ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

ভয়ংকর মাদকের জালে ‘বন্দি’ মঠবাড়িয়ার তরুণরা

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
মঠবাড়িয়া। ছবি: আরটিভি

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইয়াবা ও গাঁজার পাশাপাশি ক্রিস্টাল মেথ বা ‘আইস’-এর মতো ভয়ংকর মাদকের উপস্থিতি নিয়েও আলোচনা রয়েছে। শহর থেকে প্রত্যন্ত ইউনিয়ন— মাদকের কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগে শঙ্কিত স্থানীয়রা। প্রশাসনের অভিযানে বড় পরিমাণে মাদক উদ্ধারের পরও থামছে না এর সরবরাহ। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে তরুণ ও যুবসমাজ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মঠবাড়িয়া পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড ও উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। অলিগলি পর্যন্ত মাদক পৌঁছে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে। তাদের ভাষ্য, সহজে মাদক পাওয়ার সুযোগ থাকায় তরুণদের একটি অংশ ধীরে ধীরে নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে তাদের পড়াশোনা, কর্মজীবন ও পারিবারিক সম্পর্কে। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে কেউ কেউ চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

থানা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত মে মাসে পৌরসভার আরামবাগ এলাকায় একটি তালাবদ্ধ ঘরে অভিযান চালিয়ে ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। তারা জানিয়েছিলেন, উদ্ধার করা গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। এরপর জুন মাসে ঢাকা থেকে মঠবাড়িয়াগামী ‘বিএম লাইন পরিবহন’-এর একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে ২ হাজার ৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে অভিযানে গাঁজা এবং ইয়াবা উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, মাদক উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চললেও এর বাইরে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা তেমন দেখা যায় না। তার দাবি, প্রশাসনের কিছু সদস্যের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ রয়েছে এবং তাদের কেউ কেউ মাদক কারবারিদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মঠবাড়িয়ার একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক অভিভাবক বলেন, আমার ছেলে এখানে পড়াশোনা করে। কিন্তু মাদকের ছোবলে এখন তার লেখাপড়া নিয়ে শঙ্কায় আছি। একজন অভিভাবক হিসেবে আমি চাই, মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, অভিভাবকরা সন্তানকে লেখাপড়া করিয়ে মানুষ করার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু মাদকের সহজলভ্যতায় সেই সন্তান যখন নেশায় জড়িয়ে পড়ে, তখন পরিবারের সব স্বপ্ন ভেঙে যায়। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেক তরুণ পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করছে, বাবা-মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, শুধু মাদকসেবীদের আটক করলেই হবে না। যারা মাদক সরবরাহ করছে এবং এর পেছনে রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনের আওতায় আনতে হবে।

আরও পড়ুন

মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান পরিচালনা করছি। অলিগলিতে মাদক বিক্রি বন্ধে বিশেষ অভিযান ও নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। মাদক কারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আতাউর রাব্বি বলেন, আমি এ উপজেলায় অল্প কয়েক দিন হলো দায়িত্ব নিয়েছি। মাদকের বিস্তার রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলাল বলেন, বিগত সরকারের সময়ের তুলনায় কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার অনেকাংশে কমেছে। তবে এখনো যে পরিমাণ মাদক রয়েছে, তার বিরুদ্ধেও আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মাদক কারবারিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
উপজেলায় জিপিএ-৫ মাত্র দুই, দুজনই যমজ বোন
বাবার বেকারত্ব, সংসারের অভাব-অনটন আর নানা সীমাবদ্ধতা পেছনে ফেলে সাফল্যের দেখা পেয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার যমজ দুই বোন রহিমা সরদার ও রাবেয়া সরদার। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে দুজনই পেয়েছে জিপিএ-৫। উপজেলার ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে তারাই একমাত্র জিপিএ-৫ অর্জনকারী। তাদের এই সাফল্যে গর্বিত পরিবার ও এলাকাবাসী।
উপজেলায় জিপিএ-৫ মাত্র দুই, দুজনই যমজ বোন
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকের ব্যাগ ছিনতাইয়ের চেষ্টা, এরপর যা ঘটল
যশোরের সিঙ্গিয়া রেলস্টেশনে ট্রেনের ভেতর থেকে শাহেদ বায়ান (৬৫) নামে এক অস্ট্রেলীয় নাগরিকের ব্যাগ ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে আকাশ গাঙ্গুলী নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। 
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকের ব্যাগ ছিনতাইয়ের চেষ্টা, এরপর যা ঘটল
‘সন্ধ্যার পর বাইরে ঘোরাফেরা করলে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করা হবে’
কক্সবাজারে সন্ধ্যার পর বিনা কারণে বাইরে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আটক ও গ্রেপ্তার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী।
‘সন্ধ্যার পর বাইরে ঘোরাফেরা করলে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করা হবে’
পর্যটকদের জন্য খুললো সেন্টমার্টিন
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে প্রতি বছরই সেন্টমার্টিনে ভিড় করেন পর্যটকেরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপটি। তবে দ্বীপে পর্যটন শুরু হলেও চলছে না জাহাজ। আগামী ৫ থেকে ৬ নভেম্বরের মধ্যে এ রুটে জাহাজ চলাচল শুরুর চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই পাঁচ দিন পর্যটকেরা কীভাবে সেন্টমার্টিনে পৌঁছাবেন? জানা যাচ্ছে, এই সময় পর্যটকদের দ্বীপে যাতায়াতের জন্য ভরসা করতে হবে ট্রলার কিংবা স্পিডবোটের ওপর। অর্থাৎ, ১ থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত যারা সেন্টমার্টিন ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের এই বিকল্প জলযানেই যাতায়াত করতে হবে। তবে ট্রলার বা স্পিডবোটে যাতায়াতের ক্ষেত্রে আবহাওয়া, সমুদ্রের অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপটি ভ্রমণ করতে পারবেন। পর্যটকদের বরণ করে নিতে এরই মধ্যে নতুন সাজে প্রস্তুত করা হয়েছে দ্বীপের হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টগুলো। তবে পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও জাহাজ চলাচল নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা জটিলতা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেয়েছে তিনটি জাহাজ। কিন্তু এখনো নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ভয়েজ লাইসেন্স, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) রুট পারমিট এবং জাহাজ চলাচলের সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি। এ ছাড়া পর্যটকদের টিকিট বিক্রির জন্য ট্যুরিজম বোর্ডের সফটওয়্যারও এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় আপাতত কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরুর বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে আছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করে আগামী ৫ থেকে ৬ নভেম্বরের মধ্যে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে। আরটিভি/টিআর
পর্যটকদের জন্য খুললো সেন্টমার্টিন
উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্পের ৫০ বছর: স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রামীণ উন্নয়নের ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত
দেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে জনসম্পৃক্ততার এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত উলশী-যদুনাথপুর খাল খনন প্রকল্পের ৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ১৯৭৬ সালের এই দিনে যশোরের শার্শা উপজেলায় তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান খনন কাজের উদ্বোধন করেন।
উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্পের ৫০ বছর: স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রামীণ উন্নয়নের ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত
আরও পড়ুন
পুলিশ কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতাকে চাপা দিয়ে হত্যা, অতঃপর...
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ফের দুর্ঘটনা, সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
দাদার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তা
মঠবাড়িয়ায় ডাকাত সর্দার ইয়াসিন গ্রেপ্তার