
আট বছর পর বাবার বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় ছিল তিন মেয়ে। স্বপ্ন ছিল, প্রবাস থেকে ফিরে বাবা তাদের সঙ্গে সময় কাটাবেন, গল্প করবেন, পরিবারের সঙ্গে খাবার খাবেন। সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে ঠিকই, তবে বাবা ফিরেছেন কফিনবন্দী হয়ে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত ৩টার দিকে সৌদি আরব থেকে শ্যামল উদ্দিন মাঝির (৪৬) মরদেহবাহী কফিন পৌঁছায় রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাড়িতে।
কফিন বাড়িতে পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী ও তিন মেয়ে।
কফিন খুলে স্বামীর নিথর মুখ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন শ্যামলের স্ত্রী। বাবাকে শেষবারের মতো দেখতে কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকে তিন কন্যা। তাদের কান্নায় উপস্থিত স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় মানুষের চোখেও পানি আসে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় সৌদি আরবে পাড়ি জমান শ্যামল উদ্দিন মাঝি। রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় কাজ করতেন তিনি। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর সম্প্রতি দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শ্যামল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষ কথোপকথনেও দেশে ফেরার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তাই স্ত্রী ও মেয়েরা অপেক্ষায় ছিলেন প্রিয় মানুষটির ফেরার।
কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষ হয় মর্মান্তিক খবরে।
গত ৯ আগস্ট রাতে রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় শ্যামলের কর্মস্থল সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই ঘটনায় ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন শ্যামল উদ্দিন মাঝিও।
স্বজনদের ভাষ্য, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার জন্যই দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন শ্যামল। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা এবং স্ত্রীকে ভালো রাখাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে বাকি জীবন কাটানোর স্বপ্নও দেখছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
শুক্রবার রাতেই মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজন ও প্রতিবেশীরা শেষবারের মতো শ্যামলকে দেখতে ছুটে আসেন। পুরোনো স্মৃতি মনে করে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
শুক্রবার বেলা ১১টায় শ্যামল উদ্দিন মাঝির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীসহ এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
বাবার জীবিত ফেরার অপেক্ষায় থাকা তিন মেয়ের সেই অপেক্ষা শেষ হয়েছে। তবে বাবাকে ফিরে পেয়েছে তারা—কফিনের নিথর কাঠামোর ভেতর।
আরটিভি/এমএম



