ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

মধ্যরাতে স্টেশনে শিশু, আশ্রয় দিতে প্রশাসনের গড়িমসি

নীলফামারী প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৭ এএম
মার্জান (৮)। ছবি: আরটিভি

নীলফামারীর ডোমার রেলওয়ে স্টেশনে গভীর রাতে মার্জান (৮) নামের এক শিশুকে পাওয়া গেলেও তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে প্রশাসনের গড়িমসি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। দায়িত্ব কোন প্রতিষ্ঠানের, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দায় এড়ানোর প্রবণতা দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে ডোমার রেলওয়ে স্টেশনে শিশুটিকে একা ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা শিশুটির সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, তার নাম মার্জান। তার বাবার নাম শফিকুল ইসলাম এবং মায়ের নাম মর্জিনা। শিশুটি জানায়, তার বাড়ি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ওকড়াবাড়ি মাটিয়ালপাড়া এলাকায়। রাত ১১টা থেকে রাত সোয়া ১টা পর্যন্ত বাচ্চাটিকে স্থানীয়রা ধরে রাখলেও প্রশাসনের কোনো খবর মেলেনি।

স্থানীয়দের ধারণা, রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে শিশুটি ডোমার স্টেশনে নেমে পড়ে অথবা কোনোভাবে ট্রেনে করে এখানে এসে পৌঁছেছে।

খবর পেয়ে শিশুটিকে দেখতে স্টেশনে স্থানীয়দের ভিড় জমে। তবে রাত বাড়লেও তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত লোকজন।

স্থানীয় যুবক সজিব ও নুর আলম জানান, শিশুটিকে পাওয়ার পর তারা জরুরি সেবা ৯৯৯-সহ ডোমার থানা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে কেউ আগ্রহ দেখাননি। তাদের ভাষ্য, পুলিশকে বিষয়টি জানালে তারা সমাজসেবা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। আবার সমাজসেবার নম্বরে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন

ডোমার রেলওয়ে স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার বাবু হোসেন বলেন, আমরা চাইলে শিশুটিকে স্টেশনে রাখতে পারি না। এটি আমাদের দায়িত্বের আওতায় পড়ে না। বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের। তবে গভীর রাতে রেলওয়ে পুলিশের কাছে শিশুটিকে পৌঁছে দেওয়াও কঠিন। বাচ্চাটার যেন সমস্যা না হয়, সে জন্য স্থানীয়দের সঙ্গে আমরাও দেখাশোনা করছি।

এ বিষয়ে ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, এ ধরনের বিষয় সমাজসেবা বিভাগের অধীনে পড়ে। তবে শিশুটির দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, ডোমার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্ত্রীকে হত্যার পর ৯৯৯-এ কল দিলেন স্বামী
নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পরকীয়ার সন্দেহ ও পারিবারিক কলহের জের ধরে সুফিয়া আক্তার নিশি নামে এক গৃহবধূকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী আব্দুল মান্নান মনিরের বিরুদ্ধে।
স্ত্রীকে হত্যার পর ৯৯৯-এ কল দিলেন স্বামী
ঝালকাঠিতে মাদক মামলায় কারাবন্দি নারীর মৃত্যু
ঝালকাঠিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাদক মামলায় কারাবন্দি কাজল রেখা (৩৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
ঝালকাঠিতে মাদক মামলায় কারাবন্দি নারীর মৃত্যু
তাজমিন হত্যা  / সেই সুমনকে নিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
কুমিল্লা আলোচিত স্কুলছাত্রী জান্নাতুন তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সুমন মিয়াকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।   পুলিশের ভাষ্য, সুমন মিয়া নিয়মিত গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করতেন। তিনি নিজের বাড়িঘর বিক্রি করে দীর্ঘদিন ধরে লালমাইয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। তার মাদকাসক্তির কারণে শ্বশুরবাড়ির লোকজন অতিষ্ঠ ছিলেন।  পুলিশ জানায়, সুমন মিয়ার বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসাবে বসবাস করে আসছিলেন। তিনি পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক।  স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, মাদকসেবনের জন্য তিনি শ্বশুরের সব দামি আসবাব একে একে বিক্রি করে দিয়েছেন। একপর্যায়ে স্ত্রী তার বিরুদ্ধে মামলাও করেন। পরে বাধ্য হয়ে সন্তান নিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন তিনি। এরপর সুমন অটোরিকশা চালিয়ে মাদকসেবন করে বিভিন্ন জায়গায় থাকতেন। তদন্ত ও সুমনের স্বীকারোক্তির বরাতে পুলিশ জানায়, গত বুধবার মধ্যরাতে কক্সবাজার থেকে ফিরে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় নামে তাজমিন। সেখান থেকে কুমিল্লা শহরের বাসায় যাওয়ার জন্য ৩০০ টাকায় সুমনের অটোরিকশা ভাড়া করে সপ্তম শ্রেণিপড়ুয়া এই কিশোরী। শর্টকার্ট পথের কথা বলে সুমন একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় তাকে।  আতঙ্কিত হয়ে তাজমীন চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে সুমন তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন। ধর্ষণের চেষ্টা করলে বাধা দেয় তাজমিন। এ সময় ধানখেতে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। পরে তার গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে ধর্ষণের পর মাটিতে ফেলে পা দিয়ে চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সুমন। তার ব্যানিটি ব্যাগ থেকে আইফোন নিলেও পরে একটি জঙ্গলে ফেলে চট্টগ্রামে পালিয়ে যান তিনি।  বৃহস্পতিবার সেখান থেকে কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গোয়েন্দা ও থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে।  তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাগমারার একটি জঙ্গল থেকে সেই আইফোনটি উদ্ধার করা হয়। শনিবার রাতে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে সুমন। পরে তাকে জেলা কারাগারে পাঠান বিচারক।  লালমাই থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘাতক সুমন মিয়া একজন উচ্চমাত্রার নেতাগ্রস্ত। গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করত। তার অপকর্মের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।  কুমিল্লার ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেন, মামলা তদন্তের স্বার্থে কথিত প্রেমিক রাজু চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের পর কুমিল্লায় আনা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আরটিভি/এসআর
সেই সুমনকে নিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
সাভারে গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালে আগুন
সাভারের মির্জানগরে গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালের একটি কক্ষে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে রবিউল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ ইলেকট্রিশিয়ান।
সাভারে গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালে আগুন
কক্সবাজার সৈকত বেলাভূমিতে ৫০ ফুটের প্লাস্টিক দানব
পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে নির্মাণ করা হয়েছে ব্যতিক্রমী ভাস্কর্য ‘প্লাস্টিক দানব’।  
কক্সবাজার সৈকত বেলাভূমিতে ৫০ ফুটের প্লাস্টিক দানব
আরও পড়ুন
নারী-শিশুর সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি
বাল্যবিবাহ ও বৈষম্য রোধে কন্যাশিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
কন্যাশিশুর শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু