ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীর বাঁধ দখলে প্রভাবশালী চক্র, নীরব প্রশাসন

পঞ্চগড় প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীর রক্ষাবাঁধ দখল করে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন, সেমিপাঁকাঘর, দোকান সহ নানা স্থাপনা। কেউ আবার বাঁধের ব্লক সড়িয়ে নদীর জমিতে গাছ লাগিয়ে আরসিসি পিলার ও ইট দিয়ে দেয়াল তৈরী করে অভিনব কায়দায় করেছেন দখল। তবে লোক পাঠিয়ে বাড়ি নির্মানের প্লান ও কাগজপত্র দেখে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস পঞ্চগড় পৌরসভার। আর পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, দখলের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করা হবে। তবে দ্রুতই নদী দখলমুক্ত করে প্রকৃতির রুপ ফিরে চান স্থানীয়রা।

সরেজমিনে ঘুরে যা দেখা গেল

গত মঙ্গলবার (১লা সেপ্টেম্বর) পঞ্চগড় জেলা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনগড় সিনেমাহল এলাকা থেকে রাজনগড় খালপাড়া এলাকা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয়রা সহ অনেকে করতোয়া নদীর রক্ষাবাঁধ দখল করে গড়ে তুলেছেন নানা স্থাপনা। কেউ নির্মাণ করেছেন বহুতল ভবন আবার কেউ দোকানঘর। কেউবা বাঁধের জায়গাতে বাথরুম নির্মাণ করে দখলে নিয়েছেন। আবার কেউ নদীর ধারেই আরসিসি পিলার দিয়ে তৈরী করেছেন ইটের দেয়াল। এভাবেই আস্তে আস্তে নদীর জায়গা নিজেদের দখলে নিচ্ছে প্রভাবশালী একটি চক্র। তাদের আবার এসব দখলে সহায়তা করছেন বিগত ও বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে নদীর বাঁধের মত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল হলেও চুপচাপ পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পৌরসভা। অনুমোদন নিয়ে নাকি অনুমোদনহীনভাবে গড়ে উঠছে এসব স্থাপনা তা নিয়ে এখন তৈরী হয়েছে ধোঁয়াশা।

নদীর রক্ষাবাঁধ দখলকারীদের একজন প্রবাসী ফিরোজ আহাম্মেদ ২ শতক ১০ পয়েন্ট জমি কিনলেও নদীর জায়গা প্রায় আরো দুই শতকের বেশি দখল করে তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া নদীর ব্লক সড়িয়ে তিনি বালি ভরাট করে বাড়ি নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই সাথে নদীর পাড় ঘেষে আরসিসি পিলার দিয়ে সীমানা প্রাচীর তৈরী করে মেহগনি গাছের চারা লাগিয়েছেন। তার দখলের এসব চিত্র ধারণ করতে গেলে তিনি এই প্রতিনিধির ছবি বাড়ির তিনতলা থেকে মুঠোফোনে ধারণ করেন। পরে তার সাক্ষাতকার নিতে গেলে তিনি এই প্রতিনিধি সহ কয়েকজন গণমাধ্যেমকর্মীর সাথে খারাপ আচরণ করেন। এছাড়া নিয়ম মেনে বাড়ি সহ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন বলে দাবিও করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ বিগত সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের মেয়র জাকিয়াকে ম্যানেজ করেই তিনি ভবনের অনুমোদন নিয়ে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে বিএনপি নেতাকর্মীদের সহায়তা নিচ্ছেন তিনি।

তবে ফিরোজের মত অনেকেই নদীর জমিতে দোকান সহ সেমি পাঁকা বাড়ি নির্মাণ করলেও তাদের দেদারসে অনুমোদন দিচ্ছেন পৌরসভা এমনই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

যা বলছেন দখলকারীরা

তবে রক্ষাবাঁধ দখলের বিষয়টি কেউ অস্বীকার করে বলছেন নিজের জায়গাতে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। কেউ আবার সব স্বীকার করে বলছেন, অপ্রয়োজনীয় জায়গা থাকায় স্থাপনা নির্মাণ করেছেন তারা। তবে সরকার উচ্ছেদ বা ভেঙ্গে দিলে আপত্তি নেই তাদের।

নদীর জমি দখলকারী ফিরোজ আহাম্মেদ বলেন, আপনারা যা দেখেছেন ভূয়া দেখেছেন। নদীর জায়গা দখল করিনি। সেখানে একটি গাইড ওয়াল দেয়া হয়েছে। যাতে করে পানিতে বাড়ির কোন ক্ষতি করে বা ভেঙ্গে দিতে না পারে। পৌরসভার সবাই এসেছে সবাই দেখে গেছে। আমি যে জায়গাটুকু বাড়তি করেছি সরকারের যখন প্রয়োজন হবে তখন ভেঙ্গে দিবে।

