ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

রংমিস্ত্রির সহকারী থেকে যেভাবে সন্ত্রাসী হয়ে ওঠেন ‘গলাকাটা মোবারক’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার মোবারককে (মাঝে) আদালতে নেওয়া হচ্ছেছবি: সংগৃহীত

গত বুধবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চট্টগ্রামের ‘সন্ত্রাসী’ মো. মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারক। কর্ম জীবনে প্রথমে রংমিস্ত্রির কাজ করতে তিনি। তবে তার সন্ত্রাসী ও ‘গলাকাটা মোবারক’ হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে বিশাল ইতিহাস।

ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের হাছি চৌধুরী বাড়ির মো. লোকমানের ছেলে মোবারক। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বলতে তেমন কিছু নেই। নিজের নামটি কোনো রকমে লিখতে পারলেও পড়তে পারেন না।

কর্মজীবন শুরু করেছিলেন রংমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে। ২০১৪ সালে ফটিকছড়িতে মো. বাবু নামের এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এরপর তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘গলাকাটা মোবারক’ নামে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শিবির ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ‘সন্ত্রাসী’ নাছির উদ্দিনের হাত ধরে অপরাধজগতে প্রবেশ করেন মোবারক। নাছির কারাগারে যাওয়ার পর উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী আবু তৈয়বের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈয়বের সঙ্গে মোবারকের একাধিক ছবিও রয়েছে। এরপর প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে মানুষ হত্যা, চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি, দুই হাতে দুটি পিস্তল নিয়ে বীরদর্পে গুলি ছুড়তে ছুড়তে চলে যাওয়া—তার এমন ভূমিকা বিভিন্ন সময় ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়।

এত কিছুর পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন চট্টগ্রামের ‘সন্ত্রাসী’ মো. মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারক। তবে শেষ পর্যন্ত গত বুধবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শেষে মোবারক ফটিকছড়ি ও রাউজানের দুর্গম পাহাড়ে গা ঢাকা দিতেন। কিছুদিন পর আবার ফিরে এসে জড়িয়ে পড়তেন খুন, চাঁদাবাজি ও গুলির ঘটনায়।

আরও পড়ুন

মোবারকের সঙ্গে তার তিন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৩টি পিস্তল, ২৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও ৪টি শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন মোবারক। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।

পুলিশের ভাষ্য, মোবারক যে পিস্তল দিয়ে পুলিশকে গুলি করেছেন, সেটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নগরের কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি ঘুমাতেন এসএমজির (সাব মেশিনগান) মতো অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের (বর্তমানে কারাগারে) সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ইমনও বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অন্যতম সহযোগী।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, মোবারক বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী। সাজ্জাদের নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন মোবারক। সাজ্জাদ বাহিনীতে সাহসী ও অস্ত্র পরিচালনায় দক্ষ হিসেবে তাঁর কদর ছিল। দুই হাতে গুলি চালাতে পারেন মোবারক।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোবারক জানিয়েছেন, ইমনের কাছে অস্ত্র চালানো শিখেছেন তিনি। দুই হাতে অস্ত্র চালানো তার শখ। রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে হত্যার সময় সিসিটিভি ফুটেজে মোবারককে দুই হাতে অস্ত্র চালাতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ১৩ জুন বেলা দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় মাসুদুল হক চৌধুরীকে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন তিনি।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মাসুদুল হক দৌড়াচ্ছেন। পেছনে অস্ত্রধারীরা। একপর্যায়ে বাজারের একটি দোকানের সামনে রাখা মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যান মাসুদুল। তখন পেছনে থাকা মোবারকসহ অস্ত্রধারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করতে থাকেন।

প্রথম দফায় গুলি করে চলে যাওয়ার পর প্রায় ৪০ থেকে ৫০ সেকেন্ড পর আবার ফিরে আসেন মোবারক। গাড়িতে না উঠে আবার গুলি করেন। এরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে চলে যান। দিনদুপুরে বাজারে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটলেও ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকের ব্যাগ ছিনতাইয়ের চেষ্টা, এরপর যা ঘটল
যশোরের সিঙ্গিয়া রেলস্টেশনে ট্রেনের ভেতর থেকে শাহেদ বায়ান (৬৫) নামে এক অস্ট্রেলীয় নাগরিকের ব্যাগ ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে আকাশ গাঙ্গুলী নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। 
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকের ব্যাগ ছিনতাইয়ের চেষ্টা, এরপর যা ঘটল
‘সন্ধ্যার পর বাইরে ঘোরাফেরা করলে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করা হবে’
কক্সবাজারে সন্ধ্যার পর বিনা কারণে বাইরে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আটক ও গ্রেপ্তার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী।
‘সন্ধ্যার পর বাইরে ঘোরাফেরা করলে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করা হবে’
পর্যটকদের জন্য খুললো সেন্টমার্টিন
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে প্রতি বছরই সেন্টমার্টিনে ভিড় করেন পর্যটকেরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপটি। তবে দ্বীপে পর্যটন শুরু হলেও চলছে না জাহাজ। আগামী ৫ থেকে ৬ নভেম্বরের মধ্যে এ রুটে জাহাজ চলাচল শুরুর চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই পাঁচ দিন পর্যটকেরা কীভাবে সেন্টমার্টিনে পৌঁছাবেন? জানা যাচ্ছে, এই সময় পর্যটকদের দ্বীপে যাতায়াতের জন্য ভরসা করতে হবে ট্রলার কিংবা স্পিডবোটের ওপর। অর্থাৎ, ১ থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত যারা সেন্টমার্টিন ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের এই বিকল্প জলযানেই যাতায়াত করতে হবে। তবে ট্রলার বা স্পিডবোটে যাতায়াতের ক্ষেত্রে আবহাওয়া, সমুদ্রের অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপটি ভ্রমণ করতে পারবেন। পর্যটকদের বরণ করে নিতে এরই মধ্যে নতুন সাজে প্রস্তুত করা হয়েছে দ্বীপের হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টগুলো। তবে পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও জাহাজ চলাচল নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা জটিলতা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেয়েছে তিনটি জাহাজ। কিন্তু এখনো নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ভয়েজ লাইসেন্স, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) রুট পারমিট এবং জাহাজ চলাচলের সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি। এ ছাড়া পর্যটকদের টিকিট বিক্রির জন্য ট্যুরিজম বোর্ডের সফটওয়্যারও এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় আপাতত কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরুর বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে আছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করে আগামী ৫ থেকে ৬ নভেম্বরের মধ্যে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে। আরটিভি/টিআর
পর্যটকদের জন্য খুললো সেন্টমার্টিন
উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্পের ৫০ বছর: স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রামীণ উন্নয়নের ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত
দেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে জনসম্পৃক্ততার এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত উলশী-যদুনাথপুর খাল খনন প্রকল্পের ৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ১৯৭৬ সালের এই দিনে যশোরের শার্শা উপজেলায় তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান খনন কাজের উদ্বোধন করেন।
উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্পের ৫০ বছর: স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রামীণ উন্নয়নের ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত
৮ মামলার আসামিকে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখলো দুর্বৃত্তরা
খুলনায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শহীদুল (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শহীদুলের নামে মাদক ও হত্যাসহ ৮টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
৮ মামলার আসামিকে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখলো দুর্বৃত্তরা
আরও পড়ুন
রাঙামাটিতে শতাধিক প্রতিমায় পাহাড়ি সংস্কৃতির অনন্য রূপ
রংপুরে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
প্রতিপক্ষের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাহেব আলী নিহত
খুলনার সন্ত্রাসীদের বিচিত্র নাম আর বিচিত্র সব অপরাধ