ঢাকা রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

অসহায় মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করাই রুবেলের শখ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

অসহায় পরিবারের মেয়েদের নিজের সন্তানের মতো করে বিয়ে দেন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ব্যবসায়ী রুহুল আমিন রুবেল। গত ২৪ বছরে নিজের উপার্জনের টাকায় ১১৩ জন মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছেন তিনি। বিয়ের পোশাক, গয়না, উপহারসামগ্রী থেকে শুরু করে সাজসজ্জা ও খাবারের সব খরচই বহন করেন নিজে।

সর্বশেষ গত ৯ অক্টোবর নওগাঁর মান্দা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের ভ্যানচালক আফছার আলীর মেয়ে আফসানা মিমির (২০) বিয়ের আয়োজন করেন তিনি। নাটোর সদর উপজেলার সবুজ মণ্ডলের ছেলে কাউছার মণ্ডলের (২২) সঙ্গে বিয়ে হয় আফসানার।

আফসানার বাবা আফছার আলী ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান। আর্থিক সংকটের কারণে মেয়ের বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। পরে রুহুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিয়ের সব দায়িত্ব নেন এই ব্যবসায়ী। গায়েহলুদ থেকে শুরু করে বিয়ের যাবতীয় আয়োজন করেন নিজের মেয়ের মতো করে।

আফসানা জানান, অর্থাভাবে তার বাবা বিয়ের আয়োজন নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে রুহুল আমিন যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা তার কল্পনার বাইরে ছিল। এ জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নববধূ। বর কাউছারও রুহুল আমিনকে বিয়ের উকিল বাবা হিসেবে উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা জানান।

বিয়ের দিন কনের বাড়িতে ছিল উৎসবের আমেজ। অতিথি ও বরযাত্রীদের আপ্যায়নে গরু, খাসি, মুরগি, ডিম ও পোলাওসহ নানা পদের খাবারের আয়োজন করা হয়। জুমার নামাজের পর বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়িতে আসেন কাউছার। রুহুল আমিন সোনার আংটি দিয়ে বরকে বরণ করেন। পরে সম্পন্ন হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।

নিজের উদ্যোগে আয়োজন করা প্রতিটি বিয়ের তারিখ ও স্থান লিখে রাখেন রুহুল আমিন। অনেক বিয়ের ছবি ও ভিডিওও সংরক্ষণ করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে এক মেয়ের বাবা এই ব্যবসায়ী অসচ্ছল পরিবারের মেয়েদের বিয়ে দেওয়াকে নিজের শখ হিসেবে নিয়েছেন।

এর আগে গত ২১ আগস্ট ১১২তম বিয়ের আয়োজন করেন তিনি। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বালাদিয়া গ্রামের এতিম তরুণী সুমাইয়া আক্তারের বিয়েতে সহযোগিতা করেন। তার মা জহুরা বেওয়া জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর মাঠে-ঘাটে কাজ করে মেয়েকে বড় করেছেন। মেয়ের বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকলেও রুহুল আমিনের সহায়তায় সম্মানের সঙ্গে সেই দায়িত্ব সম্পন্ন করতে পেরেছেন।

এ ছাড়া গত ২১ জুন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ঈশানগাতি গ্রামের জালাল মোল্লার মেয়ে রাবেয়া খাতুনের বিয়ের আয়োজন করেন তিনি। আট বছর আগে ক্যানসারে বাবাকে হারানো রাবেয়াও তার সহযোগিতায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিয়ে করতে পেরে কৃতজ্ঞতা জানান।

রুহুল আমিনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম, এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা। ওয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম বলেন, রুহুল আমিন অসচ্ছল পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে সহযোগিতা করেন এবং নিজে উপস্থিত থেকে সব আয়োজন সম্পন্ন করেন। বড়াইগ্রামের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌসও তার এই মানবিক উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।

