ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

রংমিস্ত্রির সহকারী থেকে যেভাবে সন্ত্রাসী হয়ে ওঠেন ‘গলাকাটা মোবারক’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার মোবারককে (মাঝে) আদালতে নেওয়া হচ্ছেছবি: সংগৃহীত

গত বুধবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চট্টগ্রামের ‘সন্ত্রাসী’ মো. মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারক। কর্ম জীবনে প্রথমে রংমিস্ত্রির কাজ করতে তিনি। তবে তার সন্ত্রাসী ও ‘গলাকাটা মোবারক’ হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে বিশাল ইতিহাস।

ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের হাছি চৌধুরী বাড়ির মো. লোকমানের ছেলে মোবারক। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বলতে তেমন কিছু নেই। নিজের নামটি কোনো রকমে লিখতে পারলেও পড়তে পারেন না।

কর্মজীবন শুরু করেছিলেন রংমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে। ২০১৪ সালে ফটিকছড়িতে মো. বাবু নামের এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এরপর তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘গলাকাটা মোবারক’ নামে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শিবির ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ‘সন্ত্রাসী’ নাছির উদ্দিনের হাত ধরে অপরাধজগতে প্রবেশ করেন মোবারক। নাছির কারাগারে যাওয়ার পর উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী আবু তৈয়বের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈয়বের সঙ্গে মোবারকের একাধিক ছবিও রয়েছে। এরপর প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে মানুষ হত্যা, চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি, দুই হাতে দুটি পিস্তল নিয়ে বীরদর্পে গুলি ছুড়তে ছুড়তে চলে যাওয়া—তার এমন ভূমিকা বিভিন্ন সময় ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়।

এত কিছুর পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন চট্টগ্রামের ‘সন্ত্রাসী’ মো. মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারক। তবে শেষ পর্যন্ত গত বুধবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শেষে মোবারক ফটিকছড়ি ও রাউজানের দুর্গম পাহাড়ে গা ঢাকা দিতেন। কিছুদিন পর আবার ফিরে এসে জড়িয়ে পড়তেন খুন, চাঁদাবাজি ও গুলির ঘটনায়।

আরও পড়ুন

মোবারকের সঙ্গে তার তিন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৩টি পিস্তল, ২৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও ৪টি শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন মোবারক। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।

পুলিশের ভাষ্য, মোবারক যে পিস্তল দিয়ে পুলিশকে গুলি করেছেন, সেটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নগরের কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি ঘুমাতেন এসএমজির (সাব মেশিনগান) মতো অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের (বর্তমানে কারাগারে) সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ইমনও বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অন্যতম সহযোগী।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, মোবারক বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী। সাজ্জাদের নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন মোবারক। সাজ্জাদ বাহিনীতে সাহসী ও অস্ত্র পরিচালনায় দক্ষ হিসেবে তাঁর কদর ছিল। দুই হাতে গুলি চালাতে পারেন মোবারক।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোবারক জানিয়েছেন, ইমনের কাছে অস্ত্র চালানো শিখেছেন তিনি। দুই হাতে অস্ত্র চালানো তার শখ। রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে হত্যার সময় সিসিটিভি ফুটেজে মোবারককে দুই হাতে অস্ত্র চালাতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ১৩ জুন বেলা দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় মাসুদুল হক চৌধুরীকে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন তিনি।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মাসুদুল হক দৌড়াচ্ছেন। পেছনে অস্ত্রধারীরা। একপর্যায়ে বাজারের একটি দোকানের সামনে রাখা মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যান মাসুদুল। তখন পেছনে থাকা মোবারকসহ অস্ত্রধারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করতে থাকেন।

প্রথম দফায় গুলি করে চলে যাওয়ার পর প্রায় ৪০ থেকে ৫০ সেকেন্ড পর আবার ফিরে আসেন মোবারক। গাড়িতে না উঠে আবার গুলি করেন। এরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে চলে যান। দিনদুপুরে বাজারে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটলেও ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সীমান্তে অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক শিশুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।  শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর সীমান্তের ভারতীয় অংশের লংকা মোড়া এলাকায় মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা। স্থানীয়রা জানান, সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানান। তবে শিশুটির পরিচয় কিংবা কীভাবে সেখানে মরদেহটি এসেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম জানান, শিশুটির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশের পাশাপাশি বিজিবিও চেষ্টা করছে। সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানান, কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে। আরটিভি/টিআর
সীমান্তে অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার
মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ককটেল বিস্ফোরণ
মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ওভারব্রিজের নিচে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে কেউ হতাহত না হলেও বাসস্ট্যান্ড এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ককটেল বিস্ফোরণ
অপ্রতীমের জানাজা আগামীকাল সকাল ১০টায়
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে নিহত কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের জানাজার নামাজ আগামীকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম।
অপ্রতীমের জানাজা আগামীকাল সকাল ১০টায়
সীমান্তে হেরোইনসহ আটক ২
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ গ্রাম হেরোইনসহ দুইজনকে আটক করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক দুজনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনামসজিদ বিওপির একটি বিশেষ টহল দল ডগ স্কোয়াডসহ এ অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবি জানায়, সীমান্ত মেইন পিলার-১৮৪ থেকে আনুমানিক ৭ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের কানসাট গ্রামের মধ্যবাজারের পাকা সড়কে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৯ গ্রাম হেরোইনসহ মো. আতাউর রহমান (৫০) ও মো. নুরুল ইসলাম বাবু (৪২) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাদের বাড়ি শিবগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর গ্রামে। আটকের পর তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যেককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। একই সঙ্গে জব্দ করা হেরোইন ধ্বংস করা হয়। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে কাজ করছে। পাশাপাশি সীমান্তে সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে। আরটিভি/টিআর
সীমান্তে হেরোইনসহ আটক ২
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানে গোলাম মাওলা (৫০) নামে পৌর আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে পৌর এলাকার শাহপুর গ্রামে তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার গোলাম মাওলা কসবা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি শাহপুর গ্রামের মৃত আফিল উদ্দিনের ছেলে এবং কসবা পৌরসভার সাবেক মেয়র গোলাম হাক্কানীর ছোট ভাই। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দায়ের করা একটি মামলায় গোলাম মাওলা তালিকাভুক্ত আসামি। সরকার পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি তিনি নিজ বাড়িতে ফিরেছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শাহপুর গ্রামে তার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর তালিকাভুক্ত কসবা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মাওলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। আরটিভি/টিআর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
আরও পড়ুন
এবার গ্রেপ্তার হলেন ডেভিড ইমনের সহযোগী শুটার ডাবা হারুন 
যার বিরুদ্ধে মামলা করতে ভয় পায় মানুষ, তাকেই গ্রেপ্তার করল র‍্যাব
ডেভিড ইমনের সহযোগী ‘গলাকাটা মোবারক’ গ্রেপ্তার
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের অবরোধকে ‘ভয়াবহ সন্ত্রাস’ বললেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত