ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

জাতীয় ৪ নেতার মুরাল অপসারণ, ইউএনও দায় চাপালেন মৃত মুক্তিযোদ্ধার ওপর

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
ছবি: আরটিভি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন জগদীশপুরের মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতা—সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানের মুরাল অপসারণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।

তবে মুরাল অপসারণের দায় সম্প্রতি মারা যাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের ওপর দিয়েছেন মাধবপুরের সদ্য সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বর্তমানে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ইউএনও জাহিদ বিন কাসেম। গোলাম মোস্তফা রফিক হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ও হবিগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক নেতা ছিলেন।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও জাহিদ বিন কাসেম বলেন, সম্প্রতি মারা যাওয়া হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিকের দায়িত্বকালে মুরালটি অপসারণ করা হয়েছিল। তিনি বিষয়টি জানতেন না বলেও দাবি করেন।

তবে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মুরাল অপসারণের ঘটনা জানার পর তিনি কোনো ব্যবস্থা নিয়েছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নেতিবাচক উত্তর দেন। একইভাবে এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কোনো রেজুলেশন, সভা কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না—এ প্রশ্নেরও কোনো ইতিবাচক উত্তর পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জাতীয় চার নেতার অন্যতম তাজউদ্দীন আহমেদের ছেলে ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোহেল তাজ মুরাল অপসারণের ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে সরকারের কাছে বিচার দাবি করেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

মাধবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও ভবানীপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, এভাবে মুরালগুলো সরানো একটি প্রতিহিংসার কাজ হয়েছে। আমরা শুরু থেকেই এর প্রতিবাদ করে এসেছি। আমরা চাই মুরালগুলো পুনঃস্থাপন করা হোক।

মাধবপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক ওয়ালিদ মিয়া বলেন, এ ধরনের কাজ সম্পূর্ণ বেআইনি ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পরিপন্থী। এর দায় উপজেলা প্রশাসনকে নিতে হবে। তারা এ কাজটি করেছে কি না, আর না করলে অনুমতি ছাড়া মুরাল অপসারণের ঘটনায় তারা কী ব্যবস্থা নিয়েছে—সেটিও প্রশ্ন।

স্থানীয় একটি মহলের দাবি, মুক্তিযুদ্ধে জাতীয় চার নেতা সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। তাদের মতে, এ ধরনের মুরালে এমএজি ওসমানী, মেজর জেনারেল সিআর দত্ত ও কমান্ডার নুরুজ্জামানের মতো মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মুরাল থাকা প্রয়োজন ছিল। তবে এ ধরনের বক্তব্যে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সমর্থন পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস শহীদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে আমাদের ধারণ করতে হবে, সংরক্ষণ করতে হবে। কেউ যদি মনগড়াভাবে এমন কাজ করে, সেটি জাতি সহ্য করবে না।

এদিকে মাধবপুরের বর্তমান ইউএনও মো. মেহেদী হাসান বলেন, মাধবপুর উপজেলা প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্তে ওই মুরাল অপসারণ করা হয়নি। নতুন মুরাল তৈরির ক্ষেত্রেও উপজেলা প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্ত নেই।

তবে মুরাল অপসারণের বিষয়ে তদন্ত, পুনর্নির্মাণ কিংবা সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না—সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সীমান্তে অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক শিশুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।  শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর সীমান্তের ভারতীয় অংশের লংকা মোড়া এলাকায় মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা। স্থানীয়রা জানান, সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানান। তবে শিশুটির পরিচয় কিংবা কীভাবে সেখানে মরদেহটি এসেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম জানান, শিশুটির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশের পাশাপাশি বিজিবিও চেষ্টা করছে। সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানান, কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে। আরটিভি/টিআর
সীমান্তে অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার
মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ককটেল বিস্ফোরণ
মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ওভারব্রিজের নিচে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে কেউ হতাহত না হলেও বাসস্ট্যান্ড এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ককটেল বিস্ফোরণ
অপ্রতীমের জানাজা আগামীকাল সকাল ১০টায়
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে নিহত কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের জানাজার নামাজ আগামীকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম।
অপ্রতীমের জানাজা আগামীকাল সকাল ১০টায়
সীমান্তে হেরোইনসহ আটক ২
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ গ্রাম হেরোইনসহ দুইজনকে আটক করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক দুজনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনামসজিদ বিওপির একটি বিশেষ টহল দল ডগ স্কোয়াডসহ এ অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবি জানায়, সীমান্ত মেইন পিলার-১৮৪ থেকে আনুমানিক ৭ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের কানসাট গ্রামের মধ্যবাজারের পাকা সড়কে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৯ গ্রাম হেরোইনসহ মো. আতাউর রহমান (৫০) ও মো. নুরুল ইসলাম বাবু (৪২) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাদের বাড়ি শিবগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর গ্রামে। আটকের পর তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যেককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। একই সঙ্গে জব্দ করা হেরোইন ধ্বংস করা হয়। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে কাজ করছে। পাশাপাশি সীমান্তে সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে। আরটিভি/টিআর
সীমান্তে হেরোইনসহ আটক ২
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানে গোলাম মাওলা (৫০) নামে পৌর আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে পৌর এলাকার শাহপুর গ্রামে তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার গোলাম মাওলা কসবা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি শাহপুর গ্রামের মৃত আফিল উদ্দিনের ছেলে এবং কসবা পৌরসভার সাবেক মেয়র গোলাম হাক্কানীর ছোট ভাই। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দায়ের করা একটি মামলায় গোলাম মাওলা তালিকাভুক্ত আসামি। সরকার পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি তিনি নিজ বাড়িতে ফিরেছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শাহপুর গ্রামে তার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর তালিকাভুক্ত কসবা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মাওলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। আরটিভি/টিআর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
আরও পড়ুন
দেশে বেহেশতের টিকিট বিক্রি হয়, কিনতে না চাইলেই জাহান্নামি: ফজলুর রহমান
চলে গেলেন স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী শিবু রায়
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
জাতীয় চার নেতার মুরালকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ আখ্যা দিয়ে অপসারণ করলেন ইউএনও