ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীর বাঁধ দখলে প্রভাবশালী চক্র, নীরব প্রশাসন

পঞ্চগড় প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীর রক্ষাবাঁধ দখল করে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন, সেমিপাঁকাঘর, দোকান সহ নানা স্থাপনা। কেউ আবার বাঁধের ব্লক সড়িয়ে নদীর জমিতে গাছ লাগিয়ে আরসিসি পিলার ও ইট দিয়ে দেয়াল তৈরী করে অভিনব কায়দায় করেছেন দখল। তবে লোক পাঠিয়ে বাড়ি নির্মানের প্লান ও কাগজপত্র দেখে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস পঞ্চগড় পৌরসভার। আর পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, দখলের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করা হবে। তবে দ্রুতই নদী দখলমুক্ত করে প্রকৃতির রুপ ফিরে চান স্থানীয়রা।

সরেজমিনে ঘুরে যা দেখা গেল

গত মঙ্গলবার (১লা সেপ্টেম্বর) পঞ্চগড় জেলা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনগড় সিনেমাহল এলাকা থেকে রাজনগড় খালপাড়া এলাকা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয়রা সহ অনেকে করতোয়া নদীর রক্ষাবাঁধ দখল করে গড়ে তুলেছেন নানা স্থাপনা। কেউ নির্মাণ করেছেন বহুতল ভবন আবার কেউ দোকানঘর। কেউবা বাঁধের জায়গাতে বাথরুম নির্মাণ করে দখলে নিয়েছেন। আবার কেউ নদীর ধারেই আরসিসি পিলার দিয়ে তৈরী করেছেন ইটের দেয়াল। এভাবেই আস্তে আস্তে নদীর জায়গা নিজেদের দখলে নিচ্ছে প্রভাবশালী একটি চক্র। তাদের আবার এসব দখলে সহায়তা করছেন বিগত ও বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে নদীর বাঁধের মত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল হলেও চুপচাপ পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পৌরসভা। অনুমোদন নিয়ে নাকি অনুমোদনহীনভাবে গড়ে উঠছে এসব স্থাপনা তা নিয়ে এখন তৈরী হয়েছে ধোঁয়াশা।

নদীর রক্ষাবাঁধ দখলকারীদের একজন প্রবাসী ফিরোজ আহাম্মেদ ২ শতক ১০ পয়েন্ট জমি কিনলেও নদীর জায়গা প্রায় আরো দুই শতকের বেশি দখল করে তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া নদীর ব্লক সড়িয়ে তিনি বালি ভরাট করে বাড়ি নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই সাথে নদীর পাড় ঘেষে আরসিসি পিলার দিয়ে সীমানা প্রাচীর তৈরী করে মেহগনি গাছের চারা লাগিয়েছেন। তার দখলের এসব চিত্র ধারণ করতে গেলে তিনি এই প্রতিনিধির ছবি বাড়ির তিনতলা থেকে মুঠোফোনে ধারণ করেন। পরে তার সাক্ষাতকার নিতে গেলে তিনি এই প্রতিনিধি সহ কয়েকজন গণমাধ্যেমকর্মীর সাথে খারাপ আচরণ করেন। এছাড়া নিয়ম মেনে বাড়ি সহ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন বলে দাবিও করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ বিগত সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের মেয়র জাকিয়াকে ম্যানেজ করেই তিনি ভবনের অনুমোদন নিয়ে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে বিএনপি নেতাকর্মীদের সহায়তা নিচ্ছেন তিনি।

তবে ফিরোজের মত অনেকেই নদীর জমিতে দোকান সহ সেমি পাঁকা বাড়ি নির্মাণ করলেও তাদের দেদারসে অনুমোদন দিচ্ছেন পৌরসভা এমনই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

যা বলছেন দখলকারীরা

তবে রক্ষাবাঁধ দখলের বিষয়টি কেউ অস্বীকার করে বলছেন নিজের জায়গাতে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। কেউ আবার সব স্বীকার করে বলছেন, অপ্রয়োজনীয় জায়গা থাকায় স্থাপনা নির্মাণ করেছেন তারা। তবে সরকার উচ্ছেদ বা ভেঙ্গে দিলে আপত্তি নেই তাদের।

নদীর জমি দখলকারী ফিরোজ আহাম্মেদ বলেন, আপনারা যা দেখেছেন ভূয়া দেখেছেন। নদীর জায়গা দখল করিনি। সেখানে একটি গাইড ওয়াল দেয়া হয়েছে। যাতে করে পানিতে বাড়ির কোন ক্ষতি করে বা ভেঙ্গে দিতে না পারে। পৌরসভার সবাই এসেছে সবাই দেখে গেছে। আমি যে জায়গাটুকু বাড়তি করেছি সরকারের যখন প্রয়োজন হবে তখন ভেঙ্গে দিবে।

শহীদুল ইসলাম নামে আরেকজন বলেন, যে জায়গাতে বাড়ি করে আছি সেখানে আসলে জায়গা হচ্ছে না। একারণে ভাবলাম ওদিকে তো জায়গা ফাকা আছে। তাই একটু জায়গাতে বাথরুমের কাজ করেছি। তবে সরকার যদি নিয়ে নেয় তাহলে তো আমাদের করার কিছু নেই।

যা বলছেন স্থানীয় মানুষজন

স্থানীয় মানুষজন বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে করতোয়া নদীর রক্ষাবাঁধ দখল করে অনেক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। একাধিকবার বলার পরেও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পৌরসভা কোন ব্যবস্থা নেয় নি। সরকারি স্থাপনা বা জায়গা অবৈধ দখলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের গাফিলতিকে দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে দ্রুতই নদী দখলমুক্ত করে প্রকৃতির রুপ ফিরে চান স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম ইরান বলেন, পঞ্চগড় পৌরসভার রাজনগড় সিনেমা হল থেকে খালপাড়া পর্যন্ত মানুষজন নদীর জমি দখল করে নানা স্থাপনা নির্মাণ করছে। পৌরসভা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাই নি। নিশ্চয়ই তারা এসবে জড়িত আছে নাহলে তারা কেন চুপ আছে।

স্থানীয় গৃহিনী মুন্না আক্তার বলেন, নদীর ধারে বসে আমরা একটু বাতাস খাইতাম আগে। কিন্তু এখন নদীর জায়গা দখল করে নদীর ব্লক সড়িয়ে মানুষজন বাড়ি নির্মাণ করছে। যদি এসব জায়গা দখলমুক্ত করা না যায় তাহলে আমাদের পরিবেশের জন্য ক্ষতি হতে পারে।

যা বলছেন পৌরসভা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা

পঞ্চগড় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব সাহা বলেন, যদি কেউ নদীর জায়গাতে বহুতল ভবন নির্মাণ করে তাহলে লোক পাঠিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। এছাড়া প্লান পাসের কাগজপত্র দেখে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসও দেন পঞ্চগড় পৌরসভার এই কর্মকর্তার।

পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ বর্মন বলেন, নদী দখলের একটি তালিকা করা হচ্ছে। তবে যদি কেউ নদীর জায়গা দখল করে থাকে তাহলে উদ্ধারে জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এক ব্ল্যাক কার্প ১৭৫০০ টাকায় বিক্রি
ভোলার সদর উপজেলার মেঘনা নদীতে ২৪ কেজি ওজনের একটি ব্ল্যাক কার্প ধরা পড়েছে। পরে নিলামে মাছটি ১৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। 
এক ব্ল্যাক কার্প ১৭৫০০ টাকায় বিক্রি
শনিবার টানা সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ যেসব এলাকায়
বগুড়ার কাহালু উপজেলায় বৈদ্যুতিক লাইনে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) টানা সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
শনিবার টানা সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ যেসব এলাকায়
অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) পরিবর্তন করা হয়েছে।
অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তন
নামাজ পড়া অবস্থায় মুসল্লিকে ছুরিকাঘাত, বাঁচাতে আসা বাবাও আহত
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে জুমার নামাজের সময় সেজদারত অবস্থায় নাহিদ ইসলাম (২৪) নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে তার বাবা সাইফুর রহমানও (৫৫) আহত হয়েছেন।  শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) শান্তিগঞ্জ উপজেলার বীরগাঁও পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। আহত নাহিদ ও তার বাবা সাইফুর রহমান বীরগাঁও পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা। নাহিদের ভাই আবু বক্কর সিদ্দিক হিরু অভিযোগ করেন, মসজিদে নামাজরত অবস্থায় নাহিদ ও তার বাবা সাইফুর রহমানের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় জুবায়ের মেম্বার দাঁড়িয়ে থেকে হামলা করান বলে তিনি অভিযোগ করেন। হামলায় রেজাউল, আফজল, জুনেল, সেবির, সুবাদসহ আরও ৭-৮ জন ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাহিদ ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জুবায়েরের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। বীরগাঁও গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা হোসাইন বলেন, পূর্ববিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন। তার ভাষ্য, প্রথমে নাহিদের ওপর হামলা হয়। পরে ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তার বাবা সাইফুর রহমানও আহত হন। পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুজেল আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জুবায়ের ও নাহিদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের ঘটনায় নাহিদ প্রায় দেড় থেকে দুই মাস কারাভোগ করে সম্প্রতি বের হয়েছেন। রুজেল আহমেদ বলেন, আজ নাহিদ জুমার নামাজ পড়তে বীরগাঁও পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে যান। সেখানে সেজদারত অবস্থায় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় তার বাবা সাইফুর রহমানও আহত হন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য জুবায়ের আহমেদ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আমি ওই সময় ঘটনাস্থলে ছিলাম না। ইঞ্জিনিয়ারকে সঙ্গে নিয়ে একটা ব্রিজ পরিদর্শনে ছিলাম। বেশ কিছুদিন আগে এই নাহিদ একজনকে গুরতর আঘাত করেছে। এরপরেও সে বুক ফুলিয়ে রাস্তায় চলাফেরা করে এসব সহ্য হয়নি বলে এই হামলা হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা জানান, পূর্বের বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। যারা আহত হয়েছেন তাদের এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে এখনও কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। আরটিভি/এসআর
নামাজ পড়া অবস্থায় মুসল্লিকে ছুরিকাঘাত, বাঁচাতে আসা বাবাও আহত
সাতক্ষীরায় পুলিশের বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ৩
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ বিভিন্ন মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সাতক্ষীরায় পুলিশের বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ৩
আরও পড়ুন
সীমান্তবর্তী যুবকদের স্বাবলম্বী করতে বিজিবির প্রশিক্ষণ
সীমান্তের যুবকদের মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ দিল বিজিবি
অপহরণের পর ধর্ষণ, আর সইতে পারলো না স্কুলছাত্রী
মন্ত্রীর সামনেই তর্কে জড়ালেন দলীয় নেতাকর্মীরা