায় অভিযুক্ত সজল মৃধা (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সজল উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের মো. বাবুল মৃধার ছেলে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীর নানি বাদী হয়ে রাঙ্গাবালী থানায় মামলা করেন। মামলার পর অভিযান চালিয়ে সজলকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি দাখিল মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নানা বাড়িতে থেকেই সে পড়ালেখা করতো।  এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সজল বিভিন্ন সময় মাদরাসায় যাতায়াতের পথে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন।  এজাহারে বলা হয়, ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে কিশোরী বাড়ির দোতলায় পড়াশোনা করছিল। এ সময় সজল বাড়ির বাইরে থেকে তার মোবাইল ফোনে কল করেন। পরে বাড়ির দরজা খোলা পেয়ে কৌশলে ভেতরে প্রবেশ করে দোতলায় যান। সেখানে কিশোরীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে ওই রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়। পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা দোতলায় গিয়ে সজলকে কিশোরীর সঙ্গে দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর দাবি, এ সময় জিজ্ঞাসাবাদে সজল কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলে সজল কিশোরীকে বিয়ে করার কথা বলে কৌশলে সেখান থেকে চলে যান। এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াছ হোসেন মুন্সি বলেন, এ ঘটনায় শনিবার রাতে রাঙ্গাবালী থানায় মামলা করেন কিশোরীর নানি। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সজলকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রোববার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।  পুলিশ জানায়, ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষার পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়াও নেওয়া হবে।  আরটিভি/এসএস
রাতে মাদরাসাছাত্রীর ঘরে গিয়ে বাড়ি ফিরতে ভুলে যান যুবক, অতঃপর... 
২৪ বছরের ‘বুড়ি হাঁস’, এখনও আয় করে
রাজহাঁসটি রাজশাহীর রবিউল ইসলামের (৫৪)। তিনি জানান হাঁসটির বয়স ২৪ বছর তিন মাস। জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্ম হলেও হাঁসটি শুধু টিকে থাকেনি, বছরের পর বছর ডিম আর বাচ্চা দিয়ে যাচ্ছে। একটি পরিবারের আয়ের বড় ভরসা হয়ে আছে। এলাকায় ‘বুড়ি হাঁস’ নামে পরিচিতি পেয়েছে রাজহাঁসটি।
২৪ বছরের ‘বুড়ি হাঁস’, এখনও আয় করে
আরও পড়ুন
সৌদির জ্বালানি স্থাপনায় হুতিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
‘মক্কায় হামলা মহাপাপ’ 
সৌদি আরবের ৮ এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি
সৌদির কাছে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র