
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বিরল বৈশিষ্ট্যের একটি অ্যালবিনো জলঢোঁড়া সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। স্বাভাবিক জলঢোঁড়া সাপের শরীর বাদামি ও কালচে ছোপযুক্ত হলেও উদ্ধার হওয়া সাপটির শরীরের রং হলদেটে-সাদা। বন্যপ্রাণী গবেষক ও উদ্ধারকর্মীদের মতে, জন্মগত জিনগত বৈশিষ্ট্য ‘অ্যালবিনিজম’-এর কারণে সাপটির শরীরে এমন ব্যতিক্রমী রঙের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের হলদিয়াপুকুর গ্রাম থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের খবর পেয়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও উদ্ধারকারী সংস্থা ‘ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও উদ্ধারকর্মী মো. সহিদুল ইসলাম সাপটি উদ্ধার করেন।
সাপটি সাধারণ মানুষের কাছে জলঢোঁড়া এবং বিজ্ঞানীদের কাছে ‘চেকার্ড কিলব্যাক’ নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Fowlea piscator। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এটি সম্পূর্ণ নির্বিষ এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়।
প্রাণিবিদদের মতে, অ্যালবিনিজম কোনো রোগ বা আলাদা প্রজাতি নয়; এটি একটি জন্মগত জিনগত অবস্থা। এ বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রাণীর শরীরে রঞ্জক পদার্থ মেলানিন উৎপাদন কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শরীরের স্বাভাবিক রং পরিবর্তিত হয়ে সাদা কিংবা হলদেটে বর্ণ ধারণ করে। অনেক ক্ষেত্রে চোখের রংও লালচে বা অস্বাভাবিক হতে পারে। প্রকৃতিতে এ ধরনের অ্যালবিনো সাপের দেখা পাওয়া অত্যন্ত বিরল।
উদ্ধারকর্মী মো. সহিদুল ইসলাম জানান, জলঢোঁড়া সাপটি নির্বিষ হলেও এর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ও ক্ষত রয়েছে। অ্যালবিনিজমের কারণে এর গায়ের রং হলদেটে-সাদা হয়েছে, যা সচরাচর দেখা যায় না।
তিনি আরও জানান, সাপটির শারীরিক অবস্থা এবং খোলস পরিবর্তনের পর কোনো পরিবর্তন আসে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করতে এটিকে আপাতত নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে সাপটিকে আবারও প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।
আরটিভি/এসকে