রুহুল আমিন বলেন, নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে হতদরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়ে দেওয়াই তার শখ। এর বিনিময়ে পার্থিব জীবনে কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা নেই তার। ১১৩ জন মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, এই মেয়েরা তারই সন্তান, আর তাদের স্বামীরা তার জামাই।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পাইকগাছায় ১৫১ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, প্রতিমায় পড়ছে রং-তুলির শেষ আঁচড়
খুলনার পাইকগাছায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১৫১টি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষে এখন চলছে রং করা ও সাজসজ্জার কাজ। দেবী দুর্গাসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমায় রংতুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভাস্কর ও কারিগরেরা। একই সঙ্গে মণ্ডপে প্যান্ডেল, তোরণ নির্মাণ এবং আলোকসজ্জার কাজও এগিয়ে চলছে।
পাইকগাছায় ১৫১ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, প্রতিমায় পড়ছে রং-তুলির শেষ আঁচড়
আদালতের সঙ্গে প্রতারণার প্রমাণ মিলল তদন্তে, ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহোদর কোটায় তিন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে জালিয়াতি ও সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে মিথ্যা তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রতারণার প্রমাণ পেয়েছে উপজেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে জেলা প্রশাসন।
আদালতের সঙ্গে প্রতারণার প্রমাণ মিলল তদন্তে, ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি
অচেতন শিশুকে ফেলে পালাচ্ছিলেন বৃদ্ধ, অতঃপর...
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে এক চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রবিউল ইসলাম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে আটক করেছে পুলিশ।
অচেতন শিশুকে ফেলে পালাচ্ছিলেন বৃদ্ধ, অতঃপর...
মোটরসাইকেল আটকে ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুর্বৃত্তদের হামলায় বদরুল আলম নামে এক ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা সাদেক মিয়া নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
মোটরসাইকেল আটকে ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
ভালোবেসে বিয়ে, এক বছরের মাথায় পরকীয়া সন্দেহের জেরে স্ত্রীকে হত্যা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া গৃহবধূ চন্দনা রানী শীলের (২২) হত্যার ঘটনায় তার স্বামী শিমুল শীলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৭। শনিবার (১০ অক্টোবর) এসআরবি ৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে, গত শুক্রবার সকালে সীতাকুণ্ডের বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল উচ্চবিদ্যালয়ের পেছনে একটি জমির আইল থেকে চন্দনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার দুই হাত কাপড় দিয়ে বাঁধা এবং গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা তার পরিচয় শনাক্ত করেন। এসআরবি-৭ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সীতাকুণ্ডের বড় দারোগারহাট এলাকায় কুমিরা হাইওয়ে থানার সামনে থেকে শিমুল শীলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে টেরিয়াইল বাজারের লাকি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে পীযুষ শীল ওরফে প্রিতমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে বারবকুণ্ডের মান্দারীটোলা এলাকা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার রাত ১২টা ১৫ মিনিটে ফকিরহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মো. ইলিয়াসকে। নজরুল ও ইলিয়াসকে তদন্তে পাওয়া আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছে এসআরবি। এদিকে এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত চন্দনার স্বামী শিমুল শীল গতকাল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি আরও দুই তরুণকে সঙ্গে নিয়ে স্ত্রীকে হত্যার কথা জানিয়েছেন। চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাখাওয়াত হোসেনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন চন্দনার স্বামী শিমুল শীল।  পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে শিমুলের সঙ্গে চন্দনার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে চন্দনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে পরিবারের অভিযোগ।  ঘটনার আগের দিনও নির্যাতনের শিকার হয়ে চন্দনা বাবার বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন। পরে তার স্বামী তাকে আবার ডেকে নিয়ে যান। এর এক দিন পর পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর পান। এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া শিমুল জবানবন্দিতে আদালতকে জানান, তার স্ত্রী চন্দনা রানীর সঙ্গে নজরুলের সম্পর্ক ছিল বলে তার সন্দেহ। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। ঘটনার দিন রাতে তিনি এ নিয়ে চন্দনাকে জেরা করেন। সেখানে নজরুলও ছিলেন। একপর্যায়ে চন্দনা মামলার হুমকি দিলে তারা চন্দনাকে হত্যা করেন। হত্যায় নজরুলের বন্ধু ইলিয়াসও অংশ নেন। তিনজন মিলেই চন্দনাকে খুন করেন তারা। পুলিশ জানায়, নজরুল ইসলাম ও ইলিয়াস হোসেন দুজনেই বন্ধু। নজরুল সিএনজি অটোরিকশার চালক এবং ইলিয়াস মিনিবাসের চালক। শিমুল ও পীযূষ দুজনেই কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ডাম্পিং স্টেশনে প্রহরীর কাজ করেন। নজরুলের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসা-যাওয়া করতে গিয়ে চন্দনার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এ নিয়ে স্বামীর সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। আর এর জের ধরেই শিমুল ও নজরুল তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেন। হত্যায় অংশ নেন নজরুলের বন্ধু ইলিয়াসও। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর দায়ের করা হত্যা মামলার শিমুল ও পীযূষকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদের পর শিমুল হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন এবং নজরুল এবং ইলিয়াসের জড়িত থাকার তথ্য দেন। এরপর রাতেই নজরুল এবং ইলিয়াসকে ভাটিয়ারী ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। আরটিভি/এসআর  
ভালোবেসে বিয়ে, এক বছরের মাথায় পরকীয়া সন্দেহের জেরে স্ত্রীকে হত্যা
আরও পড়ুন
এক ক্যামেরাম্যানের সঙ্গে তিন বোনের বিয়ে, ভিডিও ভাইরাল
আজ টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
‘বাপের বাড়িতে চলে যাও’ বললে কি তালাক হয়ে যায়?
বিয়ের চার মাস পর জানলেন ‘স্ত্রী’ একজন পুরুষ