মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর শহরে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক ঘটনা বেড়েই চলেছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধী শনাক্তে শহরজুড়ে সিসি ক্যামেরা বসানো হলেও নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো বিকল হয়ে পড়ে আছে। থানা পুলিশ বলছে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও সিসি ক্যামেরা পুনঃস্থাপনে পরিকল্পনা রয়েছে।
মঠবাড়িয়া উপজেলা দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহত্তম উপজেলা। এর প্রশাসনিক কেন্দ্র ও প্রধান শহরাঞ্চল হলো মঠবাড়িয়া পৌর শহর। প্রতিদিন নানা প্রয়োজনে বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রাম থেকে শহরে আসেন হাজার হাজার মানুষ।
বাসিন্দা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধী শনাক্তে ২০২৪ সালে প্রথম পুরো শহরকে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনে পুলিশ ও পৌরসভা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অনেকগুলো সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে শহরের সার্বিক চিত্র পুলিশ মনিটরিং সেল থেকে পর্যবেক্ষণ করা হতো।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পৌর শহরের প্রায় সব সিসি ক্যামেরাই বিকল হয়ে যায়, নয়তো খোয়া যায়। এরপর থেকে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পয়েন্টগুলোতে কার্যত নজরদারি বন্ধ। আর এই সুযোগই কাজে নিচ্ছে অপরাধীরা। পাড়া-মহল্লা থেকে বসতবাড়ি— প্রায়ই ঘটছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধের ঘটনা। ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে কিছু অপরাধী শনাক্ত হলেও অধিকাংশই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এতে অপরাধপ্রবণতা বাড়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন পৌরবাসী।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও পৌরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঠবাড়িয়া পৌর শহরকে দ্রুত আবার সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা প্রয়োজন। এতে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য সহজ হবে।
এ ব্যাপারে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা অমল কৃষ্ণ সাহা বলেন, পৌর শহরকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসার জন্য আমরা পরিকল্পনা করছি, যাতে অপরাধ কমে আসে।
এ বিষয়ে পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মঠবাড়িয়া সার্কেল) পার্থ চক্রবর্তী বলেন, তার জানা মতে, মঠবাড়িয়া পৌর শহরে আগে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সেগুলো চুরি হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে শহরে ক্যামেরা নেই। তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি সভায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পুরো জেলাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আরটিভি/এমএইচজে




