
নাটোরের লালপুরে রান্নাঘরে কাজ করার সময় নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মোস্তফা আলী নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দিতে গেলে ওই নারীর ভাগ্নেকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে ওই যুবক। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার পালিদেহা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বজন লালপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পালিদেহা গ্রামের মো. মোস্তফা আলী (৩০) দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের সংখ্যালঘু বিধবা নারীকে (৪১) কুপ্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর একা থাকায় তাকে প্রায়ই বিরক্ত ও উত্ত্যক্ত করতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার দিন ওই নারী রান্নাঘরে কাজ করছিলেন। এ সময় মোস্তফা আলী হাঁসুয়া হাতে নিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং ভয়ভীতি দেখান। নারীর চিৎকারে তার ভাগ্নে এগিয়ে গিয়ে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত মোস্তফা ওই নারীর ভাগ্নের পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাঁসুয়া দিয়ে কোপ দেন।
স্থানীয়রা আহত কিশোরকে উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তার শরীরে ২০ থেকে ২৫টি সেলাই দেন। তিনি লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, অনেক দিন ধরেই আমাকে বিরক্ত করত। রোববার (৩০ আগস্ট) জোর করে ঘরে ঢুকে খারাপ কাজ করতে চায়। আমি চিৎকার করলে আমার ভাগ্নে বাঁচাতে এলে তাকে কুপিয়ে আহত করে।
থানায় অভিযোগকারী ওই নারীর স্বজন বলেন, আমরা সংখ্যালঘু হওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ওপর অত্যাচার করছে।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, অভিযুক্ত মোস্তফা আলীর বিরুদ্ধে আগেও এমন নানা অভিযোগ রয়েছে। তিনি এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে চলাফেরা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোস্তফা আলীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরটিভি/এসএস