শহীদুল ইসলাম নামে আরেকজন বলেন, যে জায়গাতে বাড়ি করে আছি সেখানে আসলে জায়গা হচ্ছে না। একারণে ভাবলাম ওদিকে তো জায়গা ফাকা আছে। তাই একটু জায়গাতে বাথরুমের কাজ করেছি। তবে সরকার যদি নিয়ে নেয় তাহলে তো আমাদের করার কিছু নেই।

যা বলছেন স্থানীয় মানুষজন

স্থানীয় মানুষজন বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে করতোয়া নদীর রক্ষাবাঁধ দখল করে অনেক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। একাধিকবার বলার পরেও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পৌরসভা কোন ব্যবস্থা নেয় নি। সরকারি স্থাপনা বা জায়গা অবৈধ দখলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের গাফিলতিকে দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে দ্রুতই নদী দখলমুক্ত করে প্রকৃতির রুপ ফিরে চান স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম ইরান বলেন, পঞ্চগড় পৌরসভার রাজনগড় সিনেমা হল থেকে খালপাড়া পর্যন্ত মানুষজন নদীর জমি দখল করে নানা স্থাপনা নির্মাণ করছে। পৌরসভা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাই নি। নিশ্চয়ই তারা এসবে জড়িত আছে নাহলে তারা কেন চুপ আছে।

স্থানীয় গৃহিনী মুন্না আক্তার বলেন, নদীর ধারে বসে আমরা একটু বাতাস খাইতাম আগে। কিন্তু এখন নদীর জায়গা দখল করে নদীর ব্লক সড়িয়ে মানুষজন বাড়ি নির্মাণ করছে। যদি এসব জায়গা দখলমুক্ত করা না যায় তাহলে আমাদের পরিবেশের জন্য ক্ষতি হতে পারে।

যা বলছেন পৌরসভা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা

পঞ্চগড় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব সাহা বলেন, যদি কেউ নদীর জায়গাতে বহুতল ভবন নির্মাণ করে তাহলে লোক পাঠিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। এছাড়া প্লান পাসের কাগজপত্র দেখে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসও দেন পঞ্চগড় পৌরসভার এই কর্মকর্তার।

পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ বর্মন বলেন, নদী দখলের একটি তালিকা করা হচ্ছে। তবে যদি কেউ নদীর জায়গা দখল করে থাকে তাহলে উদ্ধারে জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যুক্ত হচ্ছে মহানগর এক্সপ্রেস, টিকিট বিক্রি শুরু আজ
ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে চলাচল করবে মহানগর এক্সপ্রেস। এতে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীসহ মধ্যবর্তী বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যুক্ত হচ্ছে মহানগর এক্সপ্রেস, টিকিট বিক্রি শুরু আজ
সৌদি থেকে বিকল্প পথে দেশে ফিরেছেন ৫০ ওমরাহযাত্রী
পবিত্র ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবে গিয়ে আটকে পড়া পাবনার ঈশ্বরদীর ৫০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুসহ দেশে ফিরেছেন। বিকল্প পথে কাতার হয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোরব) সন্ধ্যায় তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
সৌদি থেকে বিকল্প পথে দেশে ফিরেছেন ৫০ ওমরাহযাত্রী
২০ বছরের কর্মজীবন শেষে ঘোড়ার গাড়িতে আবেগঘন বিদায়
দীর্ঘ ২০ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন দিনাজপুরের ঈদগাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুর রহমান। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেওয়া, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহযোগিতা এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রেখে তিনি অর্জন করেছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও অভিভাবকদের ভালোবাসা।
২০ বছরের কর্মজীবন শেষে ঘোড়ার গাড়িতে আবেগঘন বিদায়
ছোট্ট এক ভুলেই জীবন গেল নেত্রকোনার সেই সাংবাদিকের!
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে শ্বশুরবাড়ির পাশে একটি চায়ের দোকানে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া আটটার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার তেলনজিয়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।
ছোট্ট এক ভুলেই জীবন গেল নেত্রকোনার সেই সাংবাদিকের!
টিকিট দেখতে চাওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে স্টেশনমাস্টার-টিসিকে মারধর
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট দেখতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে ভারপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার ও টিকিট কালেক্টরকে (টিসি) মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক যাত্রী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
টিকিট দেখতে চাওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে স্টেশনমাস্টার-টিসিকে মারধর
আরও পড়ুন
পঞ্চগড়ের মেঘমুক্ত আকাশে উঁকি দিচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা
পানির ন্যায্য হিস্যা দিয়েই ভারতকে বন্ধুত্বের প্রমাণ দিতে হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
মসজিদগুলোকে দলীয় কার্যালয় বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
বিএসএফের বড় অপচেষ্টা রুখে দিলো বিজিবি